অমর একুশে গ্রন্থমেলা
বিজ্ঞানভিত্তিক বইয়ে আগ্রহ
×
জয়নাল আবেদীন
প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩:২১
বিখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিংয়ের অনুবাদগ্রন্থ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করছিলেন দুই ভাই রায়হান শেখ ও রিয়াজ শেখ। এক ভাইয়ের হাতে 'দ্য থিওরি অব এভরিথিং', আরেক ভাইয়ের হাতে 'মাই ব্রিফ হিস্ট্রি'। আবুল বাসারের দুটি অনুবাদগ্রন্থ কেনা শেষে বিজ্ঞানভিত্তিক আরও বই খুঁজছিলেন তারা। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় দুই ভাইয়ের মতোই তরুণ পাঠকদের জটলা দেখা গেল প্রথমা প্রকাশনের প্যাভিলিয়ন ঘিরে। তাদের আগ্রহের কেন্দ্রে বিজ্ঞানভিত্তিক বই।
গোপালগঞ্জের সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের শিক্ষার্থী দুই ভাই রায়হান ও রিয়াজ জানালেন, ছোটবেলা থেকে সায়েন্স ফিকশন এবং বিজ্ঞানভিত্তিক অনুবাদের বইগুলো তাদের খুবই পছন্দ। এর আগে কখনও বইমেলায় আসেননি। অনলাইনের বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তারা বই কিনে পড়েন।
প্রথমা প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী জাকির হোসেন সমকালকে বলেন, বেশিরভাগ তরুণ পাঠকের প্রথম পছন্দ অনুবাদের বই। সায়েন্স ফিকশনের বইও চলছে বেশ। শেখ আবদুল হাকিমের অনুবাদগ্রন্থ 'দ্য ম্যান ফ্রম পাকিস্তান' পাঠকের পছন্দের শীর্ষে। আবার অনেকে উপন্যাসের বইও কিনছেন। কবি নজরুল ইসলামের প্রেমিকাকে নিয়ে লেখা বিশ্বজিৎ চৌধুরীর 'কবি ও রহস্যময়ী' বইটির কথা আলাদাভাবে তুলে ধরলেন জাকির।
মুহম্মদ জাফর ইকবালের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি 'গ্নিনা' এনেছে সময় প্রকাশনী। এ লেখকের অন্য বইয়ের পাশাপাশি এবার 'গ্নিনা' নিয়ে পাঠকের আগ্রহ একটু বেশিই দেখা গেছে।
বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত ১১ দিনে নতুন বই প্রকাশ হয়েছে এক হাজার ৪৪২টি। এর মধ্যে সায়েন্স ফিকশন ও গোয়েন্দাবিষয়ক বই ২৯টি। ২৫টি বিজ্ঞানভিত্তিক বইয়ের পাশাপাশি অনুবাদের বই প্রকাশ হয়েছে ১৮টি। সংখ্যার দিক থেকে শুধু কবিতার বই প্রকাশ হয়েছে ৪২২টি। বিভিন্ন প্রকাশনী ঘুরে দেখা গেছে, বাংলা একাডেমির দেওয়া তথ্যের বাইরেও সায়েন্স ফিকশন, গোয়েন্দা অনুবাদ এবং বিজ্ঞানভিত্তিক অনেক বই প্রকাশ হয়েছে। প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে আরও কিছু বই।
বইমেলা ঘিরে এবারও তরুণদের আগ্রহ দেখা গেছে। গতকাল 'বঙ্গবন্ধু পাঠে' বসে বঙ্গবন্ধুর বইগুলো দেখছিলেন আজিমপুর থেকে আসা জান্নাতুল ফেরদৌস জুয়েনা। তিনি বলেন, এখানে এলে মনটা আনন্দে ভরে ওঠে। নতুন বইয়ের খোঁজ নিই। অন্যের বই কেনা দেখি। বইয়ের প্রতি পাঠকের ভালোবাসা দেখে আনন্দ লাগে।
শুক্রবার ছুটির দিনে এমনিতেই ভিড় বেশি থাকে বইমেলায়। তার ওপর আগামীকাল শুক্রবার একসঙ্গে বসন্তবরণ এবং ভালোবাসা দিবস। ফলে এ দিন থেকে বিক্রি অনেক বেশি হওয়ার প্রত্যাশা প্রায় সব প্রকাশকের। গতকালও মেলা জমে ওঠার ইঙ্গিত মেলে। অনেক তরুণী বাসন্তী রঙের শাড়ি আর মাথায় ফুলের মালায় রাঙিয়ে দিতে শুরু করেছেন মেলাপ্রাঙ্গণ।
বাংলা একাডেমিসংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশদ্বারে একগাদা বই মাথায় দাঁড়িয়ে ছিল ছোট্ট এক শিশু। ভেতরে ঢোকার অপেক্ষায় নতুন বই। সবেমাত্র প্রেস থেকে আনা হয়েছে। ভেতরে ঢুকে দেখা গেল, তিন তরুণ একসঙ্গে টেনে নিচ্ছেন বইয়ের ট্রলি। দিন যত যাচ্ছে, নতুন-পুরোনো বইয়ের চাহিদাও বেড়ে চলেছে।
রাত সাড়ে ৭টার দিকে হয়ে গেল লেখকদের মিলন মেলা। মাহবুব আজীজের নতুন উপন্যাস 'আশ্চর্য কুহক'-এর পাঠ-উন্মোচন উপলক্ষে এসেছিলেন অনেক কবি-সাহিত্যিক-লেখক। তাদের ঘিরে বিপুল পাঠকের সমাগম হয়। বইটি প্রকাশ করেছে কথাপ্রকাশ।
গতকালই বইমেলায় নতুন মোড়কে প্রকাশ হয়েছে সুমন্ত আসলামের বই 'বৃষ্টি তোমার জন্য'। তবে এ লেখকের নতুন বইয়ের মধ্যে পাঠকপ্রিয় হয়ে উঠেছে 'প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন চা খেতে আসেন আমাদের বাসায়'। কথাপ্রকাশের বিক্রয়কর্মী মো. ইউনুস ও আশিকুর রহমান জানান, কয়েকজন লেখকের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। সুমন্ত আসলামের অন্য বইয়ের মধ্যে 'দুষ্ট তূর্য দুরন্ত ইন্দ্র দস্যি রাবিব আর মিসিং সাফিন' বইটির কথাও বললেন তারা।
মোশতাক আহমেদের সায়েন্স ফিকশন ও রকিব হাসানের গোয়েন্দা সিরিজের বইগুলো প্যাকেজ আকারে বিশেষ ছাড় দিয়ে বিক্রি করছে কথাপ্রকাশ। একইভাবে বিভিন্ন দেশের রূপকথা সিরিজের ১১টি এবং আনিসুল হকের উপন্যাস বিষয়ক তিনটি বইয়ের প্যাকেজও করেছে প্রকাশনাটি।
নতুন বই :এ দিন মেলায় নতুন বই এসেছে ১৫৪টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- যতীন সরকারের 'ব্যাকরণের ভয় অকারণ' (ইত্যাদি); আবুল কাসেম ফজলুল হকের 'জাতীয়তাবাদ আন্তর্জাতিকবাদ বিশ্বায়ন ও ভবিষ্যৎ' (পুঁথিনিলয়); খালেদ বিন জয়েনউদ্দীনের 'বঙ্গবন্ধু ও শেখ রাসেল' (সাত ভাই চম্পা প্রকাশনী); অনুপম হায়াৎ-এর 'বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্র' (বাংলা একাডেমি); ড. মুহাম্মদ মোজাম্মেল হকের 'মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র :অবিনাশী দলিল' (বাংলানামা); ড. আবদুল ওয়াহাবের 'ছোটদের বঙ্গবন্ধু' (কুকস ফেয়ার); ফরিদুর রেজা সাগরের 'বল্টু ভূতের গল্প' (ইতি প্রকাশন); আলী ইমামের 'সায়েন্স ফিকশন ভয়ঙ্কর দানব গডজিলা' (মিজান); কাইয়ুম নিজামীর 'অশ্রু ভরা চোখে' (গ্রন্থকুটির)।
মেলামঞ্চের আয়োজন :বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় অনুপম হায়াৎ রচিত 'বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্র' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাজেদুল আউয়াল। আলোচনায় অংশ নেন মোরশেদুল ইসলাম ও মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক। লেখকের বক্তব্য দেন অনুপম হায়াৎ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ।
প্রাবন্ধিক বলেন, অনুপম হায়াৎ রচিত বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্র গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা, বঙ্গবন্ধুর আমলে চলচ্চিত্রের উন্নয়ন ও নানা প্রসঙ্গ, চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধু এবং 'বঙ্গবন্ধুর সৃষ্টি পথে বিচ্ছুরিত আলোর মন্তাজ' শীর্ষক অধ্যায়-বিন্যাসে বঙ্গবন্ধুর সাংস্কৃতিক সত্তাকে পরিস্ম্ফুট করা হয়েছে। নিষ্ঠাবান গবেষক তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে এই বিশেষ কাজটিকে পূর্ণতা দিয়েছেন।
নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্রবিষয়ক আলোচনা বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বঙ্গবন্ধু কেবল মহান রাজনীতিবিদই ছিলেন না, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সংস্কৃতিমনা। বাংলার মানুষের সাংস্কৃতিক আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক স্বপ্ন প্রতিফলিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মে।
কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি জরিনা আখতার, সাজ্জাদ শরিফ, জাহিদ মুস্তাফা ও নওশাদ জামিল। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ফয়জুল্লাহ সাঈদ, মাহমুদুল হাকিম তানভীর ও আদিবা ইসমাত। সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী ফেরদৌস আরা, বশিরুজ্জামান সাব্বির, নবীন কিশোর, প্রিয়াংকা বিশ্বাস এবং অনন্যা আচার্য্য। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন কাজী ইমতিয়াজ সুলতান (তবলা), রিচার্ড কিশোর (গিটার), মো. শফিউজ্জামান (কি-বোর্ড), মো. আমির হোসেন (অক্টোপ্যাড)। লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন মারুফ রায়হান, জয়দীপ দে, অরুণ কুমার বিশ্বাস ও শিমুল সালাহ্উদ্দিন।
আজকের আয়োজন :আজ মেলার ১২তম দিন। মেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সুব্রত বড়ূয়া রচিত 'বঙ্গবন্ধুর জীবনকথা' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সুজন বড়ূয়া। আলোচনায় অংশ নেবেন খালেদ হোসাইন, লুৎফর রহমান রিটন ও মনি হায়দার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
গোপালগঞ্জের সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের শিক্ষার্থী দুই ভাই রায়হান ও রিয়াজ জানালেন, ছোটবেলা থেকে সায়েন্স ফিকশন এবং বিজ্ঞানভিত্তিক অনুবাদের বইগুলো তাদের খুবই পছন্দ। এর আগে কখনও বইমেলায় আসেননি। অনলাইনের বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তারা বই কিনে পড়েন।
প্রথমা প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী জাকির হোসেন সমকালকে বলেন, বেশিরভাগ তরুণ পাঠকের প্রথম পছন্দ অনুবাদের বই। সায়েন্স ফিকশনের বইও চলছে বেশ। শেখ আবদুল হাকিমের অনুবাদগ্রন্থ 'দ্য ম্যান ফ্রম পাকিস্তান' পাঠকের পছন্দের শীর্ষে। আবার অনেকে উপন্যাসের বইও কিনছেন। কবি নজরুল ইসলামের প্রেমিকাকে নিয়ে লেখা বিশ্বজিৎ চৌধুরীর 'কবি ও রহস্যময়ী' বইটির কথা আলাদাভাবে তুলে ধরলেন জাকির।
মুহম্মদ জাফর ইকবালের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি 'গ্নিনা' এনেছে সময় প্রকাশনী। এ লেখকের অন্য বইয়ের পাশাপাশি এবার 'গ্নিনা' নিয়ে পাঠকের আগ্রহ একটু বেশিই দেখা গেছে।
বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত ১১ দিনে নতুন বই প্রকাশ হয়েছে এক হাজার ৪৪২টি। এর মধ্যে সায়েন্স ফিকশন ও গোয়েন্দাবিষয়ক বই ২৯টি। ২৫টি বিজ্ঞানভিত্তিক বইয়ের পাশাপাশি অনুবাদের বই প্রকাশ হয়েছে ১৮টি। সংখ্যার দিক থেকে শুধু কবিতার বই প্রকাশ হয়েছে ৪২২টি। বিভিন্ন প্রকাশনী ঘুরে দেখা গেছে, বাংলা একাডেমির দেওয়া তথ্যের বাইরেও সায়েন্স ফিকশন, গোয়েন্দা অনুবাদ এবং বিজ্ঞানভিত্তিক অনেক বই প্রকাশ হয়েছে। প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে আরও কিছু বই।
বইমেলা ঘিরে এবারও তরুণদের আগ্রহ দেখা গেছে। গতকাল 'বঙ্গবন্ধু পাঠে' বসে বঙ্গবন্ধুর বইগুলো দেখছিলেন আজিমপুর থেকে আসা জান্নাতুল ফেরদৌস জুয়েনা। তিনি বলেন, এখানে এলে মনটা আনন্দে ভরে ওঠে। নতুন বইয়ের খোঁজ নিই। অন্যের বই কেনা দেখি। বইয়ের প্রতি পাঠকের ভালোবাসা দেখে আনন্দ লাগে।
শুক্রবার ছুটির দিনে এমনিতেই ভিড় বেশি থাকে বইমেলায়। তার ওপর আগামীকাল শুক্রবার একসঙ্গে বসন্তবরণ এবং ভালোবাসা দিবস। ফলে এ দিন থেকে বিক্রি অনেক বেশি হওয়ার প্রত্যাশা প্রায় সব প্রকাশকের। গতকালও মেলা জমে ওঠার ইঙ্গিত মেলে। অনেক তরুণী বাসন্তী রঙের শাড়ি আর মাথায় ফুলের মালায় রাঙিয়ে দিতে শুরু করেছেন মেলাপ্রাঙ্গণ।
বাংলা একাডেমিসংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশদ্বারে একগাদা বই মাথায় দাঁড়িয়ে ছিল ছোট্ট এক শিশু। ভেতরে ঢোকার অপেক্ষায় নতুন বই। সবেমাত্র প্রেস থেকে আনা হয়েছে। ভেতরে ঢুকে দেখা গেল, তিন তরুণ একসঙ্গে টেনে নিচ্ছেন বইয়ের ট্রলি। দিন যত যাচ্ছে, নতুন-পুরোনো বইয়ের চাহিদাও বেড়ে চলেছে।
রাত সাড়ে ৭টার দিকে হয়ে গেল লেখকদের মিলন মেলা। মাহবুব আজীজের নতুন উপন্যাস 'আশ্চর্য কুহক'-এর পাঠ-উন্মোচন উপলক্ষে এসেছিলেন অনেক কবি-সাহিত্যিক-লেখক। তাদের ঘিরে বিপুল পাঠকের সমাগম হয়। বইটি প্রকাশ করেছে কথাপ্রকাশ।
গতকালই বইমেলায় নতুন মোড়কে প্রকাশ হয়েছে সুমন্ত আসলামের বই 'বৃষ্টি তোমার জন্য'। তবে এ লেখকের নতুন বইয়ের মধ্যে পাঠকপ্রিয় হয়ে উঠেছে 'প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন চা খেতে আসেন আমাদের বাসায়'। কথাপ্রকাশের বিক্রয়কর্মী মো. ইউনুস ও আশিকুর রহমান জানান, কয়েকজন লেখকের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। সুমন্ত আসলামের অন্য বইয়ের মধ্যে 'দুষ্ট তূর্য দুরন্ত ইন্দ্র দস্যি রাবিব আর মিসিং সাফিন' বইটির কথাও বললেন তারা।
মোশতাক আহমেদের সায়েন্স ফিকশন ও রকিব হাসানের গোয়েন্দা সিরিজের বইগুলো প্যাকেজ আকারে বিশেষ ছাড় দিয়ে বিক্রি করছে কথাপ্রকাশ। একইভাবে বিভিন্ন দেশের রূপকথা সিরিজের ১১টি এবং আনিসুল হকের উপন্যাস বিষয়ক তিনটি বইয়ের প্যাকেজও করেছে প্রকাশনাটি।
নতুন বই :এ দিন মেলায় নতুন বই এসেছে ১৫৪টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- যতীন সরকারের 'ব্যাকরণের ভয় অকারণ' (ইত্যাদি); আবুল কাসেম ফজলুল হকের 'জাতীয়তাবাদ আন্তর্জাতিকবাদ বিশ্বায়ন ও ভবিষ্যৎ' (পুঁথিনিলয়); খালেদ বিন জয়েনউদ্দীনের 'বঙ্গবন্ধু ও শেখ রাসেল' (সাত ভাই চম্পা প্রকাশনী); অনুপম হায়াৎ-এর 'বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্র' (বাংলা একাডেমি); ড. মুহাম্মদ মোজাম্মেল হকের 'মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র :অবিনাশী দলিল' (বাংলানামা); ড. আবদুল ওয়াহাবের 'ছোটদের বঙ্গবন্ধু' (কুকস ফেয়ার); ফরিদুর রেজা সাগরের 'বল্টু ভূতের গল্প' (ইতি প্রকাশন); আলী ইমামের 'সায়েন্স ফিকশন ভয়ঙ্কর দানব গডজিলা' (মিজান); কাইয়ুম নিজামীর 'অশ্রু ভরা চোখে' (গ্রন্থকুটির)।
মেলামঞ্চের আয়োজন :বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় অনুপম হায়াৎ রচিত 'বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্র' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাজেদুল আউয়াল। আলোচনায় অংশ নেন মোরশেদুল ইসলাম ও মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক। লেখকের বক্তব্য দেন অনুপম হায়াৎ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ।
প্রাবন্ধিক বলেন, অনুপম হায়াৎ রচিত বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্র গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা, বঙ্গবন্ধুর আমলে চলচ্চিত্রের উন্নয়ন ও নানা প্রসঙ্গ, চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধু এবং 'বঙ্গবন্ধুর সৃষ্টি পথে বিচ্ছুরিত আলোর মন্তাজ' শীর্ষক অধ্যায়-বিন্যাসে বঙ্গবন্ধুর সাংস্কৃতিক সত্তাকে পরিস্ম্ফুট করা হয়েছে। নিষ্ঠাবান গবেষক তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে এই বিশেষ কাজটিকে পূর্ণতা দিয়েছেন।
নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্রবিষয়ক আলোচনা বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বঙ্গবন্ধু কেবল মহান রাজনীতিবিদই ছিলেন না, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সংস্কৃতিমনা। বাংলার মানুষের সাংস্কৃতিক আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক স্বপ্ন প্রতিফলিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মে।
কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি জরিনা আখতার, সাজ্জাদ শরিফ, জাহিদ মুস্তাফা ও নওশাদ জামিল। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ফয়জুল্লাহ সাঈদ, মাহমুদুল হাকিম তানভীর ও আদিবা ইসমাত। সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী ফেরদৌস আরা, বশিরুজ্জামান সাব্বির, নবীন কিশোর, প্রিয়াংকা বিশ্বাস এবং অনন্যা আচার্য্য। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন কাজী ইমতিয়াজ সুলতান (তবলা), রিচার্ড কিশোর (গিটার), মো. শফিউজ্জামান (কি-বোর্ড), মো. আমির হোসেন (অক্টোপ্যাড)। লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন মারুফ রায়হান, জয়দীপ দে, অরুণ কুমার বিশ্বাস ও শিমুল সালাহ্উদ্দিন।
আজকের আয়োজন :আজ মেলার ১২তম দিন। মেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সুব্রত বড়ূয়া রচিত 'বঙ্গবন্ধুর জীবনকথা' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সুজন বড়ূয়া। আলোচনায় অংশ নেবেন খালেদ হোসাইন, লুৎফর রহমান রিটন ও মনি হায়দার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
- বিষয় :
- অমর একুশে গ্রন্থমেলা
