ঈদুল আজহা
কোরবানির সরঞ্জাম বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে, বাজারে ক্রেতা কম
দ্রোহী তারা
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ | ১৯:৪৩ | আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ | ২০:৫১
ঈদুল আজহা এলেই ছুরি-চাপাতি কেনাবেচার বড় জায়গা কারওয়ান বাজারে শুরু হয় ব্যস্ততা। পশু কোরবানির জন্য ছুরি-চাপাতির পাশাপাশি বটি ও দা তৈরিতে দিনরাত কাজ করেন কামাররা। আগুনে লোহা গলিয়ে তৈরি হয় পশু কোরবানির ধারালো অস্ত্র। কিন্তু এবার বেচাকেনার চিত্র কিছুটা ভিন্ন। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই ঈদে প্রত্যাশামাফিক বিক্রি হচ্ছে না পশু কোরবানির উপকরণ।
আজ মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কেউ কেউ দোকানগুলোতে ছুরি হাতে নিয়ে দেখছেন, কেউ চাপাতির ওজন ও লোহা দেখে দামাদামি করছেন। তবে বিক্রেতাদের ভাষ্য, ক্রেতার উপস্থিতি এবার কম, আগের বছরের মতো ভিড় নেই। এবার কোরবানির উপকরণ বিক্রি তুলনামূলক কম। কারণ, বেশিরভাগ ক্রেতা অনলাইনে কোরবানির সরঞ্জাম কিনছেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিভিন্ন অনলাইন পেজে কম দামে কোরবানির সরঞ্জাম বিক্রি করায় কারওয়ান বাজারে তাদের ব্যবসায় ভাটা পড়েছে। অনেকে বাজারে না এসে ঘরে বসে অর্ডার দিচ্ছেন।
ব্যবসায়ী ছলিম আলী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করছি। কিন্তু অনলাইন পেইজগুলো নিজেদের কারওয়ান বাজারের কারখানার মালিক দাবি করে ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করছে।’
তিনি জানান, বর্তমানে গরু জবাইয়ের ছুরি প্রতি পিস ৬০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাপাতির কেজি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, বটির দাম প্রতিকেজি ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা। আর মাংস কাটার ছোট ছুরির দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।
ভোলা হার্ডওয়্যারের বিক্রেতা খায়রুল বাশার বলেন, ‘আগে এই সময়ে দোকানে দাঁড়ানোর জায়গা থাকত না। এখন অনলাইনে পেইজগুলো সুন্দরভাবে পণ্য উপস্থাপন করায় মানুষ আকৃষ্ট হচ্ছে, বাজারে আসছে না।’
তবে সব ব্যবসায়ীর অভিজ্ঞতা এক নয়। ঈদ যত এগিয়ে আসছে 'মা জননী' দোকানে বিক্রি তত বাড়ছে। বিক্রেতা আসলাম উদ্দিন বলেন, 'দোকানে সরাসরি বিক্রির পাশাপাশি আমরা অনলাইনে অর্ডার নিচ্ছি। তুলনামূলক অনলাইনেই বিক্রি হচ্ছে বেশি।' যানজট পেরিয়ে অনেক ক্রেতা আর বাজারে আসতে চাইছেন না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, ছুরি-চাপাতির বাড়তি দাম নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন ক্রেতারা। মালিবাগ থেকে আসা মো. আতিক বলেন, ‘ছুরি-চাপাতির দাম গত বছরের তুলনায় এবার বেশি। গরুর দামও তো এবার বেশি। সব মিলিয়ে এবার ব্যয় বেড়ে গেছে।’
একই কথা বলেন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা হাকিম মিয়া। কারওয়ান বাজারে ছুরি-চাপাতির দাম এবার একটু বেশি বলে অভিযোগ করেন তিনি। হাকিম মিয়া বলেন, 'বাজারে একটা চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। আর অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। আবার ডেলিভারি চার্জ ফ্রি। তাই অনেকে অনলাইনে অর্ডার করছেন। একদিকে বাজারে যেতে হচ্ছে না, অন্যদিকে দামে কম।'
এবার অনলাইনে জয় স্টিল, হ্যারিকেন মার্ট, সাইফুল এক্সপ্রেস লিমিডেট, গ্যাজেট এন্ড ইলেক্ট্রো বিডিসহ বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে কোরবানির সরঞ্জাম বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দুজন হলেন মো. রাসেল ও সুজন মিয়া। তারা জানান, ঘরে বসে অনেক ক্রেতা রিভিউ দেখে অর্ডার দিচ্ছেন। ছুরি-চাপাতি বহন করাটাও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই অনেক অনলাইনে অর্ডার করছেন।
পশু কোরবানির সরঞ্জামের দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে ব্যবসায়ীরা জানান, কাঁচামাল অর্থাৎ লোহা কয়লা ও শ্রমিকের মজুরি অনেক বেড়ে গেছে, যে কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে ছুরি-চাপাতির।
