ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মনজু ১০ দিনের রিমান্ডে

টিকাটুলীতে ছিল 'আশীর্বাদ' আতঙ্ক

টিকাটুলীতে ছিল 'আশীর্বাদ' আতঙ্ক
×

সাহাদাত হোসেন পরশ

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০১৯ | ১৩:১৮

কাউন্সিলর ময়নুল হক মনজুর 'আশীর্বাদ ও দোয়া' নেওয়ার ডাক পড়লেই রাজধানীর টিকাটুলী ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিত। মনজুর সহযোগীরা টার্গেট করা ব্যবসায়ীদের গিয়ে খবর দিতেন, 'লিডার আশীর্বাদ' নেওয়ার জন্য ডেকেছেন। এমন খবর পেলেই সাধারণ ব্যবসায়ীরা বুঝে ফেলতেন, বড় ধরনের চাঁদা খসানো হবে তাদের পকেট থেকে। বছরের পর বছর ধরে এমন আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। চাঁদাবাজির ঘটনায় একাধিক মামলা হওয়ার পরও মনজুর রাজত্ব ছিল বহাল তবিয়তে।

শেষ পর্যন্ত গত বৃহস্পতিবার র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার হন মনজু। দুই মামলায় গতকাল শুক্রবার মনজুকে দশ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা গতকাল সমকালকে জানান, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনজুর হয়ে টিকাটুলী ও আশপাশের এলাকা এবং রাজধানী সুপার মার্কেটে চাঁদাবাজি করতেন অন্তত ১৩ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- প্রদীপ তালুকদার, সায়েম, সাইদুল, ভূঁইয়া মিলন, আফজাল, আবদুল হক, আওলাদ, এহসান, মোর্শেদ, হারিছ, নাজমুল ও জাফর সানি। অপর আরেকজনের নাম জানা যায়নি।

সম্প্রতি রাজধানী সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. রনির কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন মনজু ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ওই ব্যবসায়ী ওয়ারী থানায় মামলাও করেছিলেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. রনি সমকালকে বলেন, রাজধানী সুপার মার্কেটে তার কসমেটিকসের দোকান রয়েছে। কসমেটিকসের বদলে সেখানে ইমিটেশনের সামগ্রী বিক্রি করার প্ল্যান করেন তিনি। দোকানের আইটেম পরিবর্তনের খবর জানার পর মনজু তার লোকজনের মাধ্যমে খবর পাঠান। তার সঙ্গে দেখা করে দোয়া ও আশীর্বাদ নেওয়ার কথা জানানো হয়। পরে আশীর্বাদ নেওয়ার জন্য মনজুর সঙ্গে দেখা করলে তিনি দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফীউল্লাহ বুলবুল সমকালকে বলেন, মনজুর বিরুদ্ধে দায়ের করা অস্ত্র মামলার তদন্ত র‌্যাবের কাছে আনতে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হবে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের যে অভিযোগ রয়েছে, সে ব্যাপারে তদন্ত করবে সিআইডি। মনজুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মনজুকে দশ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া মনজুর গাড়িচালক সাজ্জাদ হোসেনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার মনজু ও সাজ্জাদকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করেন ওয়ারী থানার এসআই হারুন-অর-রশীদ। অস্ত্র মামলায় মনজুকে সাত দিন এবং মাদক মামলায় দু'জনকে সাত দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চান তিনি। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ওয়াজিউল্লাহ রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন।

দু'পক্ষের বক্তব্য শেষে বিচারক মনজুকে দুই মামলায় পাঁচ দিন করে মোট দশ দিন এবং সাজ্জাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনজু ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সদস্য। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের গত কমিটিতেও সদস্য হিসেবে ছিলেন তিনি। টিকাটুলীর রাজধানী সুপার মার্কেট ও নিউ রাজধানী সুপার মার্কেটে চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলদারীর পাশাপাশি মাদক কারবারের অভিযোগে বিভিন্ন সময় খবরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। অবশ্য তিনি নিজে বরাবরই তা অস্বীকার করেছেন।

ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান বলেন, মনজুকে চাঁদাবাজির মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখাতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। সব অভিযোগের তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন

×