পিকেএসএফের প্রকল্পে ২ লাখ ১৫ হাজার অতিদরিদ্র পরিবারের জীবন-জীবিকায় পরিবর্তন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:১৩
দেশের জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম এলাকার ২ লাখ ১৫ হাজার অতিদরিদ্র পরিবারের জীবন ও জীবিকায় টেকসই পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। প্রতিষ্ঠানটির পাথওয়েজ টু প্রসপারিটি ফর এক্সট্রিমলি পুওর পিপল-ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (পিপিইপিপি-ইইউ) প্রকল্পের মাধ্যমে এসব পরিবারকে আয়, সম্পদ, পুষ্টি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়।
চার বছর মেয়াদি প্রকল্পটি ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবনে আয়োজিত প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় ১৯টি সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে ১২ জেলার ৩৪টি উপজেলার ১৪৫টি ইউনিয়নের ২ লাখ ১৫ হাজার অতিদরিদ্র পরিবারের প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে সমন্বিত সেবা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় থাকা পরিবারগুলোর অতিদারিদ্র্যের হার ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের খর্বাকৃতির হার ৪৮ শতাংশ থেকে কমে ২২ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। শিশুদের কৃশতার হারও ১৭ শতাংশ থেকে কমে ১২ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে।
পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, গত চার বছরে প্রকল্পের লক্ষ্যভুক্ত অতিদরিদ্র পরিবারের তিন-চতুর্থাংশের বেশি দারিদ্র্যসীমা অতিক্রম করেছে। তাঁদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২২ দশমিক ৮১ মিলিয়ন ইউরো অনুদানের পাশাপাশি পিকেএসএফ ও এর সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে প্রকল্পভুক্ত পরিবারগুলোর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ২১৭ কোটি টাকা সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
ফজলুল কাদের বলেন, ‘অতিদরিদ্র মানুষকে শুধু সাহায্য দিলে তাঁদের সমস্যা সাময়িকভাবে মেটে। কিন্তু তাঁদের সক্ষম করে তুললে এবং সুযোগ তৈরি করে দিলে তাঁরা নিজেরাই নিজেদের জীবন বদলে দিতে পারেন। এই প্রকল্পের হাজারো পরিবার সেটাই করে দেখিয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের বক্তব্য পড়ে শোনানো হয়। বক্তব্যে তিনি বলেন, অতিদারিদ্র্য শুধু আয় বা সম্পদের ঘাটতি নয়; এটি বহুমাত্রিক বাস্তবতা।
নাজমা মোবারেক বলেন, পিপিইপিপি-ইইউ প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, দারিদ্র্য নিরসনের চূড়ান্ত লক্ষ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা নয়, বরং সক্ষমতা ও স্বাবলম্বিতা। আর্থিক সহায়তা, দক্ষতা, বাজারসংযোগ, স্বাস্থ্য-পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে অতিদরিদ্র মানুষও ধীরে ধীরে উৎপাদক, উদ্যোক্তা ও অর্থনীতির সক্রিয় অংশীদারে পরিণত হতে পারেন।
পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান বলেন, প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু নির্দিষ্ট কিছু ফলাফলের মধ্যে নয়; বরং মানুষের সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তাঁদের নিজেদের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
তিনি বলেন, অতিদরিদ্র মানুষের ঋণ গ্রহণের উপযুক্ততা নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল। তবে এ প্রকল্প দেখিয়েছে, উপযুক্ত সহায়তা দেওয়া হলে অতিদরিদ্র মানুষের ঋণ গ্রহণের সক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব। এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই দারিদ্র্য হ্রাসে ভূমিকা রাখবে।
জাকির আহমেদ খান আরও বলেন, প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলেও পিকেএসএফ ও এর সহযোগী সংস্থাগুলোর নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকল্পের সদস্যরা মূলধারার আর্থিক সেবা পেতে থাকবেন। প্রকল্পের অভিজ্ঞতা পিকেএসএফের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি প্রণয়নেও কাজে লাগানো হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন মিশাল ক্রেইজা বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি প্রকল্পে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবদানের কথা তুলে ধরে অর্জিত সাফল্য ও ফলাফল ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
মিশাল ক্রেইজা বলেন, কোনো প্রকল্পের অর্থায়ন শেষ হয়ে গেলেই প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হয়ে যাওয়া উচিত নয়। প্রকল্পের সাফল্যের মূল মাপকাঠি হলো উপকারভোগী পরিবারগুলো অর্জিত অগ্রগতি ধরে রাখতে পারছে কি না, তাদের ব্যবসা ও জীবিকা আরও বিকশিত হচ্ছে কি না, সম্পদ বাড়ছে কি না এবং তাঁদের সন্তানরা আগের তুলনায় ভালো পুষ্টি পাচ্ছে কি না।
অনুষ্ঠানে পিকেএসএফের মহাব্যবস্থাপক ও পিপিইপিপি-ইইউ প্রকল্পের পরিচালক সেলিনা শরীফ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরেন।
পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পিকেএসএফ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, পিকেএসএফের সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং প্রকল্পের অন্যান্য অংশীজনসহ প্রায় ৪০০ জন অংশ নেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
- বিষয় :
- প্রকল্প