কে এই আরমান
এনামুল হক আরমান
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০১৯ | ২৩:০৪
বহুল আলোচিত-সমালোচিত দুই মুখ ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও এনামুল হক আরমান পরস্পরের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত। অবৈধ ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের মধ্যেও দেখা গেছে তাদের সেই সখ্য। একে অন্যকে ছেড়ে যাননি। গ্রেফতারের ভয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। তবে ছিলেন একসঙ্গে। শেষ পর্যন্ত রোববার তারা গ্রেফতার হয়েছেন। তখনও তারা একসঙ্গে ছিলেন।
ঢাকা দক্ষিণ মহানগর যুবলীগের সহসভাপতি আরমানের ফেসবুক প্রোফাইলেও সম্রাটকে 'বেস্ট ফ্রেন্ড' উল্লেখ করা আছে। সম্পর্কের এই রসায়ন দেখে তাদের 'মানিকজোড়' বললে হয়তো ভুল হবে না।
আরমানের রাজনীতি শুরু বিএনপিতে। ক্ষমতার পালাবদলে তিনিও দল পরিবর্তন করেন। নাম লেখান যুবলীগে। ঢাকা দক্ষিণ মহানগর যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে 'গুরু' মানেন এই 'ক্যাসিনো আরমান'। ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতির পদও বাগিয়ে নেন। খুব কম সময়ের মধ্যেই আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে পড়েন। এক সময়ে গুলিস্তানের লাগেজ ব্যবসায়ী আরমান এখন শতকোটি টাকার মালিক। অবৈধ টাকা বৈধ করতে সিনেমাতে কোটি কোটি টাকা লগ্নি করেছেন।
লাগেজ বিক্রি করে জীবন চালানোর সময় তার সঙ্গে বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার পরিচয় হয়। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্রে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন 'হাওয়া ভবনে' যাতায়াত শুরু করেন। ওই দলে পদ-পদবি না থাকলেও হাওয়া ভবনের আশীর্বাদে মতিঝিলের আরামবাগ ক্লাবপাড়ায় প্রভাব বিস্তার করেন তিনি। বিএনপি ক্ষমতা হারালে ভোল পাল্টে যুবলীগের মিছিলে যাওয়া শুরু করেন। পরিচয় হয় সম্রাটের সঙ্গে। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। সম্রাটকে 'গুরু' মানা শুরু করেন। এখন তারা দু'জন বেস্ট ফ্রেন্ড বা মানিকজোড় হিসেবেই পরিচিত।
লাগেজ ব্যবসার সময়ে লাগেজ আনতে প্রায়ই সিঙ্গাপুর যেতেন আরমান। সে সুবাদে সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনোর সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। পরে সম্রাটকে ক্যাসিনো সম্পর্কে লাভজনক কারবারের ধারণা দেন। সম্রাটও তাতে রাজি হন। এর পরই তারা ক্যাসিনো সরঞ্জাম কিনে ঢাকায় আনেন। সম্রাটের মদদে ঢাকায় শুরু হয় ক্যাসিনো (জুয়া) ব্যবসা। ক্যাসিনো থেকে সম্রাটের ভাগের টাকা সংগ্রহ করতেন আরমান। এ কারণে 'সম্রাটের ক্যাশিয়ার' হিসেবেও পরিচিত তিনি। আরমান শুধু ক্যাসিনোতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, সম্রাটের বিভিন্ন কাজের সহযোগী ছিলেন। চলচ্চিত্র জগতেও আধিপত্য ছিল তার। কোনো কাজের তদবিরে নায়িকাদের পাঠিয়ে দিতেন সংশ্নিষ্ট ব্যক্তির কাছে। অবৈধ টাকা বৈধ করতে আরমান চলচ্চিত্রে কোটি কোটি টাকা লগ্নি করেন। পরে নিজেই 'দেশ বাংলা মাল্টিমিডিয়া' নামে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খোলেন। আরমানের প্রযোজনায় এ পর্যন্ত একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে, যার নাম 'মনের মত মানুষ পাইলাম না'। পরে 'আগুন' নামে আরেকটি সিনেমার শুটিং শুরু হয়। তবে অবৈধ ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হলে শুটিং গুটিয়ে রাখা হয়।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর অবৈধ ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পরই সম্রাটের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে তার নামও উঠে আসে। ক্যাসিনো থেকে শুরু করে নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। এর পরই সম্রাটের সঙ্গে তিনিও গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। গতকাল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে র্যাব তাদের গ্রেফতার করে।
