আদিবাসী নিয়ে দুই মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ, ৪৪ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ২৩:০২
আদিবাসীদের পরিচয় ও অস্তিত্ব নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের ৪৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা দুই মন্ত্রীর বক্তব্যকে বিতর্কিত ও অনভিপ্রেত উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১১ আগস্ট ঢাকায় ‘বাংলাদেশের জন্য আদিবাসী পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী জনগোষ্ঠী নেই। সব নাগরিককে কেবল বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেওয়া উচিত। জাতিসংঘের আদিবাসী অধিকারবিষয়ক ঘোষণাপত্র (ইউএনডিআরআইপি) ও আইএলও কনভেনশন ১৬৯ বাংলাদেশ অনুস্বাক্ষর করেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই আলোচনায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘আদিবাসী’ শব্দটি অপ্রাসঙ্গিক বলে দাবি করেন।
৪৪ নাগরিকের বিবৃতিতে বলা হয়, দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা দুই মন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য ‘অপ্রত্যাশিত’। এতে তারা হতাশ এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাঁদের ভাষ্য, এ ধরনের বক্তব্য শুধু অনভিপ্রেতই নয়, বরং আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র পরিচয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি, মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন মানবাধিকার কর্মী ও মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, নারীপক্ষের সদস্য শিরীন পারভিন হক, লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সভাপতি জেড আই খান পান্না।
এ ছাড়া বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মং উষা থোরাই, আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক ও সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদাসহ আরও অনেকে।
অন্যান্য স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী ও তবারক হোসেন, লেখক ও গবেষক রেহেনুমা আহমেদ ও পাভেল পার্থ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, ড. সামিনা লুৎফা, ড. জোবাইদা নাসরীন, ড. মির্জা তাসলিমা সুলতানা, ড. ফিরদৌস আজীম, অ্যাডভোকেট সালমা আলী, সাংবাদিক ও গবেষক সায়দিয়া গুলরুখ এবং গবেষক ও অধিকারকর্মী রোজিনা বেগম।
বিবৃতিতে আরও স্বাক্ষর করেছেন কবি ও গবেষক বিলু কবীর, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী পারভেজ হাসেম, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস, আদিবাসী কবি ও সংস্কৃতিকর্মী মিঠুন রাকসান, হাফিজ রশিদ খান, মানবাধিকারকর্মী দীপায়ন খীসা, সাংবাদিক ও অধিকারকর্মী জুয়েল মারাক, নৃবিজ্ঞানী ড. নাসরিন খন্দকার এবং আদিবাসী ও মানবাধিকারকর্মী হিরণ মিত্র চাকমা।