ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

করোনার প্রভাব

আবাসিক হোস্টেলের ছাত্রীরা বিপাকে

আবাসিক হোস্টেলের ছাত্রীরা বিপাকে
×

প্রতীকী ছবি

সাজিদা ইসলাম পারুল ও ফাহিমা আক্তার সুমী

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২০ | ১৬:১১

রাজধানীর বাড়িওয়ালাদের ভাড়া বাড়ানোর তাণ্ডবে একদিকে যেমন ভাড়াটিয়ারা হতাশায় দিন পার করছেন, অন্যদিকে আবাসিক হোস্টেলের ছাত্রী কিংবা কর্মজীবী নারীরাও পড়েছেন বিপাকে। নানা ভোগান্তির মুখোমুখি হয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারীকে।

গত মার্চে বাংলাদেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেই স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এমনকি যারা টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ চালাতেন, করোনাকালে টিউশনিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামের বাড়ি চলে যান অনেক শিক্ষার্থী। তার পরও এমন কঠিন পরিস্থিতিতে গ্রাম থেকে অনেকে ছুটে এসেছেন জিনিসপত্র হারানোর ভয়ে। আবার ভাড়া বাড়িয়ে দিতে না পারলে বাসা ছাড়ার জন্য চাপে পড়ে অনেকে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসতে বাধ্য হয়েছেন। ভুক্তভোগীরা এতে কোনো উপায় না পেয়ে জিনিসপত্র রাখার জন্য আবার চড়া ভাড়াতেই নতুন বাসা নিচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্মম এই করোনা পরিস্থিতিতে থেমে নেই তাদের পাশবিকতা।

গত বুধবার রাজধানীর ফার্মগেটের বিভিন্ন অলিগলিতে থাকা হোস্টেল ঘুরে এসব তথ্য জানা যায়। দেখা যায়, এলাকায় একটির গা ঘেঁষে আরেকটি হোস্টেল। আবার কোনো কোনো ভবনের নিচতলা বা কয়েকটি ফ্লোর মিলে তৈরি করা হয়েছে একটি হোস্টেল। তবে করোনার কারণে বেশিরভাগ হোস্টেলের সিট ফাঁকা পড়ে আছে।

একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোনিয়া রহমান (ছদ্মনাম)। ফার্মগেটের তেজতুরি বাজারের নিবেদিকা (ভিআইপি) হোস্টেলে থাকেন। সোনিয়া সমকালকে জানান, সারাদেশে লকডাউনে যাবে, এই কথা শুনে মার্চের ২৪ তারিখে গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ যান তিনি। তার আগে পড়াশোনার পাশাপাশি দুটি টিউশনি করে নিজের খরচ চালাতেন। করোনাকালে দুটি টিউশনিই বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, 'বাড়ি থেকে প্রতি মাসের ভাড়া বিকাশে হোস্টেল মালিককে পরিশোধ করেছি। গত মাসে হোস্টেল মালিক জানান, হোস্টেল ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। আমাকে নতুন বাসা দেখতে হবে। আমি একথা শুনে তড়িঘড়ি করে ঢাকায় চলে আসি। এসে শুনি বাড়িওয়ালা বাসা ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ায় হোস্টেল মালিক বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। এদিকে মাসের শেষ দিক হওয়ায় নতুন বাসা দেখার সময়ও কম। তাই বাধ্য হয়ে বেশি টাকা ভাড়ায় হোস্টেল মালিকের তত্ত্বাবধানে আরেকটি বাসায় উঠে যাই।'

আরেক শিক্ষার্থী মুক্তা আক্তার (ছদ্মনাম) বলেন, 'আমি কখনও ভাবতে পারিনি এই পরিস্থিতিতে আমাকে বাসা পাল্টানোর জন্য ঢাকায় আসতে হবে। আমার ভার্সিটি বন্ধ। ইচ্ছা ছিল ঈদের পরে পরিস্থিতি বুঝে ঢাকায় আসব। বাড়িওয়ালার এমন অত্যাচারে আমাকে শুধু বাসা পাল্টানোর জন্য আসতে হলো।'

রাজধানীর বাংলামটরের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন নুসরাত সুলতানা। অফিস লকডাউনের জন্য বেশিরভাগ সময়ই বাসায় থাকতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অফিসে কবে যেতে পারবেন, তারও কোনো ঠিক নেই। বাড়িতেও যেতে পারছেন না। হঠাৎ বাসা ভাড়া বাড়ানোর জন্য তাকে নতুন বাসায় উঠতে হয়েছে।

তেজতুরি বাজারের লিজেন্ড হোস্টেলের মালিক রাজন জানান, সাধারণত বেশিরভাগ হোস্টেল মালিকরা বিভিন্ন বাড়ির কয়েকটি ফ্লোর বা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েই আবাসিক হোস্টেল পরিচালনা করে থাকেন। তিনিও ফার্মগেটের বেশ কয়েকটি জায়গায় হোস্টেল পরিচালনা করে থাকেন। যেখানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থী বা বর্তমান ছাত্রী বা কর্মজীবী নারীরা থাকেন। তিনি বলেন, 'করোনা পরিস্থিতিতে বাড়ির মালিক প্রতিটি ফ্ল্যাটের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে আমিও বিপাকে পড়ে গেছি। কারণ করোনার শুরুতেই অনেক শিক্ষার্থী হোস্টেলের সিট ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে ফ্ল্যাটের ভাড়ার ক্ষেত্রেও আমাকে ভর্তুকি গুনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ভাড়া বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় নেই।'

আরও পড়ুন

×