২৫ বছর পর দেশে ফিরে ফরিদ পেলেন পরিবারের সন্ধান
মোহাম্মদ ফরিদ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ০২:৩১
২৫ বছর আগে মাত্র ১০ বছর বয়সে দেশ ছেড়েছিলেন মোহাম্মদ ফরিদ। বাবার সঙ্গে প্রথমে যান পাকিস্তানে। সেখান থেকে দালালরা তাকে তুরস্কে নিয়ে যায়। এরপর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর মধ্যেই তাঁর দুই পা কাটা পড়ে। দীর্ঘদিনের দুঃসহ অভিজ্ঞতার পর গতকাল মঙ্গলবার ভোরে দেশে ফেরেন তিনি। তবে পরিবারের সদস্যদের কারও খোঁজ তিনি জানতেন না। দিনভর চেষ্টার পর তাকে পরিবারের সন্ধান দিয়েছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
ব্র্যাক জানিয়েছে, গতকাল ভোর সোয়া ৫টার দিকে টি কে ৭১২ ফ্লাইটে তুরস্ক থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ফরিদ। দীর্ঘদিন চর্চা না থাকায় ভালোভাবে বাংলায় কথা বলতে পারছিলেন না। তিনি শুধু নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম এবং কয়েকটি বিচ্ছিন্ন তথ্য দিতে পেরেছিলেন। বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে তাকে ব্র্যাকের আশকোনা মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে হস্তান্তর করা হয়। এরপর তাঁর সঙ্গে কথা বলে সকাল থেকেই পরিবারের সন্ধানে কাজ শুরু করেন ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মীরা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় দেশে ফেরার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা পালং ইউনিয়নের নাছির পাড়ায় তাঁর পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান সমকালকে বলেন, ফরিদকে পরিবারের সন্ধান দেওয়া ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ তাঁর কাছে খুব সীমিত তথ্য ছিল। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেসব তথ্য ছড়িয়ে দিই। পাশাপাশি কক্সবাজারে আমাদের সহকর্মীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার লাগানো হয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিকেলেই তাঁর পরিবারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাঁর বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ফরিদের ভাইয়ের নাম ছৈয়দ আলম। তাকে দ্রুত ঢাকায় এনে ফরিদের সঙ্গে দেখা করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরপর ফরিদকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ফরিদ ব্রাকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানান, তিনি তাঁর বাবা আয়ুব আলীর সঙ্গে জাহাজে করে পাকিস্তানে যান। সেখানে প্রায় ১০ বছর থাকার পর দালালরা তাঁকে সড়কপথে তুরস্কে নিয়ে যায়। তুরস্কে থাকাকালে এক ট্রেন দুর্ঘটনায় তাঁর দুই পা কাটা পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময় পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল না।
ব্র্যাকের কক্সবাজার মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় মরিচ্যা পালং এলাকার নাছির পাড়ায় গিয়ে ফরিদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। পরিবারটি জানায়, ফরিদের বাবা আয়ুব আলী পাকিস্তানে রয়েছেন। তাঁর তিন ছেলে ও এক মেয়ে। ফরিদ তাঁদের বড় ছেলে। দালালের মাধ্যমে তুরস্কে যাওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে তাঁর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।