গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ ও রৌপ্যপদক
বছরজুড়েই নানা সফলতা পেয়েছে গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ
ইজাজ আহমেদ মিলন
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:১৩
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মঞ্চে একের পর এক সাফল্য অর্জন করছে গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা তাদের বিভিন্ন প্রকল্প জাতীয় পর্যায়ের গণ্ডি পেরিয়ে জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এরই ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত দুটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ ও রৌপ্যপদক অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা।
গত ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার মাল্টিমিডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মালয়েশিয়া ইয়াং সায়েন্টিস্টস অর্গানাইজেশন আয়োজিত ওয়ার্ল্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাটেগরির রোবটিকস অ্যান্ড ড্রোন বিভাগে ‘দুর্গ’ প্রকল্পের জন্য স্বর্ণপদক অর্জন করে দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাইয়ান রিশাদ। প্রতিযোগিতাটিতে ২৪টি দেশের এক হাজার ২০০ জনের বেশি প্রতিযোগী অংশ নেয়।
দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য ‘দুর্গ
দুর্গ প্রকল্পটি মূলত গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকার নিরাপত্তা, যোগাযোগ, জরুরি সহায়তা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৈরি। ডাস, ড্রোন ও রোভার প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি সমন্বিত প্রযুক্তিব্যবস্থা হিসেবে প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানান ওই শিক্ষার্থী। দুর্গম বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মানুষের সরাসরি উপস্থিতি ছাড়াই বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ, জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার সম্ভাবনা তৈরি করাই প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক মঞ্চে যাওয়ার আগে ‘দুর্গ’জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করে।
‘হেক্সাগ্লাইড’-এ রৌপ্যজয়
শুধু ‘দুর্গ’ নয়, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য এসেছে প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞান ক্লাবের আরও একটি উদ্ভাবনী প্রকল্প ‘হেক্সাগ্লাইড’-এর হাত ধরে। গত ১৯ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার সেগি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইনভেনশন কম্পিটিশন অ্যান্ড এক্সিবিশন ২০২৬-এর আন্তর্জাতিক পর্বে প্রয়োগিক পদার্থবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে ‘হেক্সাগ্লাইড’ প্রকল্পটি রৌপ্যপদক অর্জন করে। প্রকল্পটি তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটির দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান ক্লাবের ১০ শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে গঠিত টিম কোয়ান্টিস। দলটির হয়ে প্রকল্পটি প্রতিনিধিত্ব করে ইয়াসিন আব্দুল্লাহ ও শুভ্র জ্যোতি হালদার। প্রতিযোগিতাটিতে ১৯টি দেশের ৪১২টি প্রজেক্ট নিয়ে প্রায় ১৬০০ এর অধিক প্রতিযোগী অংশ নেয়।
‘হেক্সাগ্লাইড’ প্রচলিত প্রপেলার, দহন বা চলমান যান্ত্রিক অংশ ছাড়াই থ্রাস্ট উৎপাদনের একটি ইলেকট্রোহাইড্রোডাইনামিক প্রপালশন ব্যবস্থা। উচ্চ বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের মাধ্যমে বায়ুকে আয়নিত করে ‘আয়নিক উইন্ড’ বা নিয়ন্ত্রিত বায়ুপ্রবাহ তৈরি করা হয়। সেই বায়ুপ্রবাহ থেকেই প্রয়োজনীয় ধাক্কা বা থ্রাস্ট উৎপাদনের চেষ্টা করা হয়েছে। একাধিক ইলেকট্রোহাইড্রোডাইনামিক ধাপের সমন্বয়ে
তৈরি এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো কম যান্ত্রিক জটিলতা ও কম শব্দের বিকল্প প্রপালশন প্রযুক্তির সম্ভাবনা পরীক্ষা করা।
- বিষয় :
- প্রতিযোগিতা