এবার মিসর থেকে উড়োজাহাজে এলো পেঁয়াজ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:৫৬
পাকিস্তানের পর মিসর থেকে উড়োজাহাজে এসেছে পেঁয়াজ। গত বুধবার রাত দেড়টায় সৌদি এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী একটি ফ্লাইটে এ পেঁয়াজ এনেছে এস আলম গ্রুপ। দেশটি থেকে বৃহস্পতিবার রাতে বিসমিল্লাহ এয়ারলাইনসের কার্গো বিমানে ১০৫ টন পেঁয়াজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসার কথা। এছাড়া তুরস্ক থেকে মেঘনা গ্রুপের আমদানি করা পেঁয়াজের প্রথম চালান ১০ টন বৃহস্পতিবার রাতে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজে দেশে আসার কথা। রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পেঁয়াজভর্তি উড়োজাহাজ ঢাকায় পৌঁছেনি। মেঘনা গ্রুপ ও এস আলম গ্রুপের আমদানি করা এ পেঁয়াজ ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হবে।
আকাশপথে পাকিস্তানের করাচি বিমানবন্দর থেকে পেঁয়াজের প্রথম চালান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে। একটি বেসরকারি সিল্ক্ক সংস্থার পণ্য পরিবহনকারী উড়োজাহাজে এই চালান আসে। ৮১ হাজার ৫০০ টনের এ চালানটির আমদানিকারক ঢাকার শাদ এন্টারপ্রাইজ। চালানটি রাতেই খালাস হয়।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর শ্যামবাজারের পবিত্র বাণিজ্যালয়সহ অন্যান্য আড়তে এ পেঁয়াজ বিক্রি হয়। শাদ এন্টারপ্রাইজ ছাড়াও এস আলম গ্রুপের ৭ টন পেঁয়াজ বুধবার রাতে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী বিমানে ঢাকায় আসে। শুক্রবার তৃতীয় চালান আসবে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী বিমানে। পেঁয়াজ আমদানির জন্য ইতোমধ্যে ১০টি কার্গো বিমান ঠিক করা হয়েছে। এর প্রতিটিতে ১০৫ থেকে ১১০ টন পেঁয়াজ আসবে। শনিবার কায়রো এয়ারের একটি কার্গো বিমানে আরও ৫৫ টন পেঁয়াজ ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণে এবং বেশি দামের কারণে সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে পেঁয়াজ আনছে মেঘনা, সিটি ও এস আলম গ্রুপ। ৫৮ হাজার ৫০০ টন পেঁয়াজ আমদানি করছে এস আলম গ্রুপ। গত বুধবার রাত থেকে উড়োজাহাজে এই পেঁয়াজ দেশে আসতে শুরু করেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এস আলম গ্রুপ জানায়, সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে মিসর ও তুরস্ক থেকে বাল্ক্ক ও কনটেইনারের মাধ্যমে সমুদ্রপথে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় এস আলম গ্রুপ। সে অনুযায়ী ৫৮ হাজার ৫০০ টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়। তবে সমুদ্রপথে পেঁয়াজ আসতে বেশি সময় লাগবে। তাই উড়োজাহাজে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আরও পেঁয়াজ আমদানি করা হবে।
মেঘনা গ্রুপ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তুরস্ক থেকে শুক্রবার টার্কিশ এয়ারলাইন্সে তাদের প্রথম চালান ঢাকায় আসবে। এর পরে আরও কয়েকটি উড়োজাহাজে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত থাকবে। এছাড়া মেঘনা গ্রুপের প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টন পেঁয়াজ সমুদ্রপথে জাহাজে চট্টগ্রাম বন্দরে ১ ডিসেম্বর পৌঁছবে। মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, আমদানির মাধ্যমে পেঁয়াজের বাজারে সরবরাহ বাড়ানো হবে। বাজার স্বাভাবিক হলে জনমনে স্বস্তি ফিরে আসবে।
আকাশপথে পেঁয়াজের চালান আনার জন্য উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র থেকে ২ হাজার ৭ টনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। শাদ এন্টারপ্রাইজ ছাড়াও এস আলম গ্রুপ ১ হাজার ৯২৫ টন আমদানির অনুমতি নিয়েছে।
রাজধানীর ৫০ স্থানে টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি: পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বিক্রি বাড়িয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংস্থা আগের চেয়ে ১৫টি স্থান বাড়িয়ে এখন রাজধানীতে ৫০টি স্থানে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে পেঁয়াজ বিক্রির কার্যক্রম জোরদার করেছে। সাধারণ মানুষের জন্য এই পেঁয়াজ ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়াতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে আকাশ ও সমুদ্রপথে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছে। ইতোমধ্যে আকাশ ও সমুদ্রপথে পেঁয়াজের চালানগুলো দেশে পৌঁছাতে শুরু করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। সরকার পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে টিসিবির মাধ্যমে বিক্রির এ ব্যবস্থা নিয়েছে। ইতোমধ্যে দেশি পেঁয়াজ (পাতাসহ) পর্যাপ্ত পরিমাণে বাজারে এসেছে। পেঁয়াজের দাম দ্রুতগতিতে কমছে। এখন পেঁয়াজের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক হচ্ছে।
এদিকে রাজধানীর খুচরা বাজারে একদিনের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দর ১০ টাকা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার খুচরায় মিরপুর ১নং বাজারে দেশি পেঁয়াজ ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা ও আমদানি করা মিয়ানমারের পেঁয়াজও একই দরে বিক্রি হয়। তবে চীন, তুরস্ক ও মিসরের পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় পাওয়া যায়।
এদিকে বৃহস্পতিবার কারওয়ান বাজারের পাইকারি আড়তে আগের দিনের চেয়ে দেশি পেঁয়াজের দর কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। গত বুধবার এ আড়তে ১৫০ টাকা ছিল। বৃহস্পতিবার তা ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় উঠেছে। তবে শ্যামবাজারের আড়তে প্রতিকেজি দেশি ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এই আড়তে চীনা পেঁয়াজ ৭০ ও মিসর ও তুরস্কের পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে পেঁয়াজের দরের অস্থিরতার কারণে বাজারভেদে দামের তারতম্য রয়েছে।
