গাড়ি চালুর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২০ | ০৮:১৬ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবিতে শনিবার মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েশ’ পরিবহন শ্রমিক। তারা বলেছেন, গত দেড় মাস ধরে তাদের কাজ ও আয় নেই। মালিকরা খবর নিচ্ছেন না। সরকারের কাছ থেকে ত্রাণও পাচ্ছেন না। ফলে করোনায় বেঁচে গেলেও অনাহারে মরবেন পরিবহন শ্রমিকরা।
করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ২৫ মার্চ মধ্যরাত থেকে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যান চলাচলের অনুমতি থাকলেও, তার সংখ্যা একেবারেই নগন্য। এদিকে গাড়ি বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন পরিবহনের লাখ লাখ চালক শ্রমিক। তাদের রোজগারও বন্ধ হয়ে গেছে। সীমিত আকারে দোকানপাট, মার্কেট খোলার অনুমতি দিলেও আগামী ১৬ মে পর্যন্ত গাড়ি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা ঈদের পরও চলবে বলে আশঙ্কা শ্রমিকদের।
আর তাই কর্মহীন ৪৫ দিন কাটানোর পর শ্রমিকার শনিবার সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন। করোনার বিস্তার ঠেকাতে জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মোহাম্মদপুর বাসস্টান্ড থেকে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত মিছিল করে ত্রাণ, গাড়ি চলাচলে অনুমতি দেওয়ার দাবিতে শ্লোগান দেন। এ সময় পুলিশ রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে শ্রমিকরা সড়কে শুয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
আন্দোলনকারী শ্রমিক গাবতলী-সদরঘাট রুটের বাসের হেলপার আরিফ হোসেন বলেন, ‘গত ৪৫ দিনে কেউ তাদের খবর নেয়নি। মালিকের কাছ থেকে বেতন পাননি। সরকারের কাছ থেকে ত্রাণ পাননি। হাতে টাকা পয়সা যা ছিল, তা প্রথম ১০-১২ দিনে শেষ। এরপর থেকে ধার দেনা করে চলেছেন। এখন স্ত্রী, সন্তানের খাবার জোগাড় করছেন ঘরের মোবাইল ফোন, টেলিভিশন বিক্রি করে। আরও দীর্ঘ সময় গাড়ি বন্ধ থাকলে অনাহারে মরতে হবে।’
তবে করোনা সঙ্কটে শ্রমিককদের পাশে না থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। তিনি বলেন, ‘মালিকদের পক্ষে যতটা সম্ভব, ততটা সাহায্য করা হয়েছে।’ তিনি নিজে দুই দফায় তার মালিকানাধীন পরিবহন কোম্পানিতে কর্মরতদের ৩৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন বলে জানান। খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘বাকি কোম্পানিগুলোও কম বেশি সহায়তা দিচ্ছে। লকডাউনের কারণে শ্রমিকরা যেমন কর্মহীন হয়ে পড়েছে, মালিকদেরও তেমন আয় রোজগার বন্ধ। মালিকরা এত লাখ লাখ শ্রমিককে সহায়তা দেবে কোথা থেকে?’