বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
যুক্তির লড়াই: আমাদের ফ্যাকাল্টিই সেরা
মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় রম্য যুক্তি-তর্কের লড়াই
সুমন গাজী
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১০:৫৭
বাংলা নববর্ষ মানেই নতুনের আহ্বান, প্রাণের উচ্ছ্বাস আর বন্ধুত্বের রঙিন গল্প। সেই রঙে ভরপুর দিনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) যেন রূপ নেয় প্রাণচঞ্চল যুক্তিমেলায়। ক্যাম্পাসের জব্বারের মোড় থেকে শুরু করে কেআর মার্কেটসহ সবখানেই চায়ের কাপে চুমুকের সঙ্গে ঝড় তোলে এক চিরচেনা প্রশ্ন: ‘কার ফ্যাকাল্টি সেরা?’
এই চিরন্তন আড্ডার বিতর্কই এবার মঞ্চ পেল বর্ষবরণের দিনে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় বন্ধুত্বের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের রম্য যুক্তি-তর্কের লড়াই। ‘আমার ফ্যাকাল্টিই সেরা’ শীর্ষক এক ব্যতিক্রমধর্মী রম্য বিতর্কের আয়োজন করে ‘বাউ সলিডারিটি সোসাইটি (বাউএসএস)’। গত ১৪ এপ্রিল এ আয়োজনে অংশ নেন ছয় অনুষদের ছয়জন শিক্ষার্থী। তাদের প্রাণবন্ত যুক্তিতর্কে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। বিতর্ক শুরু হতেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে হাসির ঝর্ণা। দর্শক সারিতে হাততালির ঢেউ ওঠে একের পর এক যুক্তি আর পাল্টা যুক্তিতে।
কেউ বলেন, বাকৃবির আন্দোলন মানেই পশুপালন ও ভেটেরিনারি অনুষদ। হলে বসে ক্যাম্পাসে গেঞ্জামের কথা শুনলে নিশ্চিত হয়ে যায় দুই ফ্যাকাল্টির কেউ শুরু করেছে, ছুটি পাওয়া যাবে। আবার কেউ ঠাট্টা করে ডিপ্লোমাদের সঙ্গে ক্লাসলেস আন্দোলনে আর যা-ই হোক আমরা যাই না। অন্যদিকে কেউ সেরা প্রমাণে যুক্তি দেন, ইলিশ মাছ ছাড়া পহেলা বৈশাখের উৎসব কল্পনাই করা যায় না। কেউ আবার কৃষকের উন্নয়নে নিজেদের একক অবদানের কথা তুলে ধরে শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডিম দিবস’ আর ‘দুধ দিবস’ কার? এ নিয়েও চলে মজার খোঁচাখুঁচি। আবার কেউ বলে, যত যা-ই কর না কেন, তুমি গরুর ডাক্তার। এভাবে রম্যরস ও বিনোদনে ভরপুর এই বিতর্কে প্রত্যেক বিতার্কিক অত্যন্ত চাতুর্যের সঙ্গে নিজ নিজ অনুষদের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরেন। নিজেদের অনুষদের সেরা প্রমাণে ছিলেন সমানভাবে দৃঢ়। তবে অনুষ্ঠানের সমাপনীতে ছিল বিশেষ চমক।
দর্শকসারির শ্রোতারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় তার অনুষদের সেরার ঘোষণা। অনুষ্ঠানের প্রধান বিচারক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হকের হাতে মাইক; ঘোষণার পালা। এমন সময় প্রধান বিচারক জানালেন একতার কথা। তিনি বিতার্কিকদের সৃজনশীলতা ও উপস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, ‘ছয় অনুষদের বিতার্কিকরা অত্যন্ত চমৎকারভাবে নিজেদের অনুষদ তুলে ধরেছে। বিতর্কে যেমন নেতিবাচক বিষয় উঠে এসেছে, তেমনি ফ্যাকাল্টির অর্জনও সামনে এসেছে। কোন ফ্যাকাল্টি সেরা– এটা বলা সম্ভব নয়। কৃষি খাতের অগ্রগতিতে সব অনুষদের অবদান রয়েছে। প্রতিটা অনুষদ একে অন্যের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। এক হয়ে কাজ না করলে কৃষিতে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না।’ এর আগে বিকেলে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। সেখানে ছিল গান ও বই পাঠের আয়োজন।
- বিষয় :
- বাংলা নববর্ষ
