রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপ দরকার
আলোচনায় বিশেষজ্ঞদের অভিমত
‘কনফ্লুয়েন্স ২০২৬: অ্যা কনভেনিং অব পার্টনারশিপ, অ্যাপ্রিসিয়েশন অ্যান্ড কমিটমেন্ট’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:২১ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৪৭
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সমন্বিত ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আগমনের ৯ বছর পূর্তি এবং শরণার্থী সংকটের আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় শীর্ষক আলোচনায় এমন অভিমত জানানো হয়।
রাজধানীর হোটেল শেরাটনে শনিবার ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) আয়োজিত ‘কনফ্লুয়েন্স ২০২৬: অ্যা কনভেনিং অব পার্টনারশিপ, অ্যাপ্রিসিয়েশন অ্যান্ড কমিটমেন্ট’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে কাজ করে মিয়ানমারের ওপর অর্থবহ চাপ সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন এবং রোহিঙ্গাদের জন্য অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের বোঝা বহনে সহায়তা করতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে। রোহিঙ্গা সংকটকে কোনোভাবেই একটি বিস্মৃত সংকটে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানকে আমাদের বৈদেশিক নীতির অন্যতম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করেছে। আমরা কেবল মানবিক সহায়তার মাধ্যমে এই সংকট পরিচালনা করতে চাই না; বরং রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধান অর্জনে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির এশিয়া অঞ্চলের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক হাসিনা রহমান বলেন, ‘এই মানবিক সংকটের ৯ বছর কেটে গেছে, গতানুগতিক ধারায় আমরা এই সংকটকে সামনের বছরগুলোতে মোকাবিলা করতে পারব না। মানবিক সহায়তার তহবিল কমে আসছে এবং বিশ্বের মনোযোগ এই সংকট থেকে অন্যদিকে সরে যাচ্ছে, আমাদের অবশ্যই সম্মিলিতভাবে পরিকল্পনা করতে হবে। এই সংকটের টেকসই সমাধানে ও সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
রোহিঙ্গা মানবাধিকারকর্মী মিস লাকি করিম বলেন, যেকোনো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের রাখাইনে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও টেকসই জীবিকা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানবিক সহায়তার ওপর তাদের নির্ভরশীলতা কমে।
অনুষ্ঠানে দুটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সরকার, দাতা সংস্থা, মানবিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত সংস্থার প্রতিনিধি এবং শিক্ষাবিদরা রোহিঙ্গা সংকটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন। তারা রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার ও আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্রে রেখে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন।পাশাপাশি, দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোকে এই রেসপন্সের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে অংশ গ্রহণ করেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া, শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, বিশ্বব্যাংক এর ডিভিশনাল ডিরেক্টর (বাংলাদেশ ও ভুটান) জ্যাঁ পেসমে, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন বাংলাদেশ এর কর্মকর্তা হামাহ হোসেন, আইআরসি বাংলাদেশের অ্যাকটিং কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ রিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আইআরসি’র রিজিওনাল আডভোকেসি স্পেশালিষ্ট সাবিরা সুলতানা নুপুর।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও, শিক্ষাবিদ এবং রোহিঙ্গা সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
- বিষয় :
- রোহিঙ্গা
- রোহিঙ্গা সংকট
- শরণার্থী