লকডাউনের সীমানা নিয়ে অস্পষ্টতা
×
অমিতোষ পাল ও বকুল আহমেদ
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ১৬ জুন ২০২০ | ১৪:২২
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় রয়েছে সাতটি থানা ও চারটি সংসদীয় আসন। প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বাস। করোনা প্রতিরোধে গঠিত সরকারের টেকনিক্যাল কমিটি রাজধানীর যে ৪৫টি এলাকাকে রেড জোন বা লাল অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তার মধ্যে মিরপুরের নামও রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রেড জোন এলাকাগুলোকে পূর্ব রাজাবাজারের মতো কঠোরভাবে লকডাউনে আনা হবে, যাতে করোনাভাইরাসের বিস্তার আর না হতে পারে। কিন্তু মিরপুরবাসী বুঝতে পারছেন না জোনভিত্তিক লকডাউন হলে পুরো মিরপুর এলাকাই কি লকডাউন হবে, নাকি রোগীর সংখ্যার ভিত্তিতে কিছু কিছু অংশে ভাগ করে লকডাউন করা হবে। যারা লকডাউন বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট কিছু বলতে পারছেন না। ফলে লকডাউনের সীমানা নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে নানা দুশ্চিন্তা ভর করছে।
নগরবাসী বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যেভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৭টি ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৮টি এলাকা চিহ্নিত করেছে, ওই এলাকাগুলো জোনভিত্তিক লকডাউন করলে ঢাকা শহরের আর বেশি বাকি থাকে না। তবে কবে, কখন, কীভাবে লকডাউন করা হবে এবং সেখানে সাধারণ ছুটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে তাদের মধ্যে ধোঁয়াশা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও এর কোনো কিছুই খোলাসা করছে না। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি চিঠি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে পাঠানো হয়েছে। সেখানে সিটি করপোরেশনকে লকডাউন বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এলাকাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়নি।
উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম গতকাল জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, আজ-কালের মধ্যে জানিয়ে দেবে। তিনি বলেন, অন্তত হোল্ডিংগুলো না হলেও লেন ও রোডগুলো দিয়ে একটি ম্যাপ করে দিতে হবে। তারপর করপোরেশন বাস্তবায়নে যাবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস গতকাল নগর ভবনে এ নিয়ে সভা করেন। কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে জোনভিত্তিক লকডাউন বাস্তবায়নবিষয়ক কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির এই সমন্বয় সভা-পরবর্তী ব্রিফিংকালে মেয়র বলেন, যাতে জনগণের কোনো দুর্ভোগ না হয় সেদিকটাকে প্রাধান্য দিয়েই লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি জানান, ডিএসসিসির আওতাধীন কোনো এলাকাকে এখন পর্যন্ত লকডাউন করা হয়নি। সংশ্নিষ্ট সবার সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও সমন্বয় করেই লকডাউন বাস্তবায়নে যাব। বৈঠকে ডিএমপি, ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজের বসবাসের এলাকাটি লকডাউনের মধ্যে পড়ছে নাকি লকডাউনের আওতামুক্ত থাকছে- এ নিয়ে এখন আলোচনা মানুষের মধ্যে। ফুটপাত ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে শ্রমিক, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ কিছুদিনের জন্য কর্মহীন হয়ে পড়ারও আশঙ্কা করছেন।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক বলেন, রেড জোনের তালিকায় সেগুনবাগিচার নাম আছে। হাইকোর্টও তো বলা যায় সেগুনবাগিচার মধ্যেই। তাহলে হাইকোর্ট কি রেড জোনের মধ্যে পড়েছে?
লালবাগ রোডের ছাতা মসজিদ গলির বাসিন্দা ও ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুর রহিম সমকালকে বলেন, লকডাউনের এলাকা নির্দিষ্ট হলে সুবিধা হতো। যাত্রাবাড়ীর দনিয়ার রসুলপুরের বাসিন্দা ফয়েজ আহমেদ বলেন, এখনও জানতে পারিনি নিজের এলাকাটি লকডাউনের মধ্যে পড়বে কিনা। একই কথা বলেন ডেমরার সারুলিয়ার রানীমহল সিনেমা হল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান। মগবাজারের চেয়ারম্যান গলির এক কাপড় বিক্রেতা জানান, লকডাউন হলে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে।
জানা যায়, রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা এলাকাগুলোর সীমানা চিহ্নিত করার কাজ ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শুরু করেছে। একেকটি এলাকার ম্যাপিং হয়ে গেলেই ওই এলাকাকে লকডাউনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে জোনভিত্তিক লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে।
এদিকে নতুন রেড জোন এলাকাগুলো লকডাউন নিয়ে পুলিশেরও জোরালো কোনো প্রস্তুতি নেই। মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, লকডাউনের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা তারা গতকাল পর্যন্ত পাননি।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সি জানান, পূর্ব রাজাবাজার লকডাউন করার আগে বিভিন্ন পর্যায়ে ৮ থেকে ১০টি সমন্বয় সভা হয়েছে। কোন কোন রাস্তা-গলি বন্ধ করা উচিত, কোনটা খোলা রাখা উচিত, কারা যাতায়াতের সুযোগ পাবেন, বাসিন্দারা খাদ্যসামগ্রী কীভাবে পাবেন, অন্যান্য সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ, সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে সভা হওয়ার পর তা কার্যকর করা হয়েছে। তবে দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে যাতে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তারা বাস্তবায়নে যেতে পারে।
মঙ্গলবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, 'রেড জোন' হিসেবে চিহ্নিত করে দেশের যেসব অঞ্চলে জনসাধারণের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে, সেসব এলাকায় সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।
আইএসপিআরের পরিচালক আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নির্দেশনা পেয়েছেন। যেসব স্থানে রেড জোন হবে, সেসব স্থানে সরকারের অন্যান্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবে সেনাবাহিনী।
এদিকে গতকাল লকডাউনের সপ্তম দিনেও পূর্ব রাজাবাজারের দৃশ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ভেতরে দেখা গেছে কিছুটা ঢিলেঢালা ভাব। একইভাবে লোকজন বের হওয়ার জন্য নানা ফন্দি করছেন। তবে বের হওয়া ও প্রবেশে বরাবরের মতোই কড়াকড়ি লক্ষ্য করা গেছে।
নগরবাসী বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যেভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৭টি ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৮টি এলাকা চিহ্নিত করেছে, ওই এলাকাগুলো জোনভিত্তিক লকডাউন করলে ঢাকা শহরের আর বেশি বাকি থাকে না। তবে কবে, কখন, কীভাবে লকডাউন করা হবে এবং সেখানে সাধারণ ছুটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে তাদের মধ্যে ধোঁয়াশা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও এর কোনো কিছুই খোলাসা করছে না। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি চিঠি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে পাঠানো হয়েছে। সেখানে সিটি করপোরেশনকে লকডাউন বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এলাকাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়নি।
উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম গতকাল জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, আজ-কালের মধ্যে জানিয়ে দেবে। তিনি বলেন, অন্তত হোল্ডিংগুলো না হলেও লেন ও রোডগুলো দিয়ে একটি ম্যাপ করে দিতে হবে। তারপর করপোরেশন বাস্তবায়নে যাবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস গতকাল নগর ভবনে এ নিয়ে সভা করেন। কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে জোনভিত্তিক লকডাউন বাস্তবায়নবিষয়ক কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির এই সমন্বয় সভা-পরবর্তী ব্রিফিংকালে মেয়র বলেন, যাতে জনগণের কোনো দুর্ভোগ না হয় সেদিকটাকে প্রাধান্য দিয়েই লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি জানান, ডিএসসিসির আওতাধীন কোনো এলাকাকে এখন পর্যন্ত লকডাউন করা হয়নি। সংশ্নিষ্ট সবার সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও সমন্বয় করেই লকডাউন বাস্তবায়নে যাব। বৈঠকে ডিএমপি, ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজের বসবাসের এলাকাটি লকডাউনের মধ্যে পড়ছে নাকি লকডাউনের আওতামুক্ত থাকছে- এ নিয়ে এখন আলোচনা মানুষের মধ্যে। ফুটপাত ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে শ্রমিক, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ কিছুদিনের জন্য কর্মহীন হয়ে পড়ারও আশঙ্কা করছেন।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক বলেন, রেড জোনের তালিকায় সেগুনবাগিচার নাম আছে। হাইকোর্টও তো বলা যায় সেগুনবাগিচার মধ্যেই। তাহলে হাইকোর্ট কি রেড জোনের মধ্যে পড়েছে?
লালবাগ রোডের ছাতা মসজিদ গলির বাসিন্দা ও ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুর রহিম সমকালকে বলেন, লকডাউনের এলাকা নির্দিষ্ট হলে সুবিধা হতো। যাত্রাবাড়ীর দনিয়ার রসুলপুরের বাসিন্দা ফয়েজ আহমেদ বলেন, এখনও জানতে পারিনি নিজের এলাকাটি লকডাউনের মধ্যে পড়বে কিনা। একই কথা বলেন ডেমরার সারুলিয়ার রানীমহল সিনেমা হল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান। মগবাজারের চেয়ারম্যান গলির এক কাপড় বিক্রেতা জানান, লকডাউন হলে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে।
জানা যায়, রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা এলাকাগুলোর সীমানা চিহ্নিত করার কাজ ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শুরু করেছে। একেকটি এলাকার ম্যাপিং হয়ে গেলেই ওই এলাকাকে লকডাউনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে জোনভিত্তিক লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে।
এদিকে নতুন রেড জোন এলাকাগুলো লকডাউন নিয়ে পুলিশেরও জোরালো কোনো প্রস্তুতি নেই। মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, লকডাউনের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা তারা গতকাল পর্যন্ত পাননি।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সি জানান, পূর্ব রাজাবাজার লকডাউন করার আগে বিভিন্ন পর্যায়ে ৮ থেকে ১০টি সমন্বয় সভা হয়েছে। কোন কোন রাস্তা-গলি বন্ধ করা উচিত, কোনটা খোলা রাখা উচিত, কারা যাতায়াতের সুযোগ পাবেন, বাসিন্দারা খাদ্যসামগ্রী কীভাবে পাবেন, অন্যান্য সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ, সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে সভা হওয়ার পর তা কার্যকর করা হয়েছে। তবে দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে যাতে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তারা বাস্তবায়নে যেতে পারে।
মঙ্গলবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, 'রেড জোন' হিসেবে চিহ্নিত করে দেশের যেসব অঞ্চলে জনসাধারণের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে, সেসব এলাকায় সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।
আইএসপিআরের পরিচালক আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নির্দেশনা পেয়েছেন। যেসব স্থানে রেড জোন হবে, সেসব স্থানে সরকারের অন্যান্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবে সেনাবাহিনী।
এদিকে গতকাল লকডাউনের সপ্তম দিনেও পূর্ব রাজাবাজারের দৃশ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ভেতরে দেখা গেছে কিছুটা ঢিলেঢালা ভাব। একইভাবে লোকজন বের হওয়ার জন্য নানা ফন্দি করছেন। তবে বের হওয়া ও প্রবেশে বরাবরের মতোই কড়াকড়ি লক্ষ্য করা গেছে।
- বিষয় :
- লকডাউনের সীমানা