ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বইমেলা ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই কম

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই কম
×

 দ্রোহী তারা

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৪১ | আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ | ১২:১২

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিকেলের আলো তখন ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছে। গতকাল সোমবার রাজধানীতে নামল মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি। এতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে বয়ে যায় ঝোড়ো ঠান্ডা বাতাস। ধুলোমাখা পথের ওপর ওড়ে শুকনো পাতা। কিছুক্ষণের জন্য দর্শনার্থীরা আশ্রয় নেন স্টলের ভেতরে। আবহাওয়ার এই আকস্মিক পরিবর্তনের মধ্যেও অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণে চলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বইয়ের অনুসন্ধান। 

বইমেলা ঘুরে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বইয়ের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। তাতেও পাঠক ও গবেষণামনস্ক তরুণদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। প্রকাশক, গবেষক ও লেখকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের নানা বাস্তবতা ও অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে প্রকাশনা জগতে।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের স্টল রয়েছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর থেকে প্রকাশিত বই, স্মারক বুকলেট, পোস্টার, মানচিত্রখচিত পতাকাসহ বিভিন্ন জিনিস রয়েছে। গতকাল স্টলে কথা হয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের স্মারক সংগ্রাহক হারেছ-উজ-জামানের সঙ্গে। তিনি বলেন, কিছু পোস্টার বিক্রি হয়েছে গত পাঁচ দিনে। এমনিতে স্টলে মানুষের আনাগোনা কম। তবে যারা মুক্তিযুদ্ধ বিষয় নিয়ে খোঁজাখুঁজি করেন, তারা এসে এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের খোঁজখবর করেন।

মেলায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রাফি মাহমুদ বলেন, প্রতিবছর বইমেলায় আসি। তবে এবার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা বইগুলোই বেশি খুঁজছি। পাঠ্যবইয়ের বাইরের অভিজ্ঞতাভিত্তিক লেখাগুলো পড়তে চাই।

মুক্তিযুদ্ধের বই প্রকাশ কম হচ্ছে জানিয়ে মেলা প্রাঙ্গণে উপস্থিত লেখক ও গবেষক সালেক খোকন বলেন, সাম্প্রতিক সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাও এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে। বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিযুদ্ধকে অপমান বা অসম্মান করার ঘটনা ঘটেছে। গত দেড় বছরে মবসহ নানা ঘটনার কারণে অনেকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বই প্রকাশে সাহস পাননি। প্রকাশকদের মধ্যেও আগ্রহ কমেছে। তবে সত্যিকারের গবেষকরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিকূলতার মধ্যেও কাজ হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা এলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণার পরিধি আরও বাড়বে।

প্রাবন্ধিক মামুন সিদ্দিকী মনে করেন, বই কম প্রকাশ হলেও গবেষণার কাজ থেমে নেই। তিনি বলেন, বিগত বছরের কিছু সংকটের কারণে অনেক প্রকাশক ও গবেষকের মধ্যেই সংশয় তৈরি হয়েছিল। তাই এবারের মেলায় মুক্তিযুদ্ধের বই কম প্রকাশ হয়েছে। তবে কাজ থেমে নেই। অনেকেই পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত রেখেছেন; কিন্তু নানা বাস্তবতায় এবার প্রকাশ করেননি। সামনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বই প্রকাশ বাড়বে বলেই আশা করি।

তবে মেলায় তরুণদের সঙ্গে কথা বলে মুক্তিযুদ্ধ ও এ বিষয়ে বইয়ের প্রতি আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। কলেজ শিক্ষার্থী নাবিলা রহমান বলেন, ইন্টারনেটে অনেক তথ্য পাওয়া যায়, কিন্তু বই পড়ে বিষয়টা গভীরভাবে বোঝা যায়। এখানে এসে গবেষণাধর্মী বই, স্মৃতিকথা ও ছবিনির্ভর প্রকাশনা দেখে আগ্রহ আরও বেড়েছে।

আবার তরুণ চাকরিজীবী সায়েম হাসান জানান, তিনি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের স্টল থেকে যুদ্ধকালীন বিভিন্ন ছবিসংবলিত কয়েকটি ভিউকার্ড কিনেছেন। তাঁর ভাষায়, পুরোনো ছবিগুলো হাতে নিলে মনে হয়, ইতিহাস যেন সামনে জীবন্ত হয়ে উঠছে। বইয়ের পাশাপাশি এ ধরনের স্মারক আমাদের অতীতকে মনে করিয়ে দেয়।
মেলা হওয়া নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা থাকায় বই প্রকাশ কম বলেও জানান বাতিঘরের সিইও জাফর আহমদ রাশেদ। তিনি বলেন, কোন বই প্রকাশ করা যাবে, কী বই মেলায় প্রদর্শন করা যাবে– এসব নিয়েও অনেকে ভাবনায় ছিলেন। এ কারণে হয়তো মুক্তিযুদ্ধের বই কম দেখা যাচ্ছে।

মূলমঞ্চের আয়োজন ও নতুন বই
গতকাল মেলায় নতুন বই জমা পড়ে ৪০টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী ঘটনামালা (কথাপ্রকাশ), সালেক খোকন; ১৯৭১: অবরুদ্ধ দেশে স্পার্টাকাস (অনন্যা), মুনতাসীর মামুন; স্মৃতি ও রাজনীতি: চট্টগ্রাম মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর (জাগতিক প্রকাশন), নাওজিশ মাহমুদ; শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক লুৎফুর রহমান, সুবর্ণ প্রকাশনী।

আজকের আয়োজন
বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘জন্মশতবর্ষ : তাজউদ্দীন আহমদ’। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মহিউদ্দিন আহমদ। অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেবেন সাজ্জাদ সিদ্দিকী। 

আরও পড়ুন

×