অমর একুশে গ্রন্থমেলা
ফুল বসন্তের দিন
×
জয়নাল আবেদীন
প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩:১৯
খোঁপায় তাজা ফুল, পরনে বাসন্তী রঙের শাড়ি। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান- সর্বত্রই রঙের মেলা। গতকাল বৃহস্পতিবার মেলায় আসা তরুণীদের উৎসবমুখর উপস্থিতি দেখে মনেই হয়নি ফাল্কগ্দুনের অপেক্ষা এক দিন বেড়েছে। বদলে যাওয়া পঞ্জিকায় ঋতুরাজ বসন্ত এলো আজ। বসন্তের ভেলায় ভেসে এলো ভালোবাসার দিন। ছুটির দিন, ফাল্কগ্দুন আর ভালোবাসা দিবস- তিন-তিনটি উপলক্ষ ঘিরে আজ গ্রন্থমেলা হবে আরও রঙিন, আরও বর্ণিল। ছুটির দিনের সুবাদে মেলার দুয়ার খুলবে সকাল ১০টায়। এর পরই ছড়িয়ে যাবে রঙের মেলা। চারদিকে বেজে উঠবে, 'আহা, আজি এ বসন্তে এত ফুল ফোটে...।'
লেখক-প্রকাশকরা বলছেন, আজ ফাল্কগ্দুনের গুনগুনানিতেই ভেঙে যাবে পাঠকের ঘুম। মেলা পাবে তার সত্যিকারের রূপ। আজ ছড়িয়ে পড়া এই রং শেষ দিন পর্যন্ত প্রাঙ্গণজুড়ে পাঠকের সঙ্গে মিশে থাকার প্রত্যাশাও তাদের।
বইমেলায় বসন্ত আসে প্রতিবারই। এ দিনটি ফুলে ফুলে রাঙিয়ে দিতে মাঘের শীতে ঘাম ঝরিয়ে যাচ্ছিলেন ফুলচাষিরা। গ্রাম থেকে গ্রামে বোনা রঙিন ফুলের বাহার আজ শহর থেকে শহরে। মেলা প্রাঙ্গণের বাইরে গতকাল অন্যদিনের চেয়ে বেশি ভিড় ছিল ফুল বিক্রেতাদের। আজ সকাল থেকে তাদের ভিড় আরও বাড়বে।
গতকাল বিকেল ৫টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের ছবিটা অন্যদিনের চেয়ে কিছুটা আলাদা ছিল। বাসন্তী রঙের শাড়ি আর হলুদ রঙের পাঞ্জাবি পরা জুটি সেলফি তোলায় ব্যস্ত ছিল। চাকরিজীবী ফয়সাল আহমেদ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মারিয়া রহমান ফাল্কগ্দুন ভেবেই সেজেগুজে এসেছিলেন। মারিয়ার খোঁপায় ফুল। ফয়সাল বললেন, বসন্তবরণের দিনে বইমেলা প্রাঙ্গণে অন্যরকম আমেজ থাকে। সেই আমেজে নিজেদেরও শামিল করার প্রত্যাশায় বনশ্রী থেকে দুপুরেই রওনা হন। এসে জানতে পারেন, বসন্তের আগমন আরও
এক দিন পরে। তাতে খুব একটা ক্ষতি হয়নি; বরং তাদের মতোই মেলা প্রাঙ্গণ রঙিন করে তোলা তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে দিনটা আনন্দেই কেটেছে।
সন্ধ্যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢুকতে রীতিমতো সিরিয়াল ধরতে হলো। বেশিরভাগ তরুণী এসেছিলেন শাড়ি পরে। খোঁপায় ফুলের বাহার। এই ফুলের সুবাস টের পাওয়া গেল উদ্যানজুড়ে। অবশ্য কয়েক দিন ধরেই ফুলে ফুলে রাঙিয়ে ছিল মেলা প্রাঙ্গণ।
তিন বছরের ছেলে ফাইয়াজ কবিরকে ঘিরে আহমেদ কবির ও মনিরা ইসলামের ছিল বাঁধনহারা উচ্ছ্বাস। তিনজনের পরনেই বসন্তের ছোঁয়া। চাকরিজীবী কবির জানালেন, বসন্তের এই উৎসব থেকে নিজেদের একদমই বঞ্চিত করতে চাননি বলে পোশাকে রাঙিয়ে তুলেছেন নিজেদের।
প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলো ঘুরে দেখা যায়, নারী বিক্রয়কর্মী অনেকেই গতকাল এসেছিলেন শাড়ি পরে। কারও কারও মাথায় ছিল ফুলের মালা। প্রাণোচ্ছল এই তরুণীরা বই বিক্রির পাশাপাশি বসন্তের আগমনী আনন্দে শামিল করেন নিজেদের।
বটেশ্বর-বর্ণন প্রকাশনীর কর্ণধার আবদুল মালেক জানান, প্রতিবছর ফাল্কগ্দুনের দিন থেকে মেলা জমজমাট হয়ে ওঠে। এবার তো একই সঙ্গে তিনটি উপলক্ষ। ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকে মেলার দুয়ার খুলবে। ফলে দিনভর পাঠকের আগমনও বেশি থাকবে বলে তিনি আশা করেন।
নতুন বই :মেলায় গতকাল নতুন বই এসেছে ১৮০টি। ১২ দিনে বইমেলায় প্রকাশ পেয়েছে এক হাজার ৬২২টি নতুন বই। গতকালের নতুন বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- সৈয়দ শামসুল হকের 'বঙ্গবন্ধু :স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ' (চারুলিপি); হাবীবুল্লাহ সিরাজীর 'নোনা জলে বুনো সংসার' (অন্যধারা); কাজী মোতাহার হোসেনের 'মুক্তজ্ঞানের প্রবাদপুরুষ' (শোভাপ্রকাশ); শেখ আবদুল হাকিমের 'পাঁচটি রহস্যোপন্যাস' (সালমা বুক ডিপো); সুশান্ত হালদারের 'লাশকাটা ঘর' (নন্দিতা); মোহাম্মদ আব্দুর রউফের 'আহমদ ছফা' (ভাষাপ্রকাশ); আলতাফ পারভেজের 'মিঞা অসমিয়া এনআরসি' (প্রথমা); নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীরের 'দায়ভাগ' (অন্যপ্রকাশ); সুব্রত বড়ূয়ার 'বঙ্গবন্ধুর জীবনকথা' (বাংলা একাডেমি), তোফায়েল আহমেদের 'বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ' (আদর্শ), আনিসুল হকের 'কিশোর অ্যাডভেঞ্চার' (ইতি প্রকাশন), সাইফুল্লাহ নবীনের 'মুক্তিযুদ্ধের কিশোর গল্প' (সাত ভাই চম্পা প্রকাশনী), রকিব হাসানের 'শয়তানের বাঁশি' (অনন্যা), ফরহাদ হোসেনের 'ধূসর বসন্ত' (আনন্দম) ও 'তৃতীয় পক্ষ' (অন্যপ্রকাশ)।
মঞ্চের আয়োজন :বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সুব্রত বড়ূয়া রচিত 'বঙ্গবন্ধুর জীবনকথা' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন বড়ূয়া। আলোচনায় অংশ নেন লুৎফর রহমান রিটন ও মনি হায়দার। লেখকের বক্তব্য দেন সুব্রত বড়ূয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি।
প্রাবন্ধিক বলেন, আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বঙ্গবন্ধুর নীতি-আদর্শ, দর্শন জানা এবং চর্চা করা। নতুন প্রজন্মের নবীন-তরুণদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যত আগ্রহ সৃষ্টি করা যাবে, তারা ততই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে।
ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি বলেন, সুব্রত বড়ূয়ার লিখিত এ গ্রন্থ অত্যন্ত তথ্যনিষ্ঠ এবং বিশ্নেষণ-ঋদ্ধ। আমাদের এবং নতুন প্রজন্মের জন্য প্রয়োজনীয় একটি গ্রন্থ।
'লেখক বলছি' অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী, মৌলি আজাদ, রাসেল আশেকী ও শোয়েব সর্বনাম।
কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি মাহবুব সাদিক, শাহজাদী আঞ্জুমান আরা, মুনীর সিরাজ ও মাসুদ হাসান। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মো. শাহাদাৎ হোসেন, অনিমেষ কর ও তামান্না সারোয়ার নীপা। নৃত্য পরিবেশন করেন ঝুম্পার পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন 'জলতরঙ্গ ড্যান্স কোম্পানি'র নৃত্যশিল্পীরা। সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী দীনাত জাহান মুন্নী, আঞ্জুমান আরা শিমুল, কাজী মুয়ীদ শাহরিয়ার সিরাজ জয়, মো. রেজওয়ানুল হক ও সঞ্জয় কুমার দাস। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন পলাশ হালদার (পারকেশন), টুটুল বড়ূয়া (বেইজ গিটার), এমিল মুরছালিন (গিটার), মো জাহিদুর রহমান (কিবোর্ড) ও পলাশ চক্রবর্তী (অক্টোপ্যাড)।
শিশুপ্রহর দিয়ে শুরু আজ :আজ গ্রন্থমেলার ১৩তম দিন। ছুটির দিনের সুবাদে মেলার দুয়ার খুলবে সকাল ১০টায়, খোলা থাকবে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মেলায় থাকবে শিশুপ্রহর। সকাল ১০টায় শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে আসাদ চৌধুরী রচিত 'সংগ্রামী নায়ক বঙ্গবন্ধু' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন শোয়াইব জিবরান। আলোচনায় অংশ নেবেন আনিসুর রহমান ও নূরুন্নাহার মুক্তা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক খুরশীদা বেগম। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
লেখক-প্রকাশকরা বলছেন, আজ ফাল্কগ্দুনের গুনগুনানিতেই ভেঙে যাবে পাঠকের ঘুম। মেলা পাবে তার সত্যিকারের রূপ। আজ ছড়িয়ে পড়া এই রং শেষ দিন পর্যন্ত প্রাঙ্গণজুড়ে পাঠকের সঙ্গে মিশে থাকার প্রত্যাশাও তাদের।
বইমেলায় বসন্ত আসে প্রতিবারই। এ দিনটি ফুলে ফুলে রাঙিয়ে দিতে মাঘের শীতে ঘাম ঝরিয়ে যাচ্ছিলেন ফুলচাষিরা। গ্রাম থেকে গ্রামে বোনা রঙিন ফুলের বাহার আজ শহর থেকে শহরে। মেলা প্রাঙ্গণের বাইরে গতকাল অন্যদিনের চেয়ে বেশি ভিড় ছিল ফুল বিক্রেতাদের। আজ সকাল থেকে তাদের ভিড় আরও বাড়বে।
গতকাল বিকেল ৫টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের ছবিটা অন্যদিনের চেয়ে কিছুটা আলাদা ছিল। বাসন্তী রঙের শাড়ি আর হলুদ রঙের পাঞ্জাবি পরা জুটি সেলফি তোলায় ব্যস্ত ছিল। চাকরিজীবী ফয়সাল আহমেদ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মারিয়া রহমান ফাল্কগ্দুন ভেবেই সেজেগুজে এসেছিলেন। মারিয়ার খোঁপায় ফুল। ফয়সাল বললেন, বসন্তবরণের দিনে বইমেলা প্রাঙ্গণে অন্যরকম আমেজ থাকে। সেই আমেজে নিজেদেরও শামিল করার প্রত্যাশায় বনশ্রী থেকে দুপুরেই রওনা হন। এসে জানতে পারেন, বসন্তের আগমন আরও
এক দিন পরে। তাতে খুব একটা ক্ষতি হয়নি; বরং তাদের মতোই মেলা প্রাঙ্গণ রঙিন করে তোলা তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে দিনটা আনন্দেই কেটেছে।
সন্ধ্যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢুকতে রীতিমতো সিরিয়াল ধরতে হলো। বেশিরভাগ তরুণী এসেছিলেন শাড়ি পরে। খোঁপায় ফুলের বাহার। এই ফুলের সুবাস টের পাওয়া গেল উদ্যানজুড়ে। অবশ্য কয়েক দিন ধরেই ফুলে ফুলে রাঙিয়ে ছিল মেলা প্রাঙ্গণ।
তিন বছরের ছেলে ফাইয়াজ কবিরকে ঘিরে আহমেদ কবির ও মনিরা ইসলামের ছিল বাঁধনহারা উচ্ছ্বাস। তিনজনের পরনেই বসন্তের ছোঁয়া। চাকরিজীবী কবির জানালেন, বসন্তের এই উৎসব থেকে নিজেদের একদমই বঞ্চিত করতে চাননি বলে পোশাকে রাঙিয়ে তুলেছেন নিজেদের।
প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলো ঘুরে দেখা যায়, নারী বিক্রয়কর্মী অনেকেই গতকাল এসেছিলেন শাড়ি পরে। কারও কারও মাথায় ছিল ফুলের মালা। প্রাণোচ্ছল এই তরুণীরা বই বিক্রির পাশাপাশি বসন্তের আগমনী আনন্দে শামিল করেন নিজেদের।
বটেশ্বর-বর্ণন প্রকাশনীর কর্ণধার আবদুল মালেক জানান, প্রতিবছর ফাল্কগ্দুনের দিন থেকে মেলা জমজমাট হয়ে ওঠে। এবার তো একই সঙ্গে তিনটি উপলক্ষ। ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকে মেলার দুয়ার খুলবে। ফলে দিনভর পাঠকের আগমনও বেশি থাকবে বলে তিনি আশা করেন।
নতুন বই :মেলায় গতকাল নতুন বই এসেছে ১৮০টি। ১২ দিনে বইমেলায় প্রকাশ পেয়েছে এক হাজার ৬২২টি নতুন বই। গতকালের নতুন বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- সৈয়দ শামসুল হকের 'বঙ্গবন্ধু :স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ' (চারুলিপি); হাবীবুল্লাহ সিরাজীর 'নোনা জলে বুনো সংসার' (অন্যধারা); কাজী মোতাহার হোসেনের 'মুক্তজ্ঞানের প্রবাদপুরুষ' (শোভাপ্রকাশ); শেখ আবদুল হাকিমের 'পাঁচটি রহস্যোপন্যাস' (সালমা বুক ডিপো); সুশান্ত হালদারের 'লাশকাটা ঘর' (নন্দিতা); মোহাম্মদ আব্দুর রউফের 'আহমদ ছফা' (ভাষাপ্রকাশ); আলতাফ পারভেজের 'মিঞা অসমিয়া এনআরসি' (প্রথমা); নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীরের 'দায়ভাগ' (অন্যপ্রকাশ); সুব্রত বড়ূয়ার 'বঙ্গবন্ধুর জীবনকথা' (বাংলা একাডেমি), তোফায়েল আহমেদের 'বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ' (আদর্শ), আনিসুল হকের 'কিশোর অ্যাডভেঞ্চার' (ইতি প্রকাশন), সাইফুল্লাহ নবীনের 'মুক্তিযুদ্ধের কিশোর গল্প' (সাত ভাই চম্পা প্রকাশনী), রকিব হাসানের 'শয়তানের বাঁশি' (অনন্যা), ফরহাদ হোসেনের 'ধূসর বসন্ত' (আনন্দম) ও 'তৃতীয় পক্ষ' (অন্যপ্রকাশ)।
মঞ্চের আয়োজন :বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সুব্রত বড়ূয়া রচিত 'বঙ্গবন্ধুর জীবনকথা' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন বড়ূয়া। আলোচনায় অংশ নেন লুৎফর রহমান রিটন ও মনি হায়দার। লেখকের বক্তব্য দেন সুব্রত বড়ূয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি।
প্রাবন্ধিক বলেন, আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বঙ্গবন্ধুর নীতি-আদর্শ, দর্শন জানা এবং চর্চা করা। নতুন প্রজন্মের নবীন-তরুণদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যত আগ্রহ সৃষ্টি করা যাবে, তারা ততই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে।
ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি বলেন, সুব্রত বড়ূয়ার লিখিত এ গ্রন্থ অত্যন্ত তথ্যনিষ্ঠ এবং বিশ্নেষণ-ঋদ্ধ। আমাদের এবং নতুন প্রজন্মের জন্য প্রয়োজনীয় একটি গ্রন্থ।
'লেখক বলছি' অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী, মৌলি আজাদ, রাসেল আশেকী ও শোয়েব সর্বনাম।
কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি মাহবুব সাদিক, শাহজাদী আঞ্জুমান আরা, মুনীর সিরাজ ও মাসুদ হাসান। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মো. শাহাদাৎ হোসেন, অনিমেষ কর ও তামান্না সারোয়ার নীপা। নৃত্য পরিবেশন করেন ঝুম্পার পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন 'জলতরঙ্গ ড্যান্স কোম্পানি'র নৃত্যশিল্পীরা। সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী দীনাত জাহান মুন্নী, আঞ্জুমান আরা শিমুল, কাজী মুয়ীদ শাহরিয়ার সিরাজ জয়, মো. রেজওয়ানুল হক ও সঞ্জয় কুমার দাস। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন পলাশ হালদার (পারকেশন), টুটুল বড়ূয়া (বেইজ গিটার), এমিল মুরছালিন (গিটার), মো জাহিদুর রহমান (কিবোর্ড) ও পলাশ চক্রবর্তী (অক্টোপ্যাড)।
শিশুপ্রহর দিয়ে শুরু আজ :আজ গ্রন্থমেলার ১৩তম দিন। ছুটির দিনের সুবাদে মেলার দুয়ার খুলবে সকাল ১০টায়, খোলা থাকবে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মেলায় থাকবে শিশুপ্রহর। সকাল ১০টায় শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে আসাদ চৌধুরী রচিত 'সংগ্রামী নায়ক বঙ্গবন্ধু' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন শোয়াইব জিবরান। আলোচনায় অংশ নেবেন আনিসুর রহমান ও নূরুন্নাহার মুক্তা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক খুরশীদা বেগম। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
- বিষয় :
- গ্রন্থমেলা
