শাহজালাল বিমানবন্দর
ফ্লাইট বন্ধে ভোগান্তিতে রিয়াদগামী যাত্রীরা, ফিরতে হলো বাড়ি
শাহজালাল বিমানবন্দরে ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন ফ্লাইটে যাত্রীরা
শহিদুল আলম
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:৪৬ | আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:৪১
সৌদি আরবের দাম্মামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ভোলা জেলার চাঁদপুরের বাসিন্দা মো. আশরাফ। সাত বছর পর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পাঁচ মাসের ছুটিতে দেশে এসেছেন। রোববার ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদানের জন্য দুপুর সাড়ে ১২টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পৌঁছেন। বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে ভারতের ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের রিয়াদগামী একটি ফ্লাইটের মাধ্যমে মুম্বাই হয়ে দাম্মামে যাবেন। বিকেল ৩টায় বিমানবন্দরের বহির্গমন ২ নম্বর টার্মিনালের সামনে অবস্থান করার সময় কথা হয় তাঁর সঙ্গে।
আশরাফ সমকালকে বলেন, ‘দাম্মামে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিমানবন্দরে এসেছি। দুপুর ১টায় বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে গেটে লাগেজ ও দেহ তল্লাশি শেষে প্রবেশ করানো হয়। এ সময় নির্ধারিত ইন্ডিগো ফ্লাইটের বোর্ডিং পাস নেওয়ার জন্য কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়াই। কিছু সময় পর কাউন্টার থেকে জানানো হয়, রিয়াদগামী ফ্লাইট বন্ধ। বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় রিয়াদ বিমানবন্দরে বন্ধ আছে ফ্লাইট চলাচল।’
এমন ঘোষণা ঢাকা বিমানবন্দরে আশরাফের মতো রিয়াদগামী বিভিন্ন ফ্লাইটের অনেক যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। ভুক্তভোগী আশরাফ জানান, ইন্ডিগো কাউন্টার থেকে যাত্রীদের জানানো হয়েছে, রিয়াদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ থাকবে। সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ফেরত দিয়ে নতুন করে টিকিট সংগ্রহ করতে বলেছেন এয়ারলাইন্স কর্মীরা।

এদিকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের রিয়াদগামী ফ্লাইটের যাত্রী মিজানুর রহমান জানান, চার বছর ধরে সৌদি আরবের রিয়াদে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। দুই মাসের ছুটি শেষে কর্মস্থল যোগদানের উদ্দেশ্যে মুঞ্জিগঞ্জ থেকে বিমানবন্দরে আসেন। তাকে বিদায় জানাতে সঙ্গে এসেছেন সুমন নামে এক আত্মীয়। দুপুর ১টায় ফ্লাইট।
যাত্রী মিজানুর জানান, বিমানবন্দরে আসার পর এয়ারলাইন্স কর্মীরা জানান, ঢাকা–রিয়ামগামী ফ্লাইট বন্ধ। বিমানবন্দরে মাহবুব নামে আরেকজন যাত্রীর অভিযোগও একই। তিনি জানান, এ ঘটনায় যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার।
তিনি বলেন, ‘একজন যাত্রীর সঙ্গে স্বজনরা বিমানবন্দরে এসেছেন বিদায় জানাতে। কিন্ত ফ্লাইট বন্ধ থাকার কারণে আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও গন্তব্যে পৌঁছতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।’
জানা যায়, ঢাকা–রিয়াদগামী ফ্লাইট হঠাৎ বন্ধ থাকার কারণে গন্তব্যে পৌঁছতে বিমানবন্দরে ভোগান্তিতে পড়েন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন ফ্লাইটের শত শত যাত্রী। বিদেশের কর্মস্থলে যোগদানের উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তারা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন। ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, তাদের কর্মস্থল ছিল সৌদির আরবের রিয়াদসহ বিভিন্ন স্থানে। পরে বিমানবন্দর থেকে তারা বাড়ি ফেরেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় আজ ভোর ৮টা থেকে এ পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটে পাঁচটি ফ্লাইটের চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট রয়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, আজ ভোর ৮টা থেকে এ পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটে পাঁচটি ফ্লাইটের চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৯, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস-৩৮১ এবং সৌদি এয়ারলাইন্সের এসবি-৮০৪ ও এসবি-৮০৬ ফ্লাইট রয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দর ১২ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরের কার্যক্রম কখন পুরোপুরি চালু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ রিয়াদ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বেসরকারি ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম সমকালকে জানান, ইউএস বাংলার রিয়াদগামী সব ফ্লাইট বন্ধ। এ বিষয়ে যাত্রীদের অবহিত করা হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি ও পরবর্তী নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে ফ্লাইট চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, ১১ অক্টোবর ঢাকা থেকে রিয়াদগামী বিজি-৩৩৯ এবং রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী বিজি-৩৪০ ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। এ অবস্থায় যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।