নিম্নমানের বই দিলে গ্রহণ করবেন না: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:৩৪
নতুন পাঠ্যবইয়ের মান নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, কোনো মুদ্রণপ্রতিষ্ঠান (প্রিন্টার্স) নির্ধারিত মানের চেয়ে নিম্নমানের বই দিলে তা গ্রহণ করা যাবে না। একইভাবে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে কম বইও নেওয়া যাবে না। শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত বই তুলে দিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার রাজধানীর মহাখালীর গাউসুল আজম কমপ্লেক্সে মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নির্বাহী কমিটির সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এবার স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার ছুটি শুরুর দিনই সব শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মাদরাসাপ্রধানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দরপত্রে নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাগজের গ্রেড ও বাঁধাই ঠিক আছে কিনা, তা যাচাই করতে হবে। কোনো বইয়ের মান খারাপ হলে কিংবা নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে কম বই সরবরাহ করা হলে তা গ্রহণ করা যাবে না।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নির্ধারিত মানের কাগজ ব্যবহার না করা এবং সময়মতো বই সরবরাহ না করার অভিযোগ ছিল। এবার প্রতিটি মাদরাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে নজর রাখতে হবে।
তিনি জানান, মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে ৯০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানোর পর সেগুলোর মান পর্যালোচনা করে বাকি অর্থ দেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য, এবার বাজারদর অনুযায়ী দরপত্র দেওয়া হয়েছে। তাই বইয়ের মান নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ রাখা উচিত নয়। মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানগুলো যাতে কোনো ফাঁকি দিতে না পারে, সে জন্য শিক্ষকদের সহযোগিতা চান তিনি।
সমাবেশে মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে বিএনপির বিভিন্ন সরকারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় মাদরাসা শিক্ষায় সাধারণ শিক্ষার সংযুক্তি এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। পরে খালেদা জিয়ার সময় মাদরাসা শিক্ষাকে আরও কার্যকর করতে কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়। দাখিল ও আলিম পর্যায়ে ভোকেশনাল শিক্ষাও চালু করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তনে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও মাদরাসা শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। শিক্ষা ছাড়া জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।
বর্তমান সরকারের শিক্ষাবিষয়ক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৭৭ হাজার নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংগঠনটির লক্ষ্য শিক্ষার উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে শিক্ষিত করে তোলা। এসব বিষয়ে বিএনপি সরকারের সঙ্গে সংগঠনটির আদর্শগত মিল রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, বিগত নির্বাচনে বিভিন্ন দরবার ও ইসলামের চর্চাকারী মুসলমানদের সমর্থনে বিএনপি ও তারেক রহমান ক্ষমতায় এসেছে। আলেম-ওলামাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সরকারের কাজে ‘বরকতের সংকট’ রয়েছে মন্তব্য করে বাহাউদ্দীন বলেন, আলেম-ওলামাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও বাড়াতে হবে। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির মন্ত্রীদের আলেম-ওলামাদের সান্নিধ্য বাড়ানো প্রয়োজন।
সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির মহাসচিব অধ্যক্ষ সাব্বির আহমদ মোমতাজী।
- বিষয় :
- শিক্ষামন্ত্রী