ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কুয়েটের গবেষণা উৎসব ইউরেকা

কুয়েটের গবেষণা উৎসব ইউরেকা
×

উৎসবে ৪০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন

বায়েজিদ আমান 

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | ১০:১০

কুয়েট রিসার্চ সোসাইটি (কেআরএস) ও অ্যাকাডেমিক অ্যাচিভমেন্ট অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (এএএসডিসি) যৌথ আয়োজনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) সবচেয়ে বড় গবেষণা উৎসব ‘ইউরেকা সিজন-১’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সম্প্রতি এ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে গবেষণাকে শিল্প ও বাস্তব জীবনের প্রয়োগের সঙ্গে যোগ করার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা হয়। উৎসবে ৪০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ও ৫০ জনের বেশি একাডেমিক বিশেষজ্ঞ অংশগ্রহণ করেন। 

অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘থ্রি মিনিটস থিসিস’ প্রতিযোগিতা, যা বিশ্বের ৮৫টিরও বেশি দেশে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগীরা মাত্র তিন মিনিটে তাদের পুরো গবেষণার সারমর্ম উপস্থাপন করেন।

স্নাতক থিসিস অব দ্য ইয়ার পুরস্কার অর্জন করেন মোহাম্মদ আবির রহমান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী, যার থিসিসের বিষয় ছিল ‘এআই আনসার্স– উইদাউট সিং ইওর কোয়েশ্চেন’। 

স্নাতকোত্তর থিসিস অব দ্য ইয়ার পুরস্কার লাভ করেন জান্নাতুল ফেরদৌস, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং (বিএমই) বিভাগের এমএসসি শিক্ষার্থী, তাঁর থিসিসের শিরোনাম ছিল ‘মোডেলিং হেমোডাইনামিকস ফর সেরিব্রোভাসকুলার ডিজিজেস অ্যান্ড ড্রাগ বিহেভিয়ার’।

কুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান বলেন, ‘উদ্ভাবন তখনই বাস্তব রূপ পায়, যখন গবেষণার ফলাফল বাস্তব জীবনের সমস্যার সঙ্গে সংযুক্ত হয়। শিল্প ও একাডেমিয়ার সহযোগিতায় সেই তত্ত্বকে বাস্তবে রূপান্তরিত করে।’

কুয়েট রিসার্চ সোসাইটির উপদেষ্টা প্রফেসর ড. কাজী হামিদুল বারী বলেন, ‘ইউরেকা সিজন–১’ কুয়েটের গবেষণা সংস্কৃতিতে একটি নতুন অধ্যায়। এটি প্রমাণ করেছে কীভাবে একাডেমিক গবেষণা জাতীয় শিল্প খাতের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’

একাডেমিক অ্যাচিভমেন্ট অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের পরিচালক ও কুয়েট রিসার্চ সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য– এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু প্রকৌশলী নয়, উদ্ভাবক হিসেবে চিন্তা করতে শেখে। ইউরেকা সেই পথের অংশ।’

কুয়েট রিসার্চ সোসাইটির সভাপতি নাফিস আহমেদ পান্থ বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতা শুরু করার মূল উদ্দেশ্য ছিল– বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে বাস্তব জীবনের সমস্যা ও চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করা। গবেষণাকে বাস্তব সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করাই আমাদের প্রকৃত উন্নয়নের পথ।’

‘ইউরেকা (সিজন–১)’ গবেষণা ও শিল্প– একাডেমিয়া সহযোগিতার এক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তিগত গবেষণার মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। 

আরও পড়ুন

×