'অন্যের অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা থাকে'
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৮:৪২
মানবাধিকার মানে কেবল মানুষের নিজের অধিকারকেই বোঝায় না। নিজের অধিকার চর্চা করতে গিয়ে অন্যেও অধিকার যাতে ক্ষুন্ন না হয় সে ব্যাপারেও সচেতন থাকতে হবে। অন্যের অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা সবসময় থাকে।
শনিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে 'হেইট স্পিচ (বিদ্বেষমূলক বক্তব্য) মোকাবেলা ও সংলাপ বিস্তারে জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুসরণ' শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন আর্টিকেল নাইনটিন ও দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্ক বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের (বিলিয়া) যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করেছে ব্রিটিশ সরকারের ফরেন এন্ড কমনওয়েলথ অফিস।
কর্মশালায় সূচনা বক্তব্য দেন আর্টিকেল নাইনটিন বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল। আরও বক্তব্য দেন- জাতিসংঘে আর্টিকেল নাইনটিনের অ্যাডভোকেসি টিমের প্রধান এন্ড্রু স্মিথ, বিলিয়ার নির্বাহী পরিষদের সদস্য ব্যারিস্টার তানিয়া আমিরসহ সরকার, কূটনীতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের সদস্যবৃন্দ।
দিনব্যাপী কর্মশালায় তিনটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব অধিবেশনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও সনদ অনুযায়ী বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞাহসমূহ ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এসব সংজ্ঞার স্থানীয়করণ, হেইট ক্রাইম ও হেইট স্পিচের মধ্যে পার্থক্য, বিদ্বেষমুলক বক্তব্য প্রশমনে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ, বহুত্ববাদী মতপ্রকাশের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেইট স্পিচে প্রতিরোধে করণীয়, সরকার, সুশীল সমাজ ও ধর্মীয় সংগঠনের ভুমিকা ইত্যাদি বিষয়ে দলভিত্তিক আলোচনা ও পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় তানিয়া আমির বলেন, 'সংখ্যাগুর' ও 'সংখ্যালঘু' শব্দগুলো রাজনৈতিক। এসব শব্দের সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী কোন নাগরিকের প্রতি কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করতে পারবে না।'
ফারুখ ফয়সল বলেন,
'ইউকে-ইউএন যৌথ এডভোকেসি উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হেইট
স্পিচ মোকাবেলা ও প্রশমনে ডায়ালগের আয়োজন করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়
বাংলাদেশে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্তভুক্তিমূলক ও বহুত্ববাদী সমাজ
বিনিমার্ণেও জন্য বিদ্বেষমূলক বক্তব্য চিহ্নিত করা ও সেগুলো প্রশমনে উদ্যোগ
নেওয়া জরুরি। এজন্য আর্টিকেল নাইনটিন ভবিষ্যতে আন্তঃধর্মীয় সংলাপেরও আয়োজন
করবে।'
- বিষয় :
- মানবাধিকার
