ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত চান ব্যবসায়ীরা, সিন্ডিকেট নয়

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত চান ব্যবসায়ীরা, সিন্ডিকেট নয়
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ০০:২৩

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করার সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জনশক্তি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক নেতারা। তবে আবারও ‘২৫ এজেন্সির সিন্ডিকেট’ গড়ে ওঠার আশঙ্কা প্রকাশ করে উদ্বেগ জানিয়েছেন তাঁরা।

রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে বায়রার সাবেক নেতারা বলেন, সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলের মাধ্যমে ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে অতীতে অতিরিক্ত ফি ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অনেক কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে পারেনি। সিন্ডিকেটমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে আরও বিপুলসংখ্যক কর্মী বিনা বা স্বল্প খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২১ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে দেশটির বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএস। এর আগে ২০১৬ সালে ১০টি এবং ২০২২ সালে ২৫টি এজেন্সিকে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এসব এজেন্সি নিয়ে গঠিত ব্যবস্থাটি ‘সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিতি পায়। এবারও একই ধরনের ব্যবস্থা চালুর অভিযোগ উঠেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ রাখতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত শুক্রবার এফডব্লিউসিএমএস আরও ৩১২টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে। এসব এজেন্সি ২৫টি অনুমোদিত এজেন্সি ও বোয়েসেলের সাব-এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ তালিকাকে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়ার দেওয়া বিশেষ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে এটিকে ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

তবে ৩১২টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশের খবরে উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বায়রার সাবেক নেতারা। তাঁদের মতে, এসব এজেন্সিকে ‘সহযোগী এজেন্সি’ করা হলেও তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। ফলে বাস্তবে কর্মী পাঠানোর নিয়ন্ত্রণ ওই ২৫ এজেন্সির হাতেই থাকবে। এতে আগের সিন্ডিকেট ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রস্তুত করা ৪২৩টি এজেন্সির তালিকাকে বিতর্কিত ও অসম্পূর্ণ দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, শর্ত শিথিলের বিষয়ে যথাযথ তথ্য না দেওয়ায় প্রায় দুই হাজার বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

বায়রার সাবেক নেতারা বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী সরবরাহকারী দেশ নেপাল ও পাকিস্তান ইতোমধ্যে সীমিতসংখ্যক এজেন্সিনির্ভর ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সব বৈধ এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বায়রার সাধারণ সদস্যদের পক্ষে দেওয়া এ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন সংগঠনটির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব নূরুল আমিন, ফখরুল ইসলাম, আকবর হোসেন মঞ্জু ও মফিজ উদ্দিনসহ ২১ জন সদস্য।
 

আরও পড়ুন

×