ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতে ৬ মাস শুল্ক-কর অব্যাহতি

সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতে ৬ মাস শুল্ক-কর অব্যাহতি
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৪:৫৫

নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্ল্যান্ট স্থাপনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ছয় মাসের জন্য শুল্ক-কর রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২০তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ১৮০ দিন পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্ল্যান্ট স্থাপনে আমদানি করা যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশে ১ শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), আগাম কর ও অগ্রিম আয়কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

সরকারের আশা, এ সুবিধার ফলে দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে এবং বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে জনজীবন ও শিল্প উৎপাদনে যে ভোগান্তি তৈরি হয়, তা কমবে। উৎপাদন ব্যয় ও যন্ত্রপাতির ক্ষতি কমার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এদিকে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর আওতায় প্রতি ১০ শলাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ‘৬২ টাকা ও তদূর্ধ্ব’ থেকে পরিবর্তন করে ‘৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব’ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য সিগারেটের মূল্য নির্ধারণ এবং স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার বিধিমালা–সংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন সংশোধন করা হবে। এর ফলে অবৈধ সিগারেটের বাণিজ্য ও রাজস্ব ঘাটতি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হংকংয়ের সঙ্গে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি
বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে ‘বিনিয়োগের প্রসার ও সুরক্ষা বিষয়ক চুক্তি’স্বাক্ষরের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে করা এ চুক্তির মাধ্যমে দুই পক্ষের বিনিয়োগের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশে হংকংয়ের নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগকারী হিসেবে হংকংয়ের অবস্থান ষষ্ঠ।

পোশাক, টেক্সটাইলসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে হংকংয়ের বিনিয়োগ রয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তি কার্যকর হলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে। চুক্তিটির মেয়াদ হবে ১০ বছর। তবে স্বাক্ষরের তিন বছর পর উভয় পক্ষ চুক্তিটি সংশোধন করতে পারবে—এমন বিধান খসড়া চুক্তিতে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×