নির্বাচনী প্রচারণার সময় হকারকে টাকা দিলেন শাহরিয়ার কবির, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০১:১৯ | আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৩:০২
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় একজন হকারকে টাকা দিতে দেখা গেছে ব্যারিস্টার এএসএম শাহরিয়ার কবিরকে। সোমবার ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওতে এক পান বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলার পর তাকে এক হাজার টাকার একটি নোট দেওয়ার দৃশ্য দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় পান বিক্রি করা এক বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন শাহরিয়ার কবির। তিনি বিক্রেতার কাছে জানতে চান, ব্যবসা কেমন চলছে। উত্তরে বিক্রেতা বলেন, ‘মোটামুটি।’ তখন কেনো মোটামুটি—জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি দেশের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, চারদিকে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে, কখন কী ঘটে তা বোঝা যায় না। এ সময় শাহরিয়ার কবির ধর্মীয় প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহই সবকিছুর মালিক। রিজিক ও মানুষের সাক্ষাৎ—সবই তার ইচ্ছায় হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। কথোপকথন শেষে চলে যাওয়ার সময় বিক্রেতার হাতে এক হাজার টাকার নোট গুঁজে দেন শাহরিয়ার কবির।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই অভিযোগ তুলছেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় এভাবে টাকা দেওয়া ভোটারকে প্রভাবিত করার শামিল হতে পারে, যা আইন ও আচরণবিধির পরিপন্থী। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সোমবার গণমাধ্যমে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘মানুষের সাহায্য করাটা এখন বিপদ হয়ে গেছে। দোকানে বাচ্চাদের খেলনা কিনে দেওয়া ইস্যু হয়নি, কিন্তু গরিব মানুষটাকে সাহায্য করাটা ইস্যু হয়ে গেল।’
তিনি দাবি করেন, ‘ওই পান বিক্রেতার সঙ্গে তার দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে এবং বিক্রেতা জানিয়েছেন সারাদিন তেমন বিক্রি হয়নি। মানবিক দিক বিবেচনায় তিনি এক হাজার টাকা দিয়েছেন বলে জানান শাহরিয়ার কবির।’
তিনি বলেন, ‘এ সময় তিনি ওই ব্যক্তির কাছে ভোট চাননি এবং সবকিছুই ক্যামেরার সামনে হয়েছে। একই জায়গায় তিনি শিশুদের খেলনা কেনার জন্যও টাকা দিয়েছেন এবং স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি নির্বাচনের জন্য নয়।’
তবে আইনগত দিক থেকে বিষয়টি বিতর্কিত। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ভোটারকে ভোট দিতে উৎসাহিত করা বা ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে টাকা বা অন্য সুবিধা দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পাশাপাশি ২০০৮ সালের নির্বাচনী আচরণবিধিতে নির্বাচনী এলাকায় প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা বা অনুদান প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
- বিষয় :
- ভিডিও ভাইরাল
- জামায়াতে ইসলামী
