স্বাভাবিক জীবন চান অর্পিতা
শিপংকর শীল
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০১৯ | ০৫:৫১
খ্রিস্টানদের তীর্থ উৎসব উপলক্ষে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়িতে ছুটে যান অর্পিতা চাকমা। শেরপুরের শ্রীবরদীর বাবেলাকোনা গ্রামে স্বজনদের সঙ্গে যখন আনন্দে মাতেন, তখনও জানতেন না তার সামনে বিষাদ অপেক্ষা করছে। ২৫ অক্টোবর বাড়ি গিয়ে পরদিন যখন কর্মস্থলে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার টেকেরপার সংলগ্ন ঐশী বিউটি পার্লারে ফিরছিলেন, তখনই ঘটে গেল বড় দুর্ঘটনা। সিএনজি এবং মাহেন্দ্রের সংর্ঘষে তার একটি পায়ের হাড় ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে যায়। চিকিৎসকরা বলছেন, ভেঙে যাওয়া হাড় হাসপাতালের গবেষণাগারে রয়েছে। এ হাড় জোড়া লাগানো কঠিন। তবে অপারেশনের আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
এ অবস্থায় বিউটি পার্লারে সামান্য বেতনের চাকরি করা অর্পিতা চোখে মুখে অন্ধকার দেখেছেন। পরিবারে আর উপার্জন করার মতোও কেউ নেই। একমাত্র ভাই চাকরি করলেও এখন বেকার।
সেদিনের দুঃসহ ঘটনার কথা তুলে ধরতে গিয়ে কান্না করে দেন অর্পিতা। বলেন, তারাকান্দার যে স্থানে দুর্ঘটনাটি ঘটে সেখানে একটি রাইস মিল ছিল। ওই মিলের ম্যানেজার কাঞ্চন তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। জ্ঞান ফেরার পর তিনি স্বজনদের ফোন দেন। খবর পেয়ে তারা ময়মনসিংহ মেডিকেলে ছুটে আসেন। অবস্থা গুরুতর দেখে ময়মনসিংহ মেডিকেলের চিকিৎসকরা তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানোর নির্দেশ দেন। তখন তার ভাই সোমেন সাংমা অর্পিতাকে অ্যাম্বুলেন্সে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে জরুরি বিভাগে ভর্তির নির্দেশ দেন।
অর্পিতার ভাই সোমেল পেশায় একজন গার্মেন্ট কর্মী। ছয়দিন কাজে না যাওয়ায় চাকরি হারান তিনি। একদিকে বোনের বিপদ, অন্যদিকে চাকরি চলে যাওয়ায় চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। বাবা-মায়েরও চিকিৎসা চালানোর মতো আর্থিক অবস্থা নেই।
পঙ্গু হাসপাতালের ২০৬ নম্বর কেবিনে যন্ত্রণায় কাতর অর্পিতা বলেন, আমি দ্রুত সুস্থ হতে চাই। সঠিক চিকিৎসা পেলে আমি সুস্থ হয়ে উঠবো। আমি সুস্থ না হলে আমার পরিবার চলবে না। সবার সহায়তা পেলে আমি সুস্থ হতে পারবো।
- বিষয় :
- অর্পিতা চাকমা