ঢাকা রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

রাজধানীতে মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীতে মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ | ০৮:৫৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

বয়স যখন ছয় বছর, তখন তাকে রাজধানীর বনশ্রী এলাকার একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। এখন বয়স ১০ বছর। মাদ্রাসায় আবাসিক থেকে হিফজুল কোরআন বিভাগে পড়ালেখা করছিল সে। গত মঙ্গলবার রাতে মাদ্রাসার শৌচাগার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, শিশুটি বিভিন্ন সময় যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তার শরীরে এ ধরনের আলামত পাওয়া গেছে। সে শৌচাগারে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে বনশ্রী এলাকার একটি মাদ্রাসার তৃতীয় তলার শৌচাগার থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজে। 

রামপুরা থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রাথমিক ধারণা, শিশুটি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মাদ্রাসার ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদ্রাসার ১৭ থেকে ১৮ বছরের এক শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময় শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করেছে। এ কারণে সে আত্মহত্যা করেছে। শিশুটির পায়ুপথে জখমের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং আত্মহত্যা প্ররোচণার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামিও রয়েছে। 
সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ছাত্রকে আটক করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে আটকের কথা স্বীকার করা হয়নি। এ বিষয়ে ওসি বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। 
মাদ্রাসার একজন শিক্ষক বলেন, শিশুটি মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর শৌচাগারে যায়। অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও বের না হওয়ায় শিক্ষকরা শৌচাগারের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন, গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় রয়েছে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে জানানো হয়। মাদ্রাসায় পাঁচ শিক্ষক, দুজন স্টাফ এবং ৫৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। যে শিক্ষার্থীর 
বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে, সে মঙ্গলবার বিকেলে ছুটি নিয়ে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে যায়। এর পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সে বাড়িতেও যায়নি।
নিহত শিশুর নানা সমকালকে বলেন, তার বাবা সৌদি প্রবাসী। শিশুটির মা আরেক শিশুপুত্রকে নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রামের বাড়ি থাকেন। 

আরও পড়ুন

×