৫শ’ কোটি টাকা অনুদান চায় তারকা হোটেলের মালিকরা
বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২০ | ১০:৪৪
তারকা হোটেল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন (বিহা) নেতৃবন্দ বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে বেশিরভাগ তারকা হোটেলের অতিথির সংখ্যা কমেছে। এতে হোটেলগুলোর ব্যবসা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য ব্যবসা সচল রাখতে সরকারের কাছে ৫শ’ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছে তারা। পাশাপাশি সুদ মওকুফ, কর ছাড়, পরিষেবা বিল মওকুফ ও নতুন ঋণে সুবিধাসহ আরও নানা দাবিও জানানো হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর গুলশানে রেনেসাঁ হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দ। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি ও হোটেল আগ্রাবাদের সিইও এইচ এম হাকিম আলি। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিহা'র বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও গোল্ডেন টিউলিপ দ্য গ্র্যান্ডমার্ক ঢাকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খালেদ-উর-রহমান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ও র্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রামের এমডি সাব্বির আহমেদ, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকার এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (ফিন্যান্স) আসিফ আহমেদ, লং বিচ হোটেলের এমডি আবুল কালাম আজাদ, লেকশোর হোটেল গুলশানের এমডি কাজি তারেক শামস, আমারি ঢাকার এমডি অশোক কেজরিওয়াল, হোটেল লা ভিঞ্চির এমডি এটিএম সাইদুল আলম, রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলের জিএম আজিম শাহ, দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা এবং হানসার সিইও সাখাওয়াত হোসেন, দ্য ওয়ে ঢাকার এমডি আহমেদ ইউসুফ ওয়ালিদ এবং বেস্ট ওয়েস্টার্ন প্লাস মায়ার সিইও রাশাদুল হোসেন চৌধুরী।
লিখিত বক্তব্যে খালেদ-উর-রহমান বলেন, জিডিপিতে এ খাতের অবদান ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু করোনার আঘাতে এ খাতে প্রায় ২ হাজার ৫শ’ কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে চলতি বছরই হোটেলগুলোর ক্ষতি ৭ হজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। করোনায় বেশির ভাগ হোটেলের অতিথি সংখ্যা ২ থেকে ৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা স্মরণকালে সর্বনিম্ন। অনেক হোটেল অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় হোটেলগুলোর পক্ষে কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএটিএ) তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে করোনাকালে বেকার হয়ে পড়ার হুমকির মুখে রয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজারের বেশি হোটেল শ্রমিক ও কর্মচারী। এর আগে পোশাক শিল্পে ক্ষতি নিরসনে সরকার ঘোষিত বিশেষ তহবিল জনমনে ব্যাপক প্রশংসা ও আশার সঞ্চার করেছে। আমরাও দেশের গৌরবজনক ভূমিকা রেখে আসা হোটেল তথা পর্যটন শিল্পকে বাঁচাতে চাই।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খালেদ-উর-রহমান বলেন, সরকারের আহ্বানে করোনা রোগীদের সেবা দেওয়া চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিভিন্ন হোটেলে রাখা হলেও এর ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায় ২০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। সরকার লকডাউন দিয়েছে। তাই আমাদেরকে দেখার দায়িত্ব সরকারের।
তিনি বলেন, এ খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋন রয়েছে। আগে ব্যবসা ভালো থাকায় ব্যাংকগুলো সহজে তাদের ঋণ দিয়েছে। এখনো ব্যাংকগুলোকে সুবিধা দিতে হবে। গত মার্চ পর্যন্ত কোনো ঋণ বকেয়া নেই। এখন ঋণ শোধ না করলে সব নিলামে উঠে যাবে। এত সম্পদ কে কিনবে প্রশ্ন করেন তিনি।
- বিষয় :
- তারকা হোটেল
- বিহা