ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মনজুর কার্যালয়ে মিলল অস্ত্র, মাদক, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট

মনজুর কার্যালয়ে মিলল অস্ত্র, মাদক, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট
×

মনজুর কার্যালয় থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, বিভিন্ন ধরনের মাদক ও বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধার করে র‌্যাব— সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০১৯ | ১০:৩২ | আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:৫২

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সদস্য ময়নুল হক মনজুর কার্যালয় থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, বিভিন্ন ধরনের মাদক ও বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

চাঁদাবাজি মামলায় বৃহস্পতিবার দুপুরে টিকাটুলীর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে অস্ত্রসহ মনজুকে গ্রেপ্তারের পর তার কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়।

র‌্যাব-৩ এর কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারের পর টিকাটুলী র‌্যাব-৩ এর কার্যালয় সংলগ্ন কাউন্সিলর কার্যালয় এবং টিকাটুলীর রাজধানী সুপারমার্কেটের অদূরে তার বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। অফিস থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, ইয়াবা, গাঁজা, বিদেশি মদ, বিয়ার, ফেনসিডিল ও বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এ ছাড়া বাসা থেকে মদ, বিয়ার ছাড়াও বেশ কিছু জমির দলিল ও জমি-সংক্রান্ত কাগজপত্র পাওয়া যায়।

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফীউল্লাহ বুলবুল বলেন, চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্জিত টাকা মনজু যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রী-সন্তানের কাছে পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া গ্রেপ্তারের পর মনজুর বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

মনজুর কার্যালয় থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকসহ বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধার করে র‌্যাব— সমকাল

এদিকে মনজুকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা উল্লাস প্রকাশ এবং মিষ্টি বিতরণ করেন। তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে এদিন টিকাটুলীতে অনেককে স্লোগান দিতেও দেখা গেছে।

র‌্যাব জানায়, রাজধানী সুপারমার্কেটের ব্যবসায়ী মো. রনি গত বুধবার কাউন্সিলর মনজু ও তার সহযোগী ১৩ জনের বিরুদ্ধে ওয়ারী থানায় আট কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলা করেন। এ মামলায় মনজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গাড়িচালক সাজ্জাদকেও আটক করা হয়েছে এ সময়।

গোপীবাগের ভোলানন্দগিরি ট্রাস্টের জায়গা তিনি দখল করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা ভাড়া আদায় করেন। সেখানে একটি হাসপাতাল করার কথা থাকলেও মনজু সেখানে অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। মনজুর বাসায় থাকা তার নিকটাত্মীয় সুমি বেগম জানান, কাউন্সিলর এই বাসায় একা থাকেন। তার দুই ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী ১৮ বছর ধরে আমেরিকায় বসবাস করছেন। মনজু নিয়মিত আমেরিকায় যাতায়াত করেন।

জানা গেছে, মনজুর বৈধ কোনো আয়ের উৎস নেই। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিই মূলত তার আয়ের উৎস। মাদক কারবারেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সন্ত্রাস, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলার আসামি তিনি।

চাঁদাবাজি মামলায় বৃহস্পতিবার দুপুরে টিকাটুলীর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে অস্ত্রসহ মনজুকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব— সমকাল

রাজধানী সুপারমার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় দশ বছর ধরে মার্কেটের সভাপতির পদ দখল করে আছেন মনজু। নানা কৌশলে তিনি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করেন। চাঁদার টাকা দিতে কেউ অস্বীকার করলে তার ওপর নেমে আসে নির্যাতন। এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়ে দেন। সম্প্রতি মার্কেটের এক পাশে দোতলা করার ঘোষণা দিয়ে প্রতি দোকানের পজিশন ১১ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। এভাবে ১১০টি দোকানের পজিশন বিক্রি করেছেন মনজু।

স্থানীয় লোকজন ও মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনজুর বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি, অবৈধভাবে মার্কেটের কমিটিতে থাকা, দোকানিদের ওপর জুলুমসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে মনজুর বিরুদ্ধে খবর প্রকাশিত হয়েছে। একাধিকবার রাজধানী সুপারমার্কেটের একাধিক দোকানি তার বিরুদ্ধে থানা পুলিশ, র‌্যাব ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন। মনজু সেগুলো কখনও আমলেই নেননি। সিটি করপোরেশনের বোর্ডসভায়ও তিনি ঠিকমতো হাজির থাকেন না। তিনি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মালিকানাধীন রাজধানী ও নিউ রাজধানী সুপারমার্কেট দোকান মালিক সমিতির স্বঘোষিত সভাপতি। কল্যাণ ট্রাস্ট মার্কেটটি ভেঙে সেখানে নতুন করে বহুতল মার্কেট তৈরি করতে চাইলেও মনজুর কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। আদালতে মামলা করে সেটা বন্ধ করে তার নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। তিনি সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে আসছেন।

আরও পড়ুন

×