রূপনগরে আরেক গৃহকর্মী খুন
ধর্ষণ চাপা দিতে ভুলুকে ভবন থেকে ফেলে হত্যা?
ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ভুলু আক্তার -ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০১৯ | ১০:১৯
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গৃহকর্ত্রীর নির্মম নির্যাতনে শিশু জান্নাতির মৃত্যুর রেশ না কাটতেই রূপনগরে আরেক গৃহকর্মীকে বহুতল ভবন থেকে ফেলে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ভুলু আক্তার নামের ওই নারীকে ১৯ অক্টোবর সকালে ভবনের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ অক্টোবর মৃত্যু হয় তার। স্বজনদের অভিযোগ, হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়। সেই ঘটনা চাপা দিতেই তাকে ভবন থেকে ফেলে দেয় ধর্ষক। ঘটনার প্রমাণ চাপা দিতে সরিয়ে ফেলা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ। তবে পুলিশ বলছে, এ ব্যাপারে নিঃসন্দেহ হওয়া যায়নি এখনও।
রূপনগর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ সমকালকে বলেন, 'নিহত নারী কোন ফ্ল্যাটে কাজ করতেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলের পাশের ভবনটির বাসিন্দারা দাবি করছেন, তারা মেয়েটিকে চেনেন না। আবার ঘটনার দিন ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ থাকায় ওই সময়ের কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তবে যেহেতু অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা, তাই গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।'
রূপনগরে রেনাটা ওষুধ কোম্পানির কারখানার পাশের একটি ভবনে ভুলু গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। তবে ঘটনার কিছুদিন আগে সেখানে যোগ দেওয়ায় কোন ফ্ল্যাটে কার বাসায় কাজ করতেন, সেই তথ্য তারা জানতেন না। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধারের সময় তার কথা বলার মতো অবস্থা ছিল না। শুধু বারবার পাশের ভবনটি দেখিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, সেখানে কিছু ঘটেছে।
নিহতের চাচাতো বোন সেলিনা আক্তার জানান, ওষুধ কোম্পানির পাশের ভবনটির পঞ্চম তলায় কাজ করতেন ভুলু। ঘটনার দিন সকাল ৬টার দিকে তিনি ওই বাসায় যান। এর ঘণ্টাখানেক পর গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে। সেদিন প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে বিকেলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নিহতের স্বামী নাজমুল হাসান জানান, মিরপুরের দুয়ারীপাড়া এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন ভুলু। তাদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার মালিবাড়ি ইউনিয়নে। স্বজনদের পরামর্শে ২১ অক্টোবর তিনি স্ত্রীকে ঢামেক হাসপাতাল থেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্বজনরা বলছেন, গৃহকর্তা বা ওই ভবনের কেউ ভুলুকে ধর্ষণ করেছেন। তার শরীরে তেমন আলামত ছিল। যে কারণে উদ্ধারের সময় ভুলু ভবনটি দেখিয়ে বোঝাতে চাইছিলেন, ওখান থেকে তাকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের কেউ ওই গৃহকর্তার পরিচয় না জানায় সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না। তবে পুলিশ ভালো করে তদন্ত করলে নিশ্চয়ই সব বেরিয়ে আসবে। ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ না থাকাকে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার কৌশল বলে মনে করছেন তারা।
রূপনগর থানা পুলিশ জানায়, ভবনটির তৃতীয় তলায় একটি মাদ্রাসা ছিল। যখন মাদ্রাসা চালু থাকে শুধু তখন সিসি ক্যামেরা চালু রাখা হয়। তবে ঘটনার সময় মাদ্রাসা বন্ধ ছিল। সেখানে কোনো নৈশপ্রহরীও নেই। ফলে কী ঘটেছে সে সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। আর রংপুরে মারা যাওয়ার পর ভুলুর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করতে দেননি স্বজনরা। ময়নাতদন্ত হলে মৃত্যুর কারণ ও ধর্ষণ করা হয়েছে কি-না সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যেত। তারপরও পুলিশ নিহতের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ঘটনার ব্যাপারে জানার চেষ্টা করছে।
- বিষয় :
- মোহাম্মদপুর
- গৃহকর্মী