'অধ্যাপক' ছাড়াই চলছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
সাব্বির নেওয়াজ
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩:৩৭ | আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩:৪২
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়েছে গত বছর। বর্তমানে
পাঁচটি অনুষদে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ২১০ জন। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও
প্রকৃত বাস্তবতা হলো, এক বছর আগে পড়াশোনা শুরু হওয়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ের
নিজস্ব কোনো শিক্ষক নেই!
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন স্থান থেকে
ডেকে আনা কয়েকজন অতিথি শিক্ষক দিয়ে এক বছর ধরে ক্লাস চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা সরকারি ব্রজলাল
কলেজের কয়েকজন শিক্ষক নিজ কাজের বাইরে মাঝে মাঝে অতিথি শিক্ষক হিসেবে এসে
ক্লাস নিয়ে যান। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডা. খন্দকার মাজহারুল
আনোয়ার আজাদ সমকালকে বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা
কার্যক্রম শুরু করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো জনবল কাঠামো (অর্গানোগ্রাম)
ছিল না। সেটি তৈরি করতে গিয়ে বেশকিছু সময় চলে গেছে। জনবলের ঘাটতির জন্য
অনেক কিছুই করা যায়নি। এখন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে আমরা
৩৫ জন শিক্ষক পদের অনুমোদন পেয়েছি। পাঁচজন সহকারী অধ্যাপক ও বাকি ৩০ জন
হবেন প্রভাষক। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। শিগগির বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব
পূর্ণকালীন শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।
এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জামালপুরে অবস্থিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হয়েছে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ
থেকে। মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা এখন ৩০০ জন। এর মধ্যে ২০১৮-১৯ সেশনে ১৩৩ জন
এবং ২০১৯-২০ সেশনে ১৬৭ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ শিক্ষক ও ১৬ জন কর্মচারী
আছেন। ১৬ শিক্ষকের মধ্যে উপাচার্য বাদে অধ্যাপক আছেন আর মাত্র একজন, গণিত
বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হামিদুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে
গণিত, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক্স বিভাগ, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক্স
বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগে ৩০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা
করছে। ১২ জন প্রভাষক, তিন সহকারী অধ্যাপক এবং ১১ অতিথি শিক্ষক, কিছু
অধ্যাপকসহ তাদের পড়ান। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিগগির মৎস্য বিভাগ
চালু করা হবে।
এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার মো. মহিউদ্দিন মোল্লা সমকালের . সঙ্গে
আলাপকালে বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তীব্র।' যোগ্য শিক্ষক না থাকার
কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা
মতে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন শুরু করা হয়েছে।'
এ দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ জেলা পর্যায়ের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে
একদিকে শিক্ষকের সংকট, যোগ্য শিক্ষক সংকট আরও বেশি। ইউজিসির পাবলিক
বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিশেষ করে নতুন
প্রতিষ্ঠিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো 'প্রয়োজনীয় সংখ্যক' ও 'যোগ্য' শিক্ষক
ছাড়া একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম
সমকালকে বলেন, 'নতুন অভিজ্ঞতা থেকে এখন বোঝাই যাচ্ছে যে, এতটা মফস্বলে
যোগ্য শিক্ষক পাওয়া খুব কঠিন। চাঁদপুর ও হবিগঞ্জে আরও দুটি বিশ্ববিদ্যালয়
হতে যাচ্ছে। একজন পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক পরিবার-পরিজনসহ দূরবর্তী
স্থানে শিক্ষকতা করতে যাবেন কি-না, আগেই ভেবেচিন্তে দেখতে হবে। ইউজিসি ও
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ ব্যাপারে দায়িত্ব রয়েছে।' তিনি বলেন, আমি মনে করি,
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আরও প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তবে আরেকটু বুঝেশুনে ধীরে
ধীরে তা করা উচিত।
নতুন বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সমকালের সঙ্গে
আলাপকালে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় চালুর সময় কর্তৃপক্ষ কেবল কয়েকজন প্রভাষক
নিয়োগ করেছিল। পরে কিছু সিনিয়র শিক্ষক এবং পেশাদারকে অতিথি শিক্ষক হিসেবে
নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চালিয়ে নিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকায় এসব
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ইউজিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন,
ইউজিসি পদ অনুমোদনের পরে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে।
কমপক্ষে ছয়টি নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কোনো সিনিয়র শিক্ষকই পায়নি। সহযোগী
অধ্যাপক বা অধ্যাপক পদে আবেদন মেলেনি। কেউই ঢাকার বাইরে, বিশেষ করে
দূরবর্তী জেলায় যেতে চান না।
এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো, নেত্রকোনায় অবস্থিত শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়,
গোপালগঞ্জে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুরের কালিয়কৈরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম
বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
এর মধ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় গুটিকয়েক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো
'অস্থায়ী ক্যাম্পাসে' শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। সবগুলোতেই যোগ্য শিক্ষকের
মারাত্মক ঘাটতি।
ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উপপরিচালক মৌলি আজাদ
জানান, দেশে বর্তমানে অর্ধশত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টিতে
শিক্ষা কার্যক্রম চলমান। বাকি চারটি নতুন। গত ডিসেম্বরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
দেশে প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চশিক্ষাকে এগিয়ে নিতে আরও চারটি পাবলিক
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছে।
দেশের প্রবীণ শিক্ষাবিদরা বলেন, সরকার যদি বাস্তবতা বিবেচনা না করে,
প্রস্তুতি গ্রহণ না করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে, তবে এ জাতীয় নতুন
বিশ্ববিদ্যালগুলো প্রকৃত অর্থে জাতিকে খুব কম ফল দেবে।
বরেণ্য শিক্ষাবিদ, ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সমকালকে বলেন,
"সরকারের সাফল্য দেখানো বা ভাবমূর্তি বাড়ানোর জন্য রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন
নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ফলে 'পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ধারণা'র
দীর্ঘকালীন ক্ষতি হবে।"
তিনি আরও বলেন, আমরা আরও বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা
বুঝতে পেরেছি। তবে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ ও সার্বিক মূল্যায়নের পরেই সেগুলো
চালু করা উচিত।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও চিন্তাবিদ আবুল কাশেম ফজলুল হক
বলেন, 'এত অল্পবয়সী প্রভাষক এবং কিছু অতিথি শিক্ষকের সঙ্গে এতগুলো পাবলিক
বিশ্ববিদ্যালয় চালানো হলে দেশের আরও স্নাতক তৈরি হতে পারে, তবে তারা প্রকৃত
জ্ঞানী, যোগ্য, দক্ষ ও পেশাদার নাও হতে পারে।'
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোপালগঞ্জে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ৩৪টি বিভাগে
ছাত্রছাত্রী বর্তমানে সাড়ে তিন হাজার। তাদের পড়াচ্ছেন ২৮০ জন শিক্ষক। তাদের
মধ্যে নিয়মিত অধ্যাপক মাত্র একজন। চুক্তিভিত্তিক অধ্যাপক আছেন চারজন। বাকি
সবাই সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক।
এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা আবু আলী রহমাতুল মুনিম সমকালকে
বলেন, 'আমি সম্প্রতি রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির জন্য
ভাইভাতে অংশ নিয়েছি। ভাইভা বোর্ড আমাকে বিবেচনা করেনি এ কারণে যে,
বশেমুরবিপ্রবিতে আমি যে বিভাগে পড়াশোনা করেছি, সেই বিভাগে (কম্পিউটার
সায়েন্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ) কোনো প্রবীণ শিক্ষক ছিলেন না। ভাইভা বোর্ড
থেকে বলা হয়, আমরা নাকি মূলত কিছু প্রভাষকের অধীনে পড়াশোনা করেছি। তারা
আমার জ্ঞান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।'
বশেমুরবিপ্রবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক মো. শাহজাহান বলেন,
'বিশ্ববিদ্যালয় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আরও অধ্যাপকের প্রয়োজন ছিল।'
নেত্রকোনায় অবস্থিত শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, 'গত বছর
নেত্রকোনায় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ শুরু
হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি ও কম্পিউটার বিজ্ঞান
বিভাগে ২১০ শিক্ষার্থীকে পড়ানোর জন্য মাত্র ১০ জন প্রভাষক আছেন।'
অন্যদিকে, যদিও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তবে এটি গত বছরের পর থেকে
ঢাকায় একটি অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা সালমান সাদেকিন বলেন, 'বর্তমানে
বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৪০ জন প্রভাষক এবং ১২ অতিথি শিক্ষকের মাধ্যমে পড়াশোনা
করানো হচ্ছে। আর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা পাঁচ
হাজার ৫০ জন।
ছয়জন স্থায়ী প্রভাষক, একজন সহকারী অধ্যাপক এবং অন্যান্য পাবলিক
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছয়জন প্রবীণ শিক্ষক নিয়ে চলছে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের 'তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে'র
শিক্ষা কার্যক্রম। এ বিভাগে ২০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। ভাড়া করা ভবনে
অস্থায়ী একটি ক্যাম্পাসে গত বছর থেকে চলছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম।
এ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, 'আমরা শিগগিরই গাজীপুরে
আমাদের স্থায়ী ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম স্থানান্তর করব।
সদ্য চালু হওয়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও
বিজ্ঞাপন দিয়েও স্থায়ী শিক্ষক নিতে পারিনি আমরা।'
গত ২৯ ডিসেম্বর ইউজিসি তাদের ৪৫তম বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে
২০১৮ সালের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চালচিত্র তুলে ধরা হয়। এতে ইউজিসি
জানিয়েছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রয়েছেন একজন। পিএইচডি ও সমমান
ডিগ্রিধারী শিক্ষক আছেন মাত্র চারজন। রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অধ্যাপক নেই, নেই কোনো পিএইচডি ও সমমান ডিগ্রিধারী
শিক্ষক। রাজধানীতে অবস্থিত ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রয়েছেন
একজন। পিএইচডি ও সমমান ডিগ্রিধারী শিক্ষক আছেন মাত্র দু'জন। সিরাজগঞ্জের
শাহজাদপুরে অবস্থিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশে দু'জন পিএইচডি ও
সমমান ডিগ্রিধারী শিক্ষক থাকলেও উপাচার্য ছাড়া কোনো অধ্যাপক নেই।
এ পরিস্থিতির উত্তরণে পরামর্শ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক
চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, 'শত শত কোটি টাকা খরচ করে
প্রতিষ্ঠা করা এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্যকর করতে গেলে যোগ্য শিক্ষক
লাগবেই। সে ক্ষেত্রে নতুন ও দূরবর্তী স্থানে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর
শিক্ষকদের উৎসাহ দিতে আলাদা কোনো ভাতা চালু করা যায় কি-না, তা ভেবে দেখা
দরকার।'
এসব বিষয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য
অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম বলেন, 'এগুলো রুঢ় বাস্তবতা। এ অবস্থার পরিবর্তন
করতে অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরে যাওয়া প্রবীণ শিক্ষকদের (তারা
ইচ্ছা প্রকাশ করলে) নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার
বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি। এতে সমস্যা কিছুটা কাটবে বলে মনে
করি।'
- বিষয় :
- পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
