ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‎‎এসআইকে পিটিয়ে হত্যা

পুলিশ পরিচয় পেয়ে হামলাকারীরা আরও মারমুখী হয়ে ওঠে

পুলিশ পরিচয় পেয়ে হামলাকারীরা আরও মারমুখী হয়ে ওঠে
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক ও সাভার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৫:০৪ | আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৫:০৪

ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে শনিবার রাতে আলতাফ হোসেনের পুলিশ পরিচয় পেয়ে আসামিরা আরও মারমুখী হয়ে ওঠে। প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ দৌড়ে ছেলের পোশাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা সেখানে গিয়ে তাঁকে ও তাঁর ছোট ছেলেকে বেধড়ক মারধর করে। 

গতকাল সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

এদিকে, মামলার মূল আসামি জহিরুল ইসলামকে গতকাল ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকার আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালত জহিরুলের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আসাদুজ্জামান বলেন, একজন বৃদ্ধ মানুষকে যখন আঘাত করা হচ্ছিল, তখন পুলিশ সদস্য হিসেবে এবং একজন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব মনে করে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে কোনো টার্গেট ছিলেন না। কারণ, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন সেই সময় সিভিল পোশাকে ছিলেন।

‎‎শনিবার রাতে আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলামকে তাদের গেঞ্জি কারখানায় ঢুকে পিটিয়ে জখম করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক আলতাফকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী শিউলী বেগম ১৫ জনের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ ও র‍্যাবের অভিযানে এজাহারভুক্ত ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‘হামলার মূল হোতা’ প্রাইভেট কারচালক জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রোববার রাতে র‍্যাব-১০ মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে সাভারের আমিনবাজার এলাকার আলাউদ্দিন, আমিনবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার সামসুল ইসলাম ওরফে সামসু মেম্বারের দুই ছেলে আপন, জিহাদ ও ইমরানকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া আমিনবাজার থেকে র‍্যাব-৪ নূর মোহাম্মদ রুদ্র, মো. রাকিব মিয়া, ছাব্বির আহম্মেদ ও মো. ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা আছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘চারজনকে গ্রেপ্তার করে বিভিন্নভাবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তাদের প্রাথমিক সম্পৃক্ততা আমরা পেয়েছি।’

র‍্যাব জানায়, শনিবার রাতে একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে গ্যারেজের মালিককে মারধর করার সময় এসআই আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করেন। প্রাইভেটকারে থাকা পাঁচজন ওই গ্যারেজ মালিককে হামলা করলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ সময় গ্যারেজের মালিককে মারধরকারীদের সঙ্গে আলতাফ ও তাঁর ছেলের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আলতাফ নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এতে আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ দৌড়ে ছেলের পোশাক কারখানায় আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানেও চড়াও হয়।

‎‎এরপর তারা আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে এনে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে আলতাফ ও তাঁর ছেলে আরিফুলকে বেধড়ক মারধর করে এবং কারখানার ভেতরে থাকা মেশিন ও আসবাব ভাঙচুর করে।

আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে, বিশেষ করে আপন ও জিহাদ অত্যন্ত অপরাধীপ্রবণ হয়ে উঠেছিল। বেশ কিছুদিন থেকে তাদের পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড খুব খারাপ। তারা ওই অঞ্চলের কিশোর গ্যাং লিড করে এবং মাদকের সঙ্গে তারা সম্পৃক্ত।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হামলাকারীদের বেশির ভাগই কিশোর গ্যাং ও মাদক-সংশ্লিষ্ট; এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আলাউদ্দিন, জিহাদ, আপন ও ইমরান হামলায় সরাসরি অংশ নেয়। আপনকে ওই এলাকার গ্যাংয়ের মূল হোতা উল্লেখ করে র‍্যাব জানায়, তার বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।

র‍্যাব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, আমলযোগ্য অপরাধ হলে সাধারণ মানুষও অপরাধীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে পারেন। তবে এমন পরিস্থিতিতে এগিয়ে না এসে ছবি-ভিডিও করার প্রবণতাকে তিনি নাগরিকদের ‘নৈতিক স্খলন’ বলে মন্তব্য করেন।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের শোক ও প্রতিবাদ
এসআই আলতাফ হোসেন নিহত ও তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলাম গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় শোক ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল এক বার্তায় সংগঠনটি জানায়, কর্মরত একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে এভাবে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে হত্যা এবং তাঁর সন্তানকে গুরুতর আহত করার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়, বর্বর ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আরও পড়ুন

×