ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত করিডোরে আগ্রহী

বাংলাদেশ মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত করিডোরে আগ্রহী
×
×

হুমায়ুন কবির

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩১

| প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ থেকে চীন পর্যন্ত প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোরে যুক্ত হতে আগ্রহী সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়বে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি যোগাযোগের পাশাপাশি দেশের বন্দর ও পরিবহন অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ উদ্যোগে কোনো ভূরাজনৈতিক শঙ্কা দেখছে না ঢাকা। 

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিন দিনের সফর শেষে গতকাল দুপুরে ঢাকা ছাড়েন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারকে যুক্ত করে করিডোর গড়ে উঠলে পণ্য পরিবহনের নতুন পথ তৈরি হবে। এতে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে। এ উদ্যোগে বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে। তবে এর বাস্তবায়নে মিয়ানমারের পরিস্থিতি, বিশেষ করে রাখাইনে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়টি সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এ সংকটের সমাধান ছাড়া এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা কঠিন।

গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরেও আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় আসে। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির চীনের ইউনান প্রদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমার হয়ে কুনমিং পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ২০০ কিলোমিটার সড়ক যোগাযোগের প্রস্তাব দেন। এ পথে পণ্য পরিবহনে প্রায় ২৪ ঘণ্টা লাগতে পারে বলে তিনি ধারণা দেন। এতে সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি তিন দেশের বাণিজ্য বাড়বে।
এই সড়ক যোগাযোগের প্রস্তাবের বাইরে আরও বড় অর্থনৈতিক করিডোরের ধারণা রয়েছে। চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য করিডোরে চীনের কুনমিং থেকে মিয়ানমারের মান্দালয় ও ইয়াঙ্গুন হয়ে রাখাইনের কিয়াউকপিউ বন্দরের সঙ্গে সংযোগের কথা রয়েছে। সেখান থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে রুট বা বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

লিউর সফরে সম্পর্ক জোরদারের আলোচনা
তিন দিনের সফরে ৩ নভেম্বর রাতে ঢাকায় আসেন লিউ হাইশিং। গত বুধবার তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। বিকেলে জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দেন। 
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার কারণে অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবেশের ওপর চাপের কথা তুলে ধরে সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা চান। লিউ বিষয়টি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন। 
চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বেইজিং। পাশাপাশি আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি) জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে সমর্থন জানিয়েছে চীন।

শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস নয়
এদিকে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেবে সরকার। 
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনাকে সাধারণ যাত্রীর মতো দেশে ফেরানোর বিষয়টি নয়। তাঁকে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হবে। 

আরও পড়ুন

×