ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

’গ্রাহক সেবার কর বৃদ্ধি ডিজিটাল সেবা বিকাশ নিরুৎসাহিত করছে’

’গ্রাহক সেবার কর বৃদ্ধি ডিজিটাল সেবা বিকাশ নিরুৎসাহিত করছে’
×

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২০ | ১২:৩২ | আপডেট: ১৬ জুন ২০২০ | ১২:৪৮

জাতীয় বাজেটে করারোপ নীতিতে ডিজিটাল সেবা সস্প্রসারণকে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তামাক পণ্যের সমতুল্য বিবেচনা করা হয়েছে- বাজেট বিশ্লেষণ করে এ তথ্য তুলে ধরেছে মোবাইল অপরেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)। সরকারের এ ধরনেরে নীতির কারণে মোবাইল টেলিযোগ সেবায় গুণগত মান বাড়াতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে বলেও অভিমত অ্যামটবের।

মঙ্গলবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অ্যামটবের মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফরহাদ বিষয়টি পুনঃপর্যালোচনা করে ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণের সহায়ক করার আহবান জানিয়েছেন সরকারের প্রতি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন গ্রামীণফোনের হেড অব রেগুলেটরি হোসেন সাদাত রবির হেড অব রেগুলেটরি সাহেদ আলম এবং বাংলালিংকের চিফ রেগুলেটরি অফিসার তৈমুর রহমান।

বাজেট বিশ্লেষণ করে এবং তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে মূল বক্তব্যে অ্যামটব মহাসচিব বলেন, সাধারণত জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্য উৎপাদন নিরুৎসাহিত করার জন্য সরকার ওই সব শিল্পের ক্ষেত্রে ন্যূনতম কর বসিয়ে থাকে। দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে বর্তমানে তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নূন্যতম কর এক শতাংশ, আর মোবাইল অপারেটরদের জন্য দুই শতাংশ। অর্থাৎ, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তামাক পণ্য উৎপাদনকারীদের চেয়েও অত্যাবশকীয় সেবা দানের জন্য স্বীকৃত মোবাইল অপারেটরদের ন্যূনতম কর বেশি। আর এ কর লাভের উপর নয়, বরং আয়ের উপরে নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে মোবাইল অপারেটরদের বিনিয়োগ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং অস্তিত্ব সংকটের সৃস্টি হচ্ছে। একইভাবে কর্পোরেট করও তামাকজাত পণ্য উৎপানদনকারী প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল অপারেটরদের সমান, অর্থাৎ ৪৫ শতাংশ।

অ্যামটব মহাসচিব জানান, নতুন অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাটের বিষয়ে আপিল করার জন্য যেখানে আগে মোট দাবির ১০ শতাংশ জমা দিতে হত সেটা আপিল কমিশনার এবং আপিলেট ট্রাইবুনালের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। হাইকোর্টে আপিলের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ অপরিবতিত রাখা হয়েছে।  ফলে হিসেবে করে দেখা যায়, কোন ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটররা ভ্যাট নির্ধারণ নিয়ে অন্যায্যতার শিকার হলে তার জন্য আপিল কমিশনার থেকে আপিলেট ট্রাইবুনাল পর্যন্ত যেতেই ন্যায় বিচারের আবেদনের পূর্বশর্ত হিসেবে মোট দাবির মূলত ৫০ শতাংশ আগাম জমা দিতে হবে। আর এ নিয়ে আদালতে আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চললে তার জন্য শুধুমাত্র অপারেটরদেরই মূল্য দিতে হবে। সরকারের এ দৃষ্টিভঙ্গী নায্য নয় বলে তিনি জানান।

মোবাইল টেলিযোগাযোগ সেবার ওপরে নতুন করে ৫ শতাংশ সম্পুরক কর গ্রাহকের কাঁধে পড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সম্পূরক কর শুধু মোবাইল অপারেটরদের নয়, সার্বিকভাবে ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণকে সংকুচিত করে দেবে। প্রতি বছর কর বাড়ানোর কারণে সরকার বরং ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ থেকে আরও বেশী কর আদায়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রবির হেড অব রেগুলেটরি সাহেদ আলম বলেন, সরকার টেলিযোগাযোগ খাতকে জরুরি সেবার খাত হিসেবে ঘোষণা করেছে, সেখানে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তামাক শিল্পকে নিরুৎসাহিত করতে যে কর ধার্য্য করা হয়েছে সেই কর দ্বিগুণ হারে টেলিযোগাযোগ শিল্পের জন্য আরোপ করার অর্থ কি দাঁড়ায়? এটাকে রাষ্ট্রীয় নীতি সঙ্গে বাজেটে কারারোপ নীতির বড় মাপের অসঙ্গতিই বলা যায়। তিনি আরও বলেন, বিচার চাওয়ার জন্য আগেই যদি আপত্তি ওঠা দাবির ৫০ শতাংশ টাকা নেওয়া জমা নেওয়া হয় তাহলে সেটা ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করে। যদি আইনি লড়াইএ অপারেটরা জিতে যায় তাহলে সেই টাকা কিভাবে ফেরত পাবে তারও কোন সুনির্দিষ্ট বিধান নেই।

বাংলালিংকের চিফ রেগুলেটরি অফিসার তৈমুর রহমান বলেন, প্রতি বছরই বাজেটে টেলিযোগাযোগখাতে করারোপের ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নীতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এর ফলে বিনিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে অপারেটরদের বিনিয়োগ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। বিনিয়োগ সংকুচিত হওয়ার কারনে সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করার পদক্ষেপও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

গ্রামীণফোনের রেহেড অব রেগুলেটির হোসেন সাদাত বলেন, গ্রাহক সেবার উপর বর্ধিত করের কারনে প্রতি বছরই গ্রাহকরা বর্ধিত ব্যয় হিসাব করে ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে। এটা সার্বিকভাবে ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশকেই বাধাগ্রস্ত করছে।  



আরও পড়ুন

×