ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

সভায় বক্তারা

প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ সামাজিক সম্পদে রূপান্তর ঘটাতে হবে

প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ সামাজিক সম্পদে রূপান্তর ঘটাতে হবে
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:৫৫

দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-দশমাংশ বা ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ। ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা বেড়ে ২০ শতাংশের বেশি বা প্রায় ৫ কোটিতে দাঁড়াবে। একই সময়ে মানুষের গড় আয়ু বর্তমানের ৭৪ দশমিক ৯ বছর থেকে বেড়ে ৮০ বছর বা তার কাছাকাছি পৌঁছাবে। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের দীর্ঘায়ুকে শুধু বয়স বৃদ্ধির পর্যায় হিসেবে না দেখে স্বাস্থ্যবান, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ সামাজিক সম্পদে রূপান্তর করতে হবে।

সোমবার রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে নাগরিক সমাজের সঙ্গে এক পরামর্শ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) ও ফোরাম ফর দ্য রাইটস অব দ্য এল্ডারলি, বাংলাদেশ (এফআরইবি) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

রিকের নির্বাহী পরিচালক আবুল হাসিব খানের সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইএসআইজিওপি প্রকল্পের জাতীয় সমন্বয়কারী তোফাজ্জল হোসেন মঞ্জু। বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সচিব সাঈদুর রহমান, নারীপ্রজনন স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ডা. হালিদা হানুম আখতার, এফআরইবির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাই দাস, নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা কে এম সিদ্দিক আলী, ঢাকা আহসানিয়া মিশনের ড. এম জাহাঙ্গীর আলমসহ অনেকে।

সভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, নবজাতক থেকে প্রবীণ ও দীর্ঘজীবন লাভকারী নাগরিকদের জন্য গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সমষ্টিকেন্দ্রিক সমাজ গড়ে তুলতে সরকার কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ষাটোর্ধ্ব অবসরপ্রাপ্ত যোগ্য ব্যক্তিদের সরকারি কাজে যুক্ত করা, অস্বীকৃত শ্রমের মূল্যায়ন, জাতীয় পেনশন স্কিম, ষাটোর্ধ্বদের জন্য সঞ্চয় প্রকল্প এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ প্রবীণদের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সরকারের পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ বাড়াতে হবে এবং প্রবীণ ও নবীনদের মধ্যে সংযোগ জোরদার করতে হবে।

সভায় প্রবীণদের স্বাধীন, স্বনির্ভর, সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে নির্যাতন প্রতিরোধ, অধিকার বাস্তবায়ন এবং সুরক্ষা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়। প্রবীণদের কল্যাণে প্রবীণ অধিদপ্তর গঠনের দাবি জানান বক্তারা। এ লক্ষ্যে পাড়া-মহল্লা ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।

এর আগে সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নবীন-প্রবীণের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে সিরডাপ মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।

আরও পড়ুন

×