১০ হাজার টাকা চুক্তিতে পুলিশ কনস্টেবলকে খুন
শরীফ আহমেদ হত্যাকাণ্ডে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২০ | ১০:২৩
গাজীপুরের ট্রাফিক কনস্টেবল শরীফ আহমেদ (৩৩) হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শনিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ১০ হাজার টাকা চুক্তিতে হত্যা করা হয়েছে তাকে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো- মোফাজ্জল হোসেন, মাসুদ মিয়া ও বাসচালক মনির হোসেন। রোববার কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১ অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফি উল্লাহ বুলবুল জানান, গত ৪ মার্চ সকাল সাড়ে ৭টায় গাজীপুর মহানগরীর ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের চার নম্বর গেটের সামনে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে শরীফের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় না মেলায় ৮ মার্চ বেওয়ারিশ হিসেবে গাজীপুরের পূর্ব চান্দনা কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার পিবিআই লাশের ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করে। শরীফের বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার ঝিলকি গ্রামে। বাবার নাম আলাউদ্দিন ফকির। শরীফ গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগে ছয় মাস ধরে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। তার বাবা আলাউদ্দিন একজন পুলিশ সদস্য। তিনি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা শহর ফাঁড়িতে কনস্টেবল পদে কর্মরত। পরিচয় পাওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ায় কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ক্লুলেস হত্যার ঘটনায় র্যাব-১ ছায়াতদন্ত শুরু করে ঘটনার পর থেকেই। গত শনিবার শ্রীপুরের গড়গড়িয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকা থেকে মূল হোতা মোফাজ্জল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার মোজাহাদী গ্রামে। সে শ্রীপুরের মাস্টারবাড়ি থাকে। তার দেওয়া তথ্যে ময়মনসিংহের তারাকান্দা থেকে মাসুদ মিয়া ও মনির হোসেন নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। মাসুদের বাড়ি মোজাহাদী গ্রামে এবং মনিরের বাড়ি নেত্রকোনায়। তারা শরীফ হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। শরীফের সঙ্গে মোফাজ্জল ও বাসচালক মনিরের পূর্বপরিচয় ছিল। কিছুদিন আগে শরীফের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর জেরে মোফাজ্জল ও মনির শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মোফাজ্জল তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার মোজাহাদীর মাসুদ মিয়াকে ১ মার্চ ১০ হাজার টাকায় চুক্তি করে শরীফকে খুন করতে। এ জন্য অগ্রিম পাঁচ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয় তাকে। ২ মার্চ মাসুদকে গাজীপুরে নিয়ে আসে তারা। নিজেদের বাসায় রেখে তাকে একটি চাকু কিনে দেওয়া হয়। ৩ মার্চ মোফাজ্জল রাত সাড়ে ১১টায় কৌশলে শরীফকে ভোগড়া বাইপাস এলাকায় নিয়ে আসার পর তাকে তাকওয়া পরিবহনে ওঠায়। ওই বাসের চালক গ্রেপ্তার হওয়া মনির। মনির বাস চালিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডে শ্রীপুরের মাওনার উদ্দেশে রওনা হয়। পরে জয়দেবপুরের ভবানীপুর বাজার থেকে ইউটার্ন নিয়ে ফের চান্দনা চৌরাস্তার দিকে যেতে থাকে। বাসে অন্য যাত্রী ছিল না। পথের মধ্যে চলন্ত বাসে মাসুদ লোহার হুইল রেঞ্জার দিয়ে শরীফের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়। পরে মোফাজ্জল ও মাসুদ তাকে দড়ি দিয়ে বাঁধে। মাসুদ গলা কেটে জবাই করে শরীফকে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের ন্যাশনাল পার্কের চার নম্বর গেটের সামনে লাশ ফেলে চলে যায় তারা।
