তাহসিফের মৃত্যু
দীপ ও তরুণীর বক্তব্য মিলিয়ে রহস্যভেদের চেষ্টা পুলিশের
কে এম তাহসিফ সাউরি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১২:৪০
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার ও স্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের পর এবার এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার দিন তাহসিফের সঙ্গে এই দুজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
তাদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দীপ ও তরুণীর দেওয়া বক্তব্য মিলিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। তবে গতকাল রোববার পর্যন্ত এ ঘটনায় আর কারও সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি।
তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, গত শনিবার গ্রেপ্তার হওয়া দীপ জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর দেওয়া বক্তব্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার তরুণীর বক্তব্যও নেওয়া হচ্ছে। দুজনের বক্তব্যের মধ্যে মিল-অমিল খতিয়ে দেখে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বের করার চেষ্টা চলছে।
গত ২৭ অক্টোবর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন তাহসিফ ও দীপ। পরদিন বিকেলে রাজধানীর উত্তরখানের তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের ভাসমান লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে উত্তরখান থানায় তাঁর বাবা এনায়েতুল করিমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। তবে মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা অঞ্চলের নৌ পুলিশ।
তদন্তের বিষয়ে নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন সমকালকে বলেন, দীপ ও ওই তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি পাওয়া গেছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা তরুণী গ্রেপ্তার
তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার দিন উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে তাঁর সঙ্গে ছিলেন দীপ ও এক তরুণী। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই তরুণীকে শনাক্তের পর গত শনিবার রাতে রাজধানীর কাফরুল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৯ বছর বয়সী ওই তরুণীকে গতকাল আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এ যান দিশা। মামলার অপর রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামি দীপের সঙ্গেও তাঁকে একসঙ্গে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া তাহসিফের সঙ্গে রেস্টুরেন্টে অবস্থানের পাশাপাশি মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করেন তিনি। তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট (সিডিআর) পর্যালোচনায় ঘটনার আগে দিশার সঙ্গে তাঁর একাধিকবার ফোনে কথা বলার তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে তাহসিফ হত্যায় ওই তরুণীর জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, সম্ভাব্য অন্য আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হত্যার স্থান নির্ধারণ এবং আলামত উদ্ধারের জন্য তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে ওই তরুণীর বক্তব্য মুখোমুখি যাচাই করাও জরুরি। এর আগে গত শনিবার দীপকেও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন আদালত।
দীপের বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ তাহসিফের বাবার
চার দিনের রিমান্ডে থাকা দীপকে গতকাল উত্তরখান থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। ঘটনার পর বিভিন্ন সময়ে দেওয়া তাঁর বক্তব্য এবং ঘটনার দিন কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তারা।
পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নৌ পুলিশের তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সকাল থেকে আসামি দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। ওই তরুণীকেও থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এদিকে ঘটনার পর দীপের বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম। তিনি বলেন, দীপের বক্তব্য রহস্যজনক। প্রথমে দীপ তাঁকে বলেছিলেন, এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। পরে বলেন, রাত ১২টার আগেই বাসায় চলে গেছেন এবং তাহসিফকে বাসার কাছে রেখে এসেছেন। পরে যেসব তথ্য শুনেছেন, সেগুলোর সঙ্গে দীপের দেওয়া বক্তব্যের মিল নেই। দীপ তাঁকে সঠিক তথ্য দেননি।
- বিষয় :
- বিমানবাহিনী