ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উত্তর বাড্ডায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ

স্বামী, ভাগনির পর চলে গেলেন ফাহিমাও

স্বামী, ভাগনির পর চলে গেলেন ফাহিমাও
×

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ | ০১:১২

মাত্র দেড় মাস আগের কথা। নতুন সংসার ঘিরে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে স্বামী ও আট বছরের ছোট্ট ভাগনিকে নিয়ে রাজধানীতে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফাহিমা আক্তার। ভেবেছিলেন, ইট-পাথরের শহরে নিজেদের মেধা আর পরিশ্রমে ভালোবাসার একটি সুন্দর ঠিকানা গড়ে তুলবেন। কিন্তু গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একে একে তিনজনই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন।  

গত মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার নতুনবাজারের ১০০ ফিট সড়ক এলাকার একটি ৬ তলা ভবনের নিচতলায় জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে স্বামী আনোয়ার হোসেন শাহিন, ভাগনি হাফসা আক্তার ও ফাহিমা গুরুতর দগ্ধ হন। তাঁদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। শরীরের প্রায় ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হওয়া ফাহিমা কয়েক দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সন্ধ্যায় মারা যান। এর আগে শুক্রবার সকালে আনোয়ার এবং বৃহস্পতিবার রাতে হাফসা মারা যায়। আনোয়ারের শরীরের ৫০ শতাংশ ও হাফসার ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। 

পরিবারের তিনজনের এমন মর্মান্তিক বিদায়ে কুমিল্লার দেবীদ্বারে তাদের পরিবারে মাতম চলছে। নিহত ফাহিমা উপজেলার গোমতী আবাসিক এলাকার গোলাম হোসেনের ছোট মেয়ে। তিনি জাফরগঞ্জ মীর আব্দুল গফুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে অনার্সে ভর্তি হয়েছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কেক তৈরি ও পোশাক বিক্রিসহ নানা পণ্যের অনলাইন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চেয়েছিলেন। 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর দেবিদ্বারের বাঙ্গুরী গ্রামের আনোয়ার হোসেনকে ভালোবেসে বিয়ে করেন ফাহিমা। দেড় মাস আগে নতুনবাজার এলাকার ওই ভবনের নিচতলায় বাসা ভাড়া নেন। তাদের সাথে ঢাকায় পড়তে এসেছিল ভাগনি হাফসা। গত ২১ জুলাই রাত ৩টার দিকে হঠাৎ বাসার নিচতলায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিনজনই দগ্ধ হন।

মৃত্যুর পর শুক্রবার শিশু হাফসাকে দাফন করা হয় তার বাবার বাড়ি দেবিদ্বারের সুলতানপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে। আনোয়ারকে দাফন করা হয় বাঙ্গুরী গ্রামে তার পারিবারিক কবরস্থানে। গতকাল রোববার সকালে স্বামীর পাশেই দাফন হয় ফাহিমাকে।

মেয়ে ফাহিমাকে হারিয়ে গোলাম হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাসায় ওঠার পরপরই আমরা বাড়ির মালিককে গ্যাস লিকেজের বিষয়টি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের কথায় কোনো গুরুত্ব দেননি। সময়মতো একটু ব্যবস্থা নিলে আজ আমার মাটা বেঁচে থাকত। অবহেলার কারণে আমার মেয়েকে হারালাম, আমি এই অবহেলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘মেয়ের সাথে আমার বড় মেয়ের ঘরের নাতনি হাফসাও ঢাকায় গিয়েছিল। ওদের একটি সুন্দর ভবিষ্যতের আশা ছিল আমাদের। কিন্তু সামান্য একটা অবহেলা আর অসাবধানতায় এক নিমেষেই সব শেষ হয়ে গেল।’

উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য আবু হানিফ বলেন, আনোয়ার ও ফাহিমা দম্পতির মৃত্যুতে এলাকাবাসী শোকাহত। এভাবে একটি দম্পতি ও নিষ্পাপ শিশুর করুণ পরিণতি কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।

আরও পড়ুন

×