যুবদলের ৩ নেতাকে মারধরের অভিযোগ, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদল সেক্রেটারির বিরুদ্ধে মামলা
মারধরে আহতরা। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১৫:৫৮ | আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬:১১
রাজধানীর দক্ষিণখানে স্যুয়ারেজ লাইনের মাটি নিয়ে বিবাদে যুবদল নেতা রাসেলসহ সংগঠনটির তিন নেতাকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সেক্রেটারি আল আমিন হোসেন শান্তর বিরুদ্ধে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগীরা মানববন্ধন করেন। মারধরের ঘটনায় দক্ষিণখান থানায় মামলা হয়েছে।
মারধরের শিকার তিনজন হলেন- রাসেল সরকার, তার ভাতিজা মো সাব্বির হোসেন রাজু ও আবরারুল হক জুয়েল (৩৪)। তারা সবাই ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের নেতা বলে জানা গেছে।
মামলার আট আসামি হলেন- আল আমিন, হলানের বাসিন্দা মো. জিসান (২৮), পিংকি (৩০), মো. আকাশ (২৬), রহমান (২৮), মো. আতিকের ছেলে মেহেদী, আইনুছ বাগের মাহি আব্দুল্লাহ (২২), ৪৮ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আরাফাত (২৭) ও দক্ষিণপাড়ার কালা মাহিন (২৪)। এছাড়াও আরও ৩০/৩৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, দক্ষিণখান থানাধীন হলান এলাকায় রাস্তার সুয়ারেজ লাইনের (ড্রেন) উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য মাটি খোড়া হয়। খনন করা মাটি রাস্তার পাশে ঢিবি করে রাখা ছিল। এসব মাটি অবৈধভাবে বিক্রি করছিল আল আমিন। পাশের রাস্তায় গর্ত থাকায় শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে আল আমিনকে কিছু মাটি ওই রাস্তায় দিতে বলেন রাসেল। কিন্তু আল আমিন রাস্তা মেরামতের জন্য মাটি দিতে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে আল আমিন ও তার লোকজন বাঁশের লাঠিসোটা, ইট, ধারালো ছুরি, ধারালো চাপাতি, লোহার রড নিয়ে নিয়ে রাসেলের ওপর হামলা করেন।
রাসেল বলেন, ‘আল আমিন ও তার লোকজনের হামলা আমি গুরুতর জখম হই। আমাকে বাঁচাতে ভাতিজা মো. সাব্বির হোসেন রাজু ও আমার বন্ধু আবরারুল হক জুয়েল (৩৪) এগিয়ে আসে। শান্তের লোকজন ভাতিজা রাজুকে জাপটে ধরে চাপাতি দিয়ে মাথার পেছনে আঘাত করে। এতে রাজু চিৎকার করে। তার চিৎকার শুনে এলাকার ছোট ভাই সাব্বির ইসলাম কাউসার (৩৫), রবিউল (৩২), রানাসহ (৩১) কয়েকজন চলে আসে। তাদেরকেও মারধর করা হয়। স্থানীয়রা উপস্থিত হলে আল আমিন ও তার লোকজন পালিয়ে যান।’
তিনি আরও জানান, আহত হয়ে পড়ে থাকলে ভাতিজা রাজুকে ও আমার বন্ধু আবরারুল হক জুয়েল ও আমাকে দ্রুত কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা।
পুলিশ ও স্থানীরা জানায়, দক্ষিণখানে সরকারি কাজের অতিরিক্ত মাঠি আল আমিন শান্ত বিক্রি করছেন কয়েকদিন থেকে। এখান থেকে কিছু মাটি পাশের আরেকটি রাস্তায় ফেলার জন্য বলেন রাসেল। কারণ, গর্ত থাকায় রাস্তা দিয়ে চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। গতকাল শনিবার রাসেল সেই রাস্তায় আল আমিনকে মাটি দিতে বলেন। আল আমিন মাটি দিতে অস্বীকার করলে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায়ে আল আমিন লোকজন নিয়ে এসে রাসেলের ওপর হামলা করে। এতে রাসেলসহ তিনজন আহত হন। এ ঘটনায় দক্ষিণখান খানায় মামলা করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযাগ, ৫ আগস্টের পর থেকেই আল আমিন শান্ত একের পর মারামরি দখল চাদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে নানা অপকর্ম করতে থাকেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আরও বেপরোয়া হয়ে পড়েন তিনি। তার বিরুদ্ধে মারধর করার পাশাপাশি নির্মাণধীন ভবন, বিভিন্ন মালামালের গাড়ি ও স্থানীয় দোকানপাট থেকে চাঁদা তোলার একাধিক অভিযোগ আছে। রাতে দক্ষিণ খান বাজার দিয়ে মালামাল নিয়ে গাড়ি গেলে চাঁদা দিতে হয় বিমানবন্দর থানার ছাত্রদলের সম্পাদক আল আমিনকে। বিমানবন্দরের এলডি তেলের পাম্পের স্টাফদের মারধর করে পাম্পের ক্যাশ লুট করে প্রায় ৯০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় আল আমিন। এ ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে আল আমিন বলেন, রাসেল সরকার তার বাড়ির উঠানের জন্য ১০ গাড়ি মাটি চান। তখন ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান কাকা তার কাছে কত দামে মাটি কিনতে চান, সেটা জিজ্ঞেস করলে রাসেল ক্ষিপ্ত হন। এ সময় আমি সেখানে উপস্থিত হয়ে রাসেলকে মাটি পাঠানোর জন্য মাটির দাম ছাড়াই কেবল গাড়ি ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ দিতে বলি। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে গালিগালাজ করেন এবং কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপর আমি সেখান থেকে বাড়িতে চলে যাই। এক পর্যায়ে তাদের লোকজন আমার বাড়ির উঠানে আসে আমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্যে। আমি আমার ছোট ভাইদের নিয়ে সবাইকে নিয়ে বসি। এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়, যা মারামারিতে রূপ নেয়। আমার ছোট ভাই ও পিংকি আহত হন। তারাই আমার ওপর হামলা করে আবার আমার নামেই মামলা করে।
দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, সড়কের মাটি নিয়ে শনিবার দুপুরে যুবদল নেতা রাসেলের সঙ্গে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সেক্রেটারি আল আমিন হোসেন শান্তর মারামারি হয়। এতে রাসেলসহ যুবদলের তিন নেতা গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় রাসেল সরকার বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখসহ ৩০/৩৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান ওসি মো. শরিফুল ইসলাম।
