ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা

অভিযুক্ত প্রতিবেশী স্ত্রীসহ আটক

আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ০৮:৪৩ | আপডেট: ২০ মে ২০২৬ | ০৯:২৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের এক শিশুকে গতকাল মঙ্গলবার গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। মাথা বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাসার খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ এ খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

পুলিশের ধারণা, হত্যার আগে শিশুটি পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিবেশী সোহেল রানা পালিয়ে যায়। পরে সন্ধ্যায় তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক করে পুলিশ। এর আগে তার স্ত্রী শম্পাকে বাসা থেকে আটক করা হয়। তাদের ঘরে শিশুটিকে হত্যা করা হয়। সোহেল একটি রিকশার গ্যারেজে কাজ করে। ওই শিশু ও তার বাবা-মায়ের সঙ্গে সোহেলের পরিচয় ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিশুটি পল্লবীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে তার মা-বাবার পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ফ্ল্যাটে থাকত।  
তাদের পাশের ফ্ল্যাটের তিনটি কক্ষে আলাদা তিন পরিবার বাস করে। একটি কক্ষে বাস করে সোহেল-শম্পা দম্পতি। 

গতকাল সকালে ওই শিশুকে বাসায় না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বাইরে কোথাও না পেয়ে প্রতিবেশী সোহেলের ফ্ল্যাটের বন্ধ দরজায় টোকা দেন। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। ডাকাডাকি করে ভেতর থেকে কারও সাড়া না পেয়ে ৯৯৯-এ বিষয়টি জানানো হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বন্ধ দরজা ভেঙে পুলিশ বাসায় ঢুকে সোহেলের ঘরে রক্ত দেখতে পায়। প্রথমে খাটের নিচ থেকে শিশুটির মাথাবিহীন দেহ পাওয়া যায়। খাটের নিচে এক কোনায় রঙের বড় খালি কৌটার মধ্যে কাটা মাথা পাওয়া যায়। সোহেলের স্ত্রী শম্পা রান্নাঘরে লুকিয়ে ছিল। সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগেই সোহেল পালিয়ে যায়। অপর দুটি কক্ষ ছিল তালাবদ্ধ। 

পল্লবী থানা পুলিশ ছাড়াও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে।
পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, সোহেল কৌশলে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে শিশুটিকে হত্যা করেছে। এর আগে শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছিল কিনা– গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, হত্যার পেছনের কারণ, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং অন্য কেউ জড়িত ছিল কিনা– সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার গতকাল রাত ৮টায় সমকালকে বলেন, লাশ উদ্ধারের পরপরই পলাতক সোহেলকে আটকের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করে। সন্ধ্যার পর তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে আটক করা হয়। 

সোহেলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, শিশুটিকে বাসায় নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায় সোহেল। এ ঘটনা শিশুটি বাসায় ফিরে তার বাবা-মাকে বলে দিতে চেয়েছিল। তখন শিশুটিকে খুন করে সোহেল। লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে প্রথমে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর হাত কাটার চেষ্টা করে। এরই মধ্যে বাইরে থেকে শিশুটির স্বজনরা দরজায় নক করায় লাশ রেখে বারান্দার গ্রিল কেটে বাসা থেকে সোহেল পালিয়ে যায়। তখন তার স্ত্রী ঘরে ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, সোহেল পেশাদার অপরাধী। তার বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে। 
গতকাল রাতে পল্লবী থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সাত ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। 

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুকে ধর্ষণের পর একটি ধারালো ছোরা দিয়ে নৃশংসভাবে গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছোরা এবং শিশুটির শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়েছে।

 

আরও পড়ুন

×