ওয়ারী লকডাউন
ঢিলেঢালার মাত্রা বাড়ছে
রাজধানীর ওয়ারীতে লকডাউনের মধ্যেই নানা ছুতোয় বাইরে যাচ্ছেন অনেকে। সোমবার তেমনি একজনকে বের না হতে অনুরোধ জানান স্বেচ্ছাসেবী- ফোকাস বাংলা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২০ | ১৬:১২
রাজধানীর ওয়ারীতে ঢিলেঢালা ও নানা অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে লকডাউন। ভেতরে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখা যাচ্ছে। সকালবেলা দুটি ফটকেই দেখা গেছে লাইন ধরে লোকজনকে বের হতে। এ ছাড়া যেসব সড়ক বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে, সেগুলোরও ফাঁকফোকর দিয়ে এলাকাবাসীকে বের হতে দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থার মধ্য দিয়ে প্রথম দু'দিনে লকডাউন এলাকার আরও ১৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।
জানা গেছে, লকডাউনকে কেন্দ্র করে ওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য একটি বুথ স্থাপন করা হয়। প্রথম দু'দিনে ২৮ জন নমুনা দেন। গতকাল তাদের রিপোর্ট পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১৫ জনের করোনার ফল পজিটিভ পাওয়া গেছে বলে লকডাউন তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানিয়েছেন। নমুনা সংগ্রহের বুথের মেডিকেল অফিসার জুমানা আশরাফী জানান, করোনা পরীক্ষার জন্য গত ৪ জুলাই ১৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তাদের মধ্যে সাতজনের করোনা পজিটিভ আসে। তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে বলা হয়েছে। ৫ জুলাই ১২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তাদের মধ্যে আটজনের করোনা পজিটিভ আসে।
এদিকে লকডাউন এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে গতকাল তৃতীয় দিনে আরও ঢিলেঢালা অবস্থা দেখা গেছে। চাকরিজীবীরা সকালে লাইন ধরে বের হয়েছেন। তবে সবার নাম-ঠিকানা রেজিস্টার খাতায় এন্ট্রি করেছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। অন্য যারা বের হতে চেয়েছেন, তাদের ঠেকানোর ব্যাপারেও কঠোর কোনো অবস্থান দেখা যায়নি প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের।
দেখা যায়, ব্যাংকে টাকা তোলার নামে অন্তত ২০ জন বাসিন্দা হটকেকের প্রবেশমুখে হাজির হন। তাদের বাইরে যেতে বাধা দেন স্বেচ্ছাসেবী ও পুলিশ। কিন্তু তাদের অবজ্ঞা করে অনেকটা জোরপূর্বক কয়েকজন বেরিয়ে যান। বাধা পেয়ে প্রবেশমুখে স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে মানুষের বাকবিতণ্ডা হয়েছে। এ ছাড়া বাইরে থেকেও নতুন করে এলাকায় ঢুকছে মানুষ। ভেতরে দোকানপাট না খুললেও মানুষের চলাচল করতে দেখা গেছে বেশ। পুলিশের ওয়ারী জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার হান্নানুল ইসলাম সমকালকে বলেন, 'নানা অজুহাতে বের হওয়ার জন্য মানুষ প্রবেশমুখে ভিড় করছে। প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া লকডাউন এলাকার বাসিন্দাদের অনেকেই জরুরি কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের আসা-যাওয়া করতে দেওয়া হচ্ছে।'
ওয়ারী স্ট্রিটের একটি বাড়ির দারোয়ান সমকালকে জানান, ওয়ারী স্ট্রিটে সাধারণত মানুষ রাস্তায় নামে না জরুরি প্রয়োজন ছাড়া। রাতেও মানুষ রাস্তায় হাঁটতে বের হয় না।
স্ব্বেচ্ছাসেবকরা জানিয়েছেন, গভীর রাতেও নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা ধরনের পণ্য কেনার কথা বলে মানুষ ফোন করছে কন্ট্রোল রুমে। অনেকের আবদার থাকে অযৌক্তিক। সিগারেট চেয়ে ফোন দেওয়া মানুষের সংখ্যাও কম নয়। এ ছাড়া সিগারেট কিনতে প্রবেশমুখেও ভিড় করে মানুষ।
স্বেচ্ছাসেবী তারিফ জনান সাকিব বলেন, 'বাইরে যাওয়ার অজুহাত হিসেবে নানা প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার কথা বলে গেটে ভিড় করে মানুষ। এ ছাড়া কেউ কেউ গেটে এসে সিগারেট কিনে দিতে বলেন। কিন্তু তাদের সেই আবদার পূরণ করা হয়নি। কারণ সিগারেট কিনে দেওয়া কোনো জরুরি সেবার মধ্যে পড়ে না।
- বিষয় :
- রাজধানী
- ওয়ারী
- লকডাউন
- করোনাভাইরাস