বৈষম্যের অভিযোগে শেকৃবির নবীনবরণ অনুষ্ঠান বর্জন ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠান বর্জন করে ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। ছবি-সমকাল
শেকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬ | ২১:৩৪
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শুধু ছাত্রদলের নেতাদের বক্তব্য ও মঞ্চে বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এমন অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন।
রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও সিন্ডিকেট সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপউপাচার্য, ট্রেজারারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পূর্ববর্তী কমিটির এক নেতাও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
নবীনবরণ শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠান, এটি কোনো দলীয় কর্মসূচি নয় এমন কথা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গঠনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে বিভিন্ন মত ও সংগঠনের শিক্ষার্থীরা যে ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। প্রশাসন যদি বৈষম্যমূলক অবস্থান গ্রহণ করে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সকল ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থীর জন্য সমান মর্যাদা, সমান সুযোগ এবং বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার দাবি জানাই।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বৈষম্যের অবসান। কিন্তু এখানে আমরা উল্টো একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে বিশেষ সুযোগ পেতে দেখেছি। যদি কোনো ছাত্রসংগঠনকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সেটি সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করা উচিত। কেবল একটি সংগঠনকে সুযোগ দেওয়া দৃশ্যত বৈষম্যমূলক। এই বৈষম্যের প্রতিবাদেই আমরা অনুষ্ঠান বর্জন করেছি।
ছাত্রদল ব্যতীত অন্য ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রক্টর বলেন, এটি কোনো বৈষম্যের সিদ্ধান্ত ছিল না; সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণেই এমনটি হয়েছে। তবে অনুষ্ঠানে যেভাবে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে, সেটি অনাকাঙ্ক্ষিত। ভবিষ্যতে আমরা সব পক্ষকে নিয়ে আরও সমন্বয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠান আয়োজনের চেষ্টা করব।