আবীরের জন্য স্কুলে শোক, ঘাতক চালক জেলে
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:৪৩
গাড়িচাপায় নিহত পুরান ঢাকার ওয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী আবীর হোসেনের জন্য কাঁদছেন তার শিক্ষক ও সহপাঠীরা। তার জন্য দু'দিনের শোক ঘোষণা করে স্কুলের ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে শোক জানাচ্ছেন। শিক্ষকরা স্কুলে গেলেও বুধবার পর্যন্ত কোনো ক্লাস হবে না।
এদিকে আবীরকে চাপা দেওয়া ঢাকা ওয়াসার লরি চালক চুন্নু মিয়াকে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে আবীরের বাবা হানিফ মিয়া চালকের বিরুদ্ধে ওয়ারী থানায় মামলা করেন।
আবীর হোসেন ওয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। সোমবার সকালে তার স্কুলে বিদায় সংবর্ধনা ও প্রবেশপত্র বিতরণের অনুষ্ঠান ছিল। কাপ্তানবাজারের বাসা থেকে সে অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বলধা গার্ডেনের পাশের সড়কে ঢাকা ওয়াসার পানিবাহী একটি লরি তাকে ধাক্কা দেয়। আবীর পড়ে গেলে লরির চাকা তার মাথার ওপর দিয়ে উঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এই মেধাবী ছাত্রের।
ওয়ারী থানার উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান সমকালকে বলেন, ঘটনার পরই স্থানীয়দের সহায়তায় লরিসহ অভিযুক্ত চালককে আটক করা হয়। সোমবার রাতে আবীরের মরদেহ দাফন শেষে তার বাবা ওই ঘটনায় মামলা করেন। সে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে চালক চুন্নু মিয়াকে গতকাল আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ওয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহবুব সরদার সমকালকে বলেন, সোমবার মর্মান্তিক ওই ঘটনার পর আবীরের সহপাঠীসহ স্কুলের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। মেধাবী ওই শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যুতে মঙ্গল ও বুধবার ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। এই দু'দিন শিক্ষকরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। মঙ্গলবার ক্লাস বন্ধ থাকলেও তার অনেক সহপাঠী স্কুলে এসে শোক জানিয়েছে।
আবীরের এক স্বজন জানিয়েছেন, ১১ মাস আগে আবীরের মা মিনু বেগম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এর পাঁচ বছর আগে তার বড় ভাই ফয়সাল হোসেন গুলিস্তান পার্কের পুকুরে ডুবে মারা যায়। এর পর বাবা আর দুই বোন লিজা ও লিমার কাছে আবীর ছিল যক্ষের ধন। সেই ছেলের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ঘাতক লরি। এ ঘটনার পর পুরো পরিবার মুষড়ে পড়েছে।
