ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

একটি চালুই হয়নি, আরেকটি চললো কোনও রকম

একটি চালুই হয়নি, আরেকটি চললো কোনও রকম
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৯:৩০

দেশে মশকনিধনে প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক মেশিন ব্যবহার করতে গিয়ে শুরুতেই বিপত্তি দেখা দিয়েছে।

দুটি ভেহিক্যাল মাউন্টেন্ড ফগার মেশিনের একটি চালুই হয়নি। আরেকটি কোনো রকমে চালু করে সেটা দিয়েই কিউলেক্স, এডিস মশা নিধনে চলতি বছরের প্রথম ক্র্যাশ প্রোগ্রামের উদ্বোধন করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তফা।

শনিবার রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বরে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম উদ্বোধনের সময় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বিশেষ মশকনিধন কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত ছিল নিয়মিত ফগার মেশিনের পাশাপাশি ২০টি হুইল ব্যারো এবং মিস্টব্লেয়ার পাওয়ার স্প্রে ও দুটি ভেহিক্যাল মাউন্টেন্ড ফগার মেশিন। এর মধ্যে ভেহিক্যাল মাউন্টেড ফগার মেশিন দুটি অত্যাধুনিক। এর আগে এটা কখনও মশকনিধনে বাংলাদেশে ব্যবহৃত হয়নি।

গত মৌসুমে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করলে ডিএনসিসি ওই মেশিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। শনিবার সেটা চালুর সময় বিড়ম্বনা তৈরি হয়। চালু করার চেষ্টা করলে দুটি মেশিনের ব্যারেলের মুখ দিয়ে বিপজ্জনকভাবে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হতে থাকে। এক পর্যায়ে একটি মেশিন চালু হয়। সেটা দিয়েই উদ্বোধন করা হয় ক্র্যাশ প্রোগ্রাম। আরেকটি চালু করা যায়নি।

মশকনিধন কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই মেশিন তারা অতীতে কখনও ব্যবহার করেননি। তাদের কোনো প্রশিক্ষণও নেই। এ জন্যই ঝামেলা হয়েছে।

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন বলেন, মেশিনগুলো প্রথমে চালু হতে কখনও কখনও সময় নেয়। সমস্যা হলে জার্মানির সুইং ফগ কোম্পানি সেগুলো মেরামত করে দেবে অথবা ফেরত নেবে। এগুলোর ওয়ারেন্টি আছে।

তবে তিনি বলেন, কর্মীদের প্রশিক্ষণ না দেওয়ার কথা ঠিক নয়। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের একজন কর্মীকে এ মেশিন চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যারেলের মুখ দিয়ে বের হওয়া আগুনের স্ফুলিঙ্গগুলো বিপজ্জনক নয়। এই মেশিনই এ রকম।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন, এই ক্র্যাশ প্রোগ্রাম ১৪ দিন ধরে চলবে এবং জনগণ নিশ্চয়ই এর সুফল পাবেন। ক্র্যাশ প্রোগ্রামে নিয়মিত ফগার মেশিনের পাশাপাশি ডিএনসিসির আনা নতুন ধরনের যন্ত্রপাতিও ব্যবহার করা হবে।

তিনি বলেন, মশার প্রকোপ কমার আগে মশক কর্মী এবং এর সঙ্গে সংশ্নিষ্টদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এ জন্য জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। জনগণকেও আরও সচেতন হতে হবে। কারণ একমাত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমেই মশকমুক্ত নগর উপহার দেওয়া সম্ভব।

এ সময় ডিএনসিসির প্রধান বর্জ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মঞ্জুর হোসেন, ডিএনসিসির সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়ূয়া, উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোস্তফা সারোয়ার, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহা বিনতে সিরাজসহ স্থানীয় কাউন্সিলর ও ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×