ঢাকা বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বিল্লাল হত্যায় যুবদলের ২১ নেতাকর্মী আসামি

এজাহারে চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বিল্লাল হত্যায় যুবদলের ২১ নেতাকর্মী আসামি
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬ | ২১:৩৩

রাজধানীর মৌচাক এলাকায় ফুটপাতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে হত্যা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। স্বজনের অভিযোগ, ফুটপাতে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যা করা হয়। তবে পুলিশ বলছে, হত্যার কারণ সম্পর্কে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

এদিকে হত্যায় জড়িত অভিযোগে রমনা থানা যুবদলের আহ্বায়ক (ঘটনার পর বহিষ্কৃত) দিদারুল ইসলাম বাবুসহ সংগঠনের ২১ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে রিয়াজুল হাসান ও আল আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রিয়াজুল ছুরিকাঘাত করেন বিল্লালকে। 

মামলার অপর আসামিরা হলেন– মো. সিরাজ, বাবুল বন্দুকসী, থানা যুবদলের সদস্য সচিব লুৎফর রহমান, সাইফুল ইসলাম জমাদার, কাবাদ হোসেন, সুজন, রাকিবুল ইসলাম শিহাব ওরফে গোল্ডেন রাকিব, সুমন, জুয়েল, সোহেল, হৃদয়, রশিদ, সিয়াম, লিটন দর্জি, সোহেল (২), পারভেজ, বিল্লাল ও ছাত্তার। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনাসহ বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে সোমবার রাতেই ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা দ্রুতই বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে সোমবার রাতে মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের সামনে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেনকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। 

নিহতের ছোট ভাই ছাত্রদলের সাবেক নেতা হেলাল সাদী বলেন, রমনা থানা যুবদলের নেতা দিদারুল ইসলাম বাবুর পূর্ব পরিকল্পনা ছিল, মহানগরের এক প্রভাবশালী নেতাও এর সঙ্গে জড়িত। বিদ্যুৎ বিল, ময়লার বিল– মানে চাঁদাবাজি নিয়ে যে সমস্যাটা, স্থানীয় এমপির বাসায় মিটমাট করে দেওয়া হয়েছিল। তারপরও বাবু মানেননি। সোমবার রাতে তিনি আমার বড় ভাইকে ডেকেছেন। যাওয়ার পর এক কথায় দুই কথায় সরাসরি ভাইয়ের হার্ট বরাবর ছুরিকাঘাত করে। এক আঘাতেই শেষ। মানে হত্যার উদ্দেশ্যেই ডেকেছিল। এর আগে ভাই মিটমাট করে দিয়েছিল যে, এখানে এগুলা (চাঁদাবাজি) চলবে না। আর একটা ছেলে এগুলা করত, তাকে বলেছিল এক মাস যেন মার্কেটে না আসে। সেখান থেকে মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়া হতো।

এজাহারে যা বলা হয়েছে
বাদী এজাহারে বলেছেন, আমার স্বামীর ভাগনে মোবারক হোসেন আকাশ আনারকলি মার্কেটে ব্যবসা করেন। আসামি দিদারুল ইসলাম বাবু আনারকলি মার্কেটের ফুটপাত ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিল ও ময়লা বিলের নামে চাঁদা তোলেন। ফুটপাতে নতুন কোন দোকান বসবে, ফুটপাতে কোন লোক ব্যবসা করবে বা ব্যবসা ছাড়বে সেসব নিয়ন্ত্রণ করেন এজাহারে বর্ণিত আসামিরা। এ নিয়ে স্থানীয় নিরীহ লোকজন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আনারকলি মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার বিষয় নিয়ে আসামি বাবুর সঙ্গে আমার ভাগনে আকাশের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আকাশের বিষয়ে সালিশের কথা বলে আমার স্বামী বিল্লাল হোসেনকে আনারকলি মার্কেটের পেছনে ডেকে নেন বাবু। সেখানে তিনিসহ এজাহারে বর্ণিত অপর আসামিরা রাত আনুমানিক পৌনে ৮টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীর ওপর আক্রমণ করে। এলোপাতারি কিল-ঘুসি এবং হকিস্টিক দিয়ে মারপিট করতে থাকিলে আমার স্বামী ঘটনাস্থলে আহত অবস্থায় পড়ে যান। তখন আসামিরা আমার স্বামীর হাত–পা চেপে ধরে বলে যে, শালাকে জানে মেরে ফেল। এই হুকুম পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিয়াজুল তাহার হাতে থাকা ধারালো ছোরা দিয়ে আমার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে বুকে আঘাত করেন। 

আরও পড়ুন

×