ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বাসার ছাদে মদের বার, ক্যাসিনো সামগ্রী

আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বাসার ছাদে মদের বার, ক্যাসিনো সামগ্রী
×

আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ ও ক্যাসিনোর সরঞ্জাম জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর-ফোকাস বাংলা

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০১৯ | ০৭:২৮ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০১৯ | ১৫:৩৪

বহুল আলোচিত-সমালোচিত ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের গুলশানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ছাদে মদের মিনি বারের সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। 

রোববার বিকেল থেকে রাজধানীর গুলশান-২ এর ৫৭ নম্বর সড়কের ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। ছাদের বার থেকে বিভিন্ন বিদেশি ব্রান্ডের বিপুল পরিমাণ মদ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া বাসায় স্থাপন করা ক্যাসিনো সামগ্রীও জব্দ করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, পাশাপাশি গড়ে উঠা বিলাসবহুল দুটি বাড়িতে আজিজ মোহাম্মদ ভাই বা তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে বাড়ির দুই কেয়ারটেকার পারভেজ ও নবীন মন্ডলকে আটক করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উত্তর বিভাগের সহকারী পরিচালক খোরশিদ আলম জানিয়েছেন, তাদের কাছে তথ্য ছিল-গুলশানের ওই বাড়িতে অবৈধভাবে মদের বার গড়ে তোলা হয়েছে। এরপরই রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে সেখানে অভিযান চালানো হয়। বাড়ির ছাদে মদের মিনিবারের সন্ধান মিলেছে। যেখানে আলমারিতে সারিবদ্ধভাবে মদ সাজানো ছিল। এ ছাড়া বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে সীসা বারের সরঞ্জাম এবং ক্যাসিনো খেলার সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, ১১/এ এবং ১১/বি নম্বর হোল্ডিংয়ে পাশাপাশি দুটি ভবন একযোগে অভিযান শুরু হয়। এর একটি ভবনের ছাদে ক্যাসিনো খেলায় ব্যবহৃত কয়েন, কার্ড ও ঘুঁটি পাওয়া যায়। অপর ভবনের চার তলার একটি কক্ষে মদের গুদামে বিপুল পরিমাণ মদ, সীসা ও বিয়ার পাওয়া যায়।

সরজমিন ঘুরে ও বাড়ির কেয়ারটেকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১১/এ নম্বর পঞ্চম তলা বাড়ির চতুর্থ তলায় থাকেন আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের একজন স্ত্রী নওরীন মোহাম্মদ। একই ভবনের দ্বিতীয় তলায় আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের ভাতিজা ও মৃত রাজা মোহাম্মদ ভাইয়ের ছেলে আহাদ মোহাম্মদ পরিবার নিয়ে থাকেন। ওই ভবনের তৃতীয় তলা খালি ও পঞ্চমতলা তালাবদ্ধ থাকলেও এর ছাদেই গড়ে তোলা হয়েছে মদের বার। ১১/ বি নম্বর ভবনের নিচতলা খালি থাকলেও দ্বিতীয় তলায় থাকেন আজিজের ছোট বোন সাকিনা মোহাম্মদের ছেলে সামাদ মোহাম্মদ। তৃতীয় তলায় অপর ভাগ্নে আমিন হুদার স্ত্রী মিতু হুদা, চতুর্থ তলায় আমিন হুদার মা ও আজিজ মোহাম্মদের বোন নূরজাহান মোহাম্মদ এবং পঞ্চম তলায় সাকিনা সাকিনা মোহাম্মদ থাকেন। এই ভবনের তৃতীয় তলার একটি অংশেই মদের বার গড়ে তোলা হয়েছে। অবশ্য অভিযানের সময়ে এসব পরিবারের কোনো সদস্যকেই পাওয়া যায়নি।

বাড়ির কেয়ারটেকার নবীন মন্ডলের ভাষ্য, মিনি বার ও মদের গুদামের মালিক আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের ভাগ্নে আহাদ। দুই দিন আগে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের স্ত্রী নওরীন ও ভাগ্নে আহাদ বিদেশ চলে গেছেন। দুটি বাড়ির প্রায় সব সদস্যই মাসের বেশির ভাগ সময়ে বিদেশ থাকেন।

অপর কেয়ারটেকার পারভেজ জানান, মদের বারের ছাদে বা মদের গুদামে তাদের যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। এজন্য এসব জায়গায় কি হতো তা তিনি জানেন না। তিনি আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের নাম শুনলেও এই ভবনে তাকে কখনও দেখেননি।

বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক আজিজ মোহাম্মদ ভাই চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবেই বেশি পরিচিত। ১৯৯৬ সালের শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এ ছাড়া চিত্র নায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যাকাণ্ড এবং সালমান শাহের রহস্যজনক মৃত্যুর পর তার নাম আলোচনায় আসে। রহস্যময় মানুষ হিসেবে পরিচিত আজিজ মোহাম্মদ ভাই সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও হংকংয়ে ব্যবসা করেন বলেও আলোচনা রয়েছে।

গত মাসের মাঝামাঝিতে র‌্যাব সদস্যরা মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ক্যাসিনোর আখড়ার সন্ধান পায়। এরপর একের পর এক অভিযানে ঢাকা মহানগর যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূইয়া, বহুল আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীম, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক লোকমান ভূইয়া, কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের পরিচালক শফিকুল ইসলাম ফিরোজকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে বিদেশি মদসহ বিভিন্ন মাদক উদ্ধার করা হয়।

অবশ্য র‌্যাবের ওই অভিযান শুরুর পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকার কয়েকটি বৈধ মদের বারে অভিযান চালায়। তবে উল্লেখযোগ্য কিছু জব্দ করতে পারেনি। এরপর রোববার বহুল আলোচিত আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বাড়িতে অভিযানে মিলল বিপুল মদ ও জুয়া সামগ্রী।

আরও পড়ুন

×