এবার বর্জ্য জমা দিলেই মিলবে চাল-ডাল-তেল-লবণ-চিনি
বর্জ্য জমা দিয়ে অস্থায়ী স্টল থেকে প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য সংগ্রহ করেন হাজারীবাগের স্থানীয় বাসিন্দারা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৩৪
পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে বর্জ্যের বিনিময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। দু-চার কেজি বর্জ্য জমা দিলেই পাওয়া যাবে চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনি, আলু, ডিমসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য। ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ নামের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ডিএসসিসিকে সহযোগিতা করছে সামাজিক সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।
সোমবার রাজধানীর হাজারীবাগ মাঠে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। উদ্বোধনের পর স্থানীয় বাসিন্দারা নির্দিষ্ট পরিমাণ বর্জ্য জমা দিয়ে অস্থায়ী স্টল থেকে চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলু, টিস্যুসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্য সংগ্রহ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ নাগরিকদের এ কাজে সম্পৃক্ত করার একটি কার্যকর উদ্যোগ। প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য ড্রেন ও নালা-নর্দমায় ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য জমা দিলে একদিকে জলাবদ্ধতা কমবে, অন্যদিকে পরিবেশ সুরক্ষায়ও ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গুলিস্তানে একটি স্থায়ী স্টল নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে ডিএসসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে স্থায়ী স্টল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রগুলোর সুবিধাজনক স্থানে পথশিশুদের জন্য চেয়ার-টেবিল ও বইসহ ‘বই পড়ার বিনিময়ে খাবার’ কর্মসূচি চালু করা হবে।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রান্তিক মানুষকে শুধু সাহায্য না দিয়ে পরিচ্ছন্নতার অংশীদার করছি।’ তিনি জানান, গত দুই বছরে প্লাস্টিক বর্জ্য বিক্রি করে প্রায় এক কোটি টাকা আয় হয়েছে। এ অর্থ দিয়ে প্রায় চার লাখ মানুষকে খাবার দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
কতটুকু বর্জ্যে কী পাওয়া যাবে
কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বর্জ্য জমা দিয়ে বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহ করা যাবে। যেমন—
- আধা কেজি বর্জ্যে: একজনের জন্য ভাত-তরকারি
- ১ কেজিতে: ১ কেজি চাল, অথবা ১ কেজি লবণ, অথবা আধা কেজি সুজি, অথবা ৬টি ডিম, অথবা ২ প্যাকেট নুডুলস
- ২ কেজিতে: ১ কেজি ছোলা, অথবা ১টি টি-শার্ট, অথবা ১ প্যাকেট বিস্কুট, অথবা ১ প্যাকেট টোস্ট, অথবা ১ প্যাকেট চানাচুর
- ৩ কেজিতে: ১ কেজি মসুর ডাল, অথবা ১ কেজি চিনি
- ৪ কেজিতে: ২ কেজি আটা
- ৫ কেজিতে: ১টি মাছ, অথবা ১টি স্কুলব্যাগ, অথবা ১ লিটার সয়াবিন তেল
- ৬ কেজিতে: ১টি মুরগি
আগেও হয়েছিল এমন উদ্যোগ
এর আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র থাকাকালে আতিকুল ইসলামও প্রায় একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তখন মশার বংশবিস্তারের উপযোগী ডাবের খোসা, ক্যান, কমোডসহ বিভিন্ন সামগ্রী ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে জমা দিলে নগরবাসীকে স্বল্প পরিমাণ অর্থ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে ওই কর্মসূচি নগরবাসীর মধ্যে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি।
এবার বর্জ্যের বিনিময়ে অর্থের বদলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষের আশা, এ কর্মসূচি নগরবাসীর মধ্যে বেশি সাড়া ফেলবে এবং একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।