অনলাইন শিক্ষায় বিশেষ শিশুদের জন্য পিএফডিএ-ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২০ | ১০:২৯ | আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২০ | ১২:১৩
কোভিট-১৯ এর কারণে অনেক কিছুর সাথেই খাপ খাইয়ে চলতে হচ্ছে, তার মাঝে একটি হচ্ছে সনাতন শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে অনলাইন এ শিক্ষা সেবা চালুকরণ।
তৈরি না থাকার কারণে এই পদ্ধতি যেমন আমাদের কাছে এখনও সুবিধা জনক অবস্থায় উঠে আসতে পারেনি, আবার এর মাঝে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা বা ট্রেনিং আরও কয়েকধাপ উপরের জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এক্ষেত্রে নির্দ্বিধায় বলতে হবে পিএফডিএ- ভোকেশনালল ট্রেনিং সেন্টার (পিএফডিএ-ভিটিসি) ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি করেছে।
১১ বছর বয়স থেকে শুরু করে প্রিভোকেশনাল, ভোকেশনাল, থেরাপি, জিম বা শরীর চর্চা, ইয়োগা, কালচারাল, বিনোদন ইত্যাদি বিষয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রবি থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সপ্তাহে ৫ দিন পরিপূর্ণ শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।
একজন স্পেশাল এডুকেটর কাজ করেন পঞ্চ ইন্দ্রিয়কে গুরুত্ব দিয়ে। তার মধ্যে দেখা, শোনা এবং স্পর্শ অন্যতম। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু বা ব্যক্তি সবচাইতে বেশি শিখে দেখে এবং শুনে। স্পর্শের মাধ্যমে তাদের দিতে হয় আস্থা ও ভরসা, নির্ভরতা নিশ্চিত করা এবং ভালোবাসা জানানোর অন্যতম মাধ্যমে হচ্ছে স্পর্শ। তাই একজন স্পেশাল এডুকেটর সবচাইতে বেশি কাজ করেন স্পর্শের সাহায্যে ।এক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাস স্পেশাল এডুকেটরদের জন্য অবশ্যই চ্যালেঞ্জের, তবে ভালোবাসা এবং স্নেহের সম্পর্কের কাছে দূরত্ব কোন বাঁধা নয়, বিশেষ করে পিএফডিএ-ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের স্পেশাল এডুকেটরদের কাছে । জরা ব্যাধি, মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এর মধ্যেও লড়াই করে এই অনলাইন সার্ভিস ২২ মার্চ, ২০২০ থেকে শুরু করে আজ অবধি ১০৭তম দিন সফলভাবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সঠিক ভাবে ক্লাস গুলো পরিচালনা করে যাচ্ছে ।
পিএফডিএ-ভিটিসি শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের জন্য একটি নির্দিষ্ট কারিকুলাম অনুসরণ করে এবং এই কোভিট-১৯ এর সময়ে অনলাইন সার্ভিসের আওতায় শিক্ষার্থীদের মান সম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষে আলাদা উপযুক্ত সিলেবাস তৈরি করে নিয়েছে । এখানে একজন ব্যক্তির স্পেশাল চাহিদার উপর নির্ভর করে তার কোন কোন দিকে দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজন তা জ্ঞানীয়, আবেগিক, শারীরিক এবং সামাজিক বিকাশ মুলত এই ৪ টি ক্ষেত্রে তাদের সার্বিক বিকাশ সাধনের জন্য প্রত্যেকের জন্য আলাদা ভাবে টার্গেট সেট করে নিয়ে কাজ করছে । শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ ভাবে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সকল কাজ ও দক্ষতার সংখ্যাতাত্বিক মূল্যায়নকে পরিমাপ করতে পিএফডিএ- ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার ‘CUMO‘ নামের একটি স্বাতন্ত্র্য অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করে নিয়েছে। এটি একটি মাল্টিফাংশনাল সফটওয়্যার যেখানে স্পেশাল এডুকেটর/ শিক্ষক / প্রশিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গবেষক, মনোবিজ্ঞানী, ডাক্তার, প্রশাসনিক ব্যক্তি, হিসাব বিজ্ঞান, আইটি স্পেশালিষ্ট সহ অনেকের অংশগ্রহনের সুযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষকগণ CUMO সফটওয়্যার ব্যবহার করেই নিয়মিত শিক্ষার্থীদের শিখনের অগ্রগতির মূল্যায়ন, পাঠপরিকল্পনাসহ অভিভাবকদের সাথে চ্যাট এর মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন । সংবাদ বিজ্ঞপ্তি