ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

মুজিববর্ষ উদযাপন প্রশ্নবিদ্ধ করতে যড়যন্ত্র হচ্ছে: নির্মূল কমিটি

মুজিববর্ষ উদযাপন প্রশ্নবিদ্ধ করতে যড়যন্ত্র হচ্ছে: নির্মূল কমিটি
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২০ | ০৮:০২ | আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২০ | ০৯:০৬

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত মুজিববর্ষ উদযাপন প্রশ্নবিদ্ধ করতে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র যড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

সংগঠনের নেতারা বলেন, মুজিববর্ষ উদযাপনের নামে অনেক সুযোগ সন্ধানীও জুটে গেছে। বিভিন্ন আয়োজনে নাগরিক সমাজকে যেভাবে যুক্ত করার প্রয়োজন ছিল তা এখনও করা হয়নি। বরং রক্তের বন্ধনে রচিত বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহাসিক মৈত্রী অস্বীকার করতে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর বানচাল করতে একটি চক্র তৎপর রয়েছে।

এসব যড়যন্ত্র ও তৎপরতা প্রতিহত করে মুজিববর্ষ সফল করতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে 'বঙ্গবন্ধুর মানবিক দর্শন' তুলে ধরারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে 'মুজিব শতবর্ষে আমাদের কর্মসূচি এবং কতিপয় প্রস্তাব' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

এতে মুজিববর্ষ সফল করতে সরকারি উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর সরকারি জীবনী রচনার জন্য বিশিষ্ট গবেষক ও লেখকদের সমন্বয়ে কমিশন গঠন, শিশুশ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোর্স চালু এবং মুক্তিযুদ্ধের বিদেশী বন্ধু ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও অটলবিহারী বাজপেয়ীর নামে ঢাকায় দুটি সড়কের নামকরণের দাবি জনানো হয়। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে মুজিববর্ষে সংগঠনের চলমান ৩টি কর্মসূচিও তুলে ধরা হয়েছে।

শাহরিয়ার কবির বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতবৃক্ষ রোপন কর্মসূচি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা সর্ম্পকে রচনা ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতা গ্রহণ করা হয়েছে। যা চলমান আছে। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ কোথাও কোথাও অনুবাদ করা হচ্ছে তাও ভুলভাবে। তুরস্কের দুতাবাসে হয়েছে এমনটি। তিনি ৭ মার্চের ভাষণ সরকারি উদ্যোগে অনুবাদ করারও প্রস্তাব তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন- গণহত্যা নির্যাতন আকাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, চিত্রশিল্পী হাশেম খান, শহাদীজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ডা.আমজাদ হোসেন।

মুনতাসীর মামুন বলেন, ভারতের কলকাতা ও নয়াদিল্লীতে বঙ্গবন্ধুর নামে দুটি সড়ক রয়েছে। অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু ইন্দিরা গান্ধী ও অটলবিহারী বাজপেয়ী যাদেরকে বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছে তাদের নামে দেশে কোনো সড়কের নামকরণ করা হয়নি। এ নিয়ে সংশ্নিষ্টদের চিঠি দেওয়া হলেও তারা বিষয়টি নিয়ে ভাবছে বলে মনে হচ্ছে না।

মুজিববর্ষ উদযাপনের নামে দেশের ৬৪ জেলায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল তৈরির প্রস্তাবের সমালোচনা করে মুনতাসীর মামুন বলেন, মুর‌্যাল দিয়ে ভরিয়ে দিলে এটা তো উত্তর কোরিয়া হয়ে যাবে। পরে মুর‌্যাল রক্ষণাবেক্ষণ বোঝা হয়ে যাবে। তার মতে, মুর‌্যাল তৈরি না করে ৬৪ জেলায় মডেল স্কুল করা যেতে পারে। সেটা আজীবন থাকবে। এ ছাড়াও মুজিবকে স্মরণ করতে তার জীবনী তৈরি এবং এক কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু শান্তি পদক চালুর মতো কর্মসূচিও গ্রহণ করা উচিত। এসব না করে মুজিববর্ষ উদযাপনের নামে যদি অপচয় করেন বাড়াবাড়ি করেন তাহলে তার সঙ্গে আমরা নাই। এসব কর্মসূচি সরকারের মধ্যে সরকারি হয়ে থাকবে তা সুস্থ কোন বিষয় নয়।

বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ৭ মার্চ আমাদের গর্বের একটি দিন। একাত্তরের এ দিনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সারা বিশ্বেই অন্যতম শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল। তিনি আরও বলেন, বিশ্ব নেতৃবৃন্দদের নিয়ে মুজিববর্ষ উদযাপন বঙ্গবন্ধু সন্মান জানানোর একটি প্রক্রিয়া। এই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সফরের যারা বিরোধিতা করছেন তাদের জানা উচিত এটি মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু ভারতে সন্মান জানানো। ব্যক্তি মুখ্য বিষয় না। মুজিববর্ষ নিয়ে বিএনপির সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা একাত্তরের পরাজিত শক্তি। অশিক্ষিত ও মূর্খ।

শিল্পী হাশেম খান বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রাণিত করে বাঙালিকে যুদ্ধের জন্য তৈরি করেছেন। এই যুদ্ধে ভারতেরও অনন্য ভূমিকা রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীরাই এখন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফর বানচাল করতে তৎপর রয়েছে।

শিশু শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ নামে পাঠ্যসূচিতে একটি বাধ্যতামুলক কোর্স চালুর প্রস্তাব তুলে ধরেন শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ২০২১ সালে নতুন পাঠ্যসুচী আসছে। এখন থেকেই এ ব্যাপারে কাজ শুরু করতে হবে। এর বাইরেও বঙ্গবন্ধুর আর্দশকে ধারণ করতে নানমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ডা. আমজাদ হোসেন, একাত্তরে ধর্মের নামে উদ্ভব্য অবস্থা সৃষ্টি করেছিল পাকিস্তানি বাহিনী। কিন্ত আমরা বঙ্গবন্ধু আর্দশে অনুপ্রাণিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলাম। দেশ স্বাধীন হয়েছে। এখন বঙ্গবন্ধুর মানবতার আর্দশ বাস্তবায়নে অনেক বাধা আসবে তবে আমরা কখনও মাথানত করবো না।

আরও পড়ুন

×