ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে হাইকোর্টের ৯ নির্দেশ

ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে হাইকোর্টের ৯ নির্দেশ
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২০ | ০৯:০৭

রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে মাত্রাতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন জব্দসহ ৯ দফা নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া এখানকার বায়ুদূষণ এবং বায়ুমান উন্নয়নে পরিবেশ অধিদপ্তর কী পদক্ষেপ নিয়েছে ও অধিদপ্তরে জনবল নিয়োগে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে- সে বিষয়ে জানাতে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন। নির্দেশনাগুলো হলো- ১. পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন ধরনের টায়ার পোড়ানো ও ব্যাটারি রিসাইক্লিং বন্ধ করা। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরকে এক মাসের মধ্যে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে হবে। ২. ঢাকার পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল; ৩. নির্ধারিত মাত্রার বেশি কালো ধোঁয়া নিঃসরণকারী গাড়ি জব্দ করা; ৪. সড়ক পরিবহন আইনের বিধান অনুযায়ী সব পরিবহনের 'ইকোনমিক লাইফ' নির্ধারণ; ৫. 'ইকোনমিক লাইফের' মেয়াদোত্তীর্ণ পরিবহন নিষিদ্ধের ব্যবস্থা করা; ৬. রাজধানীর রাস্তায় বালু, ময়লা, বর্জ্য পরিবহনের সময় যানবাহনের উপরিভাগ ঢেকে চলাচল করা; ৭. নির্মাণ এলাকায় বালু, সিমেন্ট, মাটিসহ নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা নিশ্চিত করা; ৮. সিটি করপোরেশনের ধুলাবালিপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত পানি ছিটানো এবং ৯. দোকান বা মার্কেটের ময়লা-আবর্জনা বিন, ব্যাগ বা ছালায় জমা করে দোকান বা মার্কেট বন্ধ করার সময় নির্ধারিত জায়গায় ফেলা নিশ্চিত করা। এটা করতে হবে সিটি করপোরেশনকে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষে আইনজীবী তৌফিক ইনাম।

আদেশের পর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণ বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এ কারণে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করেছিল হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। ওই রিটে আদালত পানি ছিটানো ও ধুলাবালি কমানোর বিষয়ে দুটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ওই আদেশ অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গত রোববার দুটি বাস্তবায়ন প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। পরে ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বায়ুদূষণ রোধে তারা সম্পূরক আবেদনে ১২ দফা নির্দেশনা চেয়েছিলেন। আদালত তার মধ্যে ৯টি নির্দেশনা দিয়েছেন।

এইচআরপিবির আবেদনের ভিত্তিতে গত বছর ২৬ নভেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে পরিবেশ সচিবের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। কমিটিতে দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ওয়াসা, ডেসকোসহ সব পরিষেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানের একজন করে প্রতিনিধি এবং প্রয়োজন হলে একজন বিশেষজ্ঞ রাখতেও বলা হয়। এই কমিটিকে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নির্দেশের পর সরকার একটি কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির ১২ দফা সুপারিশ অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলে গত রোববার তা আদালতে উপস্থাপন করা হয়।


আরও পড়ুন

×