ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

রায়েরবাজারে জুলাই শহীদদের কবরে স্বজনের শ্রদ্ধা

শহীদদের কবর সংরক্ষণের দাবি

রায়েরবাজারে জুলাই  শহীদদের কবরে স্বজনের শ্রদ্ধা
×

রাজধানীর রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ-সংলগ্ন কবরস্থানে গতকাল শুক্রবার জুলাই শহীদদের গণকবরে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাবৃন্দ’ এর আয়োজন করে সংগৃহীত

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন স্বজনরা। গতকাল শুক্রবার সেখানে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাবৃন্দ’ ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

শ্রদ্ধা জানাতে এসে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মো. আসাদুল্লাহর স্ত্রী ফারজানা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীকে বেওয়ারিশ হিসেবে এখানে দাফন করা হয়েছে। ছয় মাস আগে তাঁর কবর শনাক্ত করা হয়। কিন্তু বৃষ্টিতে কবরটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমার স্বামীর শেষ চিহ্নটুকু সংরক্ষণ করা হোক। আমাদের একটা ছোট মেয়ে আছে। বড় হয়ে সে যেন তাঁর বাবার কবরটা দেখার সুযোগ পায়।’
ফারজানার অভিযোগ, কবর শনাক্ত করা হলেও সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। টানা বৃষ্টিতে কবরগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিন পর কবরের কোনো চিহ্নই থাকবে না। সরকারের কাছে তাঁর দাবি, জুলাইয়ের শহীদদের কবর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক।

শহীদ সোহেল রানার মা রাশেদা বেগম বলেন, ‘দুই বছর হয়ে গেল। এখনও খুনিদের বিচার হলো না। আমি বেঁচে থাকতে বিচার দেখে যেতে চাই। দুনিয়ায় আর কিছু চাই না।’
শহীদ রফিকুল ইসলামের বোন জাহেদা করিম বলেন, ‘আমার ভাইটাকে আর কোনোদিন আদর করতে পারব না।’
দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নিয়ে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘শহীদদের কবর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, নামফলকও সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। শহীদদের প্রাপ্য সম্মান না দিলে ভবিষ্যতে কোনো সংকটে মানুষ রাজপথে নামবে না।’

অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ ও আহতদের স্বজনরা বক্তব্য দেন। তারা শহীদদের কবর সংরক্ষণ, যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে বহু মানুষ নিখোঁজ হন। তাদের অনেকের শেষ ঠিকানা হয় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার কবরস্থানে। অজ্ঞাত পরিচয়ে তাদের সে সময় দাফন করা হয়। 
আন্দোলনের পর প্রাণ হারানো সেসব স্বজনের খোঁজে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে দেখা যায় পরিবারের সদস্যদের। সে সময় তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অজ্ঞাত শহীদদের পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ নেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর বিশেষ প্রস্তুতি শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে অজ্ঞাত শহীদদের পরিচয় শনাক্তে লাশ উত্তোলন শুরু করে সিআইডি। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবল-বিঞ্জ দুই দিনের কর্মশালার মাধ্যমে সিআইডি ফরেনসিক, ডিএনএ এবং মেডিকেল টিমকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সহায়তায় এবং মিনেসোটা প্রোটোকল অনুসারে আরেক আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. লুইস ফন্ডেব্রিডারের নেতৃত্বে মৃতদেহ উত্তোলন এবং শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয়। এভাবে কিছু মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়। 
পরে দীর্ঘ দেড় বছর পর স্বজনদের মরদেহের খোঁজ পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।

আরও পড়ুন

×