ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী

জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী
×

সংলাপে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:০৩ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:১৫

দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের (টিভিইটি) কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ রোববার রাজধানীর ধানমন্ডির ড্যাফোডিল প্লাজা মিলনায়তনে ‘এ ন্যাশনাল ডায়ালগ অন টিভিইটি ফর এ স্কিলড অ্যান্ড প্রোডাকটিভ বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রচলিত ও গতানুগতিক শিক্ষার ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। উন্নত বাংলাদেশ গড়তে কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে পরিণত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়নে সরকার কাজ করছে।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ কারিগরি জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মীরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। বিদেশগামী কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা নিশ্চিত করে পাঠানো গেলে তারা আরও বেশি আয় করতে পারবেন এবং দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদানও বাড়বে।

মিলন বলেন, ‘এজন্য কারিগরি শিক্ষায় আমাদের আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে হবে।’

কারিগরি শিক্ষার অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে আরও চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে একটি মডেল কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ জন্য পৃথক একটি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়াই কারিগরি শিক্ষার উদ্দেশ্য হতে পারে না। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা উন্নয়ন, ব্যাবহারিক প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া।

ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. মো. তরিকুল ইসলাম চৌধুরী স্বাগত বক্তব্য দেন।

সংলাপে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কারিগরি খাতকে আরও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আরও পড়ুন

×